হাড়ি-পাতিল ও বালতি-মগ নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েন তারা
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় আজ রোববার তেলবাহী ট্রেনের চারটি ট্যাংকার লাইনচ্যুত হওয়ার পর সেগুলো থেকে তেল গড়িয়ে পড়তে থাকে। গড়িয়ে পড়া এসব তেল সংগ্রহ করতে বালতি, মগ ও বিভিন্ন রকমের পাত্র নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েন স্থানীয়রা। দুপুর ১২টার দিকে শাহজীবাজার রেলস্টেশনে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, তেলবাহী ট্যাংকার লাইনচ্যুত হওয়ার পর থেকে জ্বালানি তেল মাটিতে পড়ে ভেসে যেতে থাকে। স্থানীয় লোকজন হাড়ি, পাতিল, বালতি, মগ ও জগ নিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করেন। শত শত মানুষের মধ্যে চলে তেল নেওয়ার প্রতিযোগিতা।
তেল সংগ্রহকারী স্থানীয় কয়েকজন জানান, তেল পড়ে তো নষ্টই হচ্ছে। মানুষ নিলে ক্ষতি কী। এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মুশফিক উদ্দিন বলেন, প্রতি ট্যাংকারে ১০ হাজার লিটার ডিজেল ছিল। সে হিসাবে চারটি ট্যাংকারে ৪০ হাজার লিটার ডিজেল ছিল। দুর্ঘটনার পর যে যেভাবে পারছে, তেল নিয়ে যাচ্ছে।
ট্যাংকার উদ্ধারের কাজে নিয়োজিত শেখ মো. হাসান জানান, তেলবাহী ট্যাংকারে প্রচুর পরিমাণ ডিজেল মজুত ছিল। ট্যাংকার উল্টে যাওয়ায় তেল মাটিতে ভেসে যাচ্ছে। এ সুযোগে আশপাশের শত শত নারী–পুরুষ তেল সংগ্রহ করছেন। তাদের কারণে কাজও দ্রুত শেষ করা যাচ্ছে না।
শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী একটি তেলবাহী ট্রেন শাহজীবাজার রেলস্টেশনের কাছে পৌঁছালে ট্রেনের ইঞ্জিন ও টারটি ট্যাংকার লাইনচ্যুত হয়। এতে দুপুর ১২টার পর থেকে ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। এ দুর্ঘটনার কারণে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এবং ঢাকাগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ভানুগাছ রেলস্টেশনে আটকা পড়েছে।




