যুক্তরাষ্ট্রের বুকে ‘লিটল বাংলাদেশ’
যুক্তরাষ্ট্রের বুকে ছোট্ট বাংলাদেশ, নাম ‘লিটল বাংলাদেশ’। বিশ্বের কোথাও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিতে এমন নামকরণের নজির নেই। লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের জন্য এমন সম্মান আদায় করে ইতিহাস গড়েছেন সেখানকার প্রবাসী বাঙালিরা।
এই দৃশ্য জানান দেয় যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলাদেশিদের অবস্থান। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের রাজপথে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তুলে ধরেছেন তাদের শত জনমের লালিত দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি মার্কিন মুল্লুক নাকি বাংলাদেশ।
রাষ্ট্রীয়ভাবে লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি এলাকার নামকরণ করা হয় ‘লিটল বাংলাদেশ’। শহরের প্রাণকেন্দ্রে আলেকজান্দ্রিয়া থেকে নিউ হ্যামশ্যায়ার পর্যন্ত বাংলাদেশি অধ্যুষিত পুরো এলাকাকে ‘লিটল বাংলাদেশ’ হিসেবে দেয়া হয় সরকারি স্বীকৃতি।
স্থানীয় একজন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে লিটন বাংলাদেশ নামের সাইন দেখে খুবই ভালো লাগছে। গর্বে আমাদের বুক ভরে গেছে।
লিটল বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী মশহুরুল হুদা বলেন, লিটল বাংলাদেশ আমেরিকার বুকে একটি মাইলস্টন। বিশ্বের কোথাও কমিউনিটি মানুষের জন্য অনুমোদিত লিটল বাংলাদেশ নাই।
২০০৮ সালের ২৯ জুলাই এ নামকরণের আবেদন করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এরপর দীর্ঘ শুনানি ও আইনি লড়াই শেষে ২০১০ সালের ২০ আগস্ট তা মঞ্জুর করে স্থানীয় প্রশাসন। ঘোষণার পরপরই সিটি অব লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের ওই এলাকার সড়ক ও প্রবেশ মুখে লাগিয়ে দেয়া হয় ‘লিটল বাংলাদেশ’ অফিসিয়াল সাইন।
লিটল বাংলাদেশকে ঘিরে সেখানে দিনে দিনে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশিদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এই শহরেই নিজস্ব ভূমিতে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা উড়াচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস ভবন। এ যেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বুকে একখন্ড বাংলাদেশ।
মার্কিন নাগরিকত্বধারী প্রবাসী বাংলাদেশিরা সদ্য সমাপ্ত মার্কিন নির্বাচনে এই এলাকা থেকেই প্রথমবারের মত বাংলায় মুদ্রিত ব্যালটে ভোট দিয়েছিলেন। তৈরি হয়েছে জাতীয় স্মৃতি সৌধ ম্যুরাল। লিটল বাংলাদেশকে ঘিরে প্রবাসীরা এখন স্বপ্ন দেখছে শহীদ মিনার ও বৃহৎ পরিসরে বাংলাদেশ কমিউনিটি কমপ্লেক্স নির্মাণের। এভাবেই এগিয়ে চলছে স্বপ্নের সম্ভাবনাময় এক যাত্রা।




