হাইকোর্টে যথাসময়ে পৌঁছাচ্ছে মিন্নিসহ ৬ আ’সামির ডে’থ রেফারেন্স
বরগুনার আ’লোচিত রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয় আ’সামির মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের রা’য়ের মধ্য দিয়ে বি’চারিক আ’দালতের প্র’ক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন উচ্চ আ’দালত তথা হাইকোর্টে ডে’থ রেফারেন্স পাঠানোর পর এ বিষয়ে আপিল আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চ আ’দালতে আপিল করতে হবে দ’ণ্ডি’তদের।
মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রা’প্ত আ’সামিদের ডে’থ রেফারেন্সের জন্য রা’য়সহ মা’মলার যাবতীয় নথিপত্র রোববার (৪ অক্টোবর) উচ্চ আদালতে পৌঁছতে পারে বলে জানা গেছে। বরগুনা কোর্ট সূত্র জানিয়েছে, মিন্নিসহ ৬ আ’সামির ডে’থ রেফারেন্স যথাসময়ে হাইকোর্টে পৌঁছাবে।
নিয়ম অনুযায়ী, মৃ’ত্যুদ’ণ্ড অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মা’মলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আ’দালতে পাঠানো হয়। রায় হাইকোর্টে আসার পর আ’সামিরা সাত দিনের মধ্যে আপিল আবেদন করতে পারবেন।
মূলত কোনো আ’সামির মৃ’ত্যুদ’ণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডে’থ রেফারেন্স মা’মলা হিসেবে পরিচিত। তবে দ’ণ্ডিত’রা বি’চারিক আ’দালতের রায়ের বি’রুদ্ধে জে’ল আপিল ও আপিলের সুযোগ পাবেন।
ডে’থ রেফারেন্স এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রা’প্ত আ’সামি নিজ থেকে আপিল না করলেও আইনের বিধান অনুসারে ডে’থ রেফারেন্সের ওপর উচ্চ আ’দালতে শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়। বি’চারিক আ’দালতের রায় পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে উচ্চ আদালত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আ’দালত সূত্র জানায়, মৃ’ত্যুদণ্ডা’দেশ পাওয়া আ’সামিদের ডে’থ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ যাবতীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে।
আ’ইনজীবীরা জানান, ফৌজদারি মা’মলায় বিচা’রিক আ’দালত যখন আ’সামিদের মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দেন, তখন ওই দণ্ড কার্যকরের জন্য হা’ইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট বি’চারিক আ’দালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক মা’মলার সব নথি হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন, যা ডে’থ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত।
ওই নথি আসার পর হাইকোর্টের ডে’থ রেফারেন্স শাখা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট মা’মলার পেপারবুক প্রস্তুত করে। এরপর মা’মলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হয় বলে ধরে নেয়া হয়। তবে আ’লোচিত কোনো কোনো মা’মলার ক্ষেত্রে প্রধান বি’চারপতির নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক তৈরি করা হয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এ মা’মলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ আ’সামির মধ্যে ছয়জনকে মৃ’ত্যুদণ্ডা’দেশের পাশাপাশি প্রত্যেক আ’সামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জ’রিমানা করেন। বাকি চারজনকে খা’লাস দেয়া হয়।
রায়ে বলা হয়, মৃ’ত্যুদ’ণ্ড’প্রাপ্ত আ’সামিরা চাইলে আদেশের পর সাত কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবে। রায়ে আরও বলা হয়, মৃ’ত্যুদ’ণ্ডাদে’শ অনুমোদনের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান মতে এ রায় ও ‘দ’ণ্ডাদে’শসহ নথি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো হোক।
মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রা’প্ত আ’সামিরা হলেন- মো. রাকিবুল হাসান রিফাত ওরফে রিফাত ফরাজী, আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বী আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজোয়ান আলী খাঁন হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান ও আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। খালাস পেয়েছেন মো. মুসা (পলাতক), রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন।






