আমিরাতের সঙ্গে চুক্তির পর আরো বেপরোয়া ইসরাইল
রোববার (৩০ আগস্ট) গাজা সীমান্তে নতুন প্রযুক্তির লেজার সিস্টেম স্থাপন করে ইসরাইলি পুলিশ। গাজা ভূখণ্ড থেকে যেকোনো হামলা প্রতিহত করতে এ লেজার স্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি ইসরাইলি বাহিনীর। লেজারটি সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের বিমান, ড্রোন, বেলুন বা অন্য কোন অপ্রত্যাশিত বস্তু সনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম বলে জানিয়েছে ইসরাইল।
ইসরাইলি পুলিশের মুখপাত্র মিকি রোজেনফিল্ড বলেন, গাজা ভূখণ্ড থেকে আমাদের ওপর নানা হুমকি রয়েছে। আমাদের নতুন এই লেজার সিস্টেম কোনো ধরনের প্রাণহানি ছাড়াই অপ্রত্যাশিত বস্তু ভূপাতিত করতে পারে।
এর আগে শনিবার গাজা ভূখণ্ডে আবারো বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। তাদের দাবি, গাজা থেকে হামলার জবাবেই ওই হামলা চালানো হয়। পরবর্তী সময়ে আরো হামলা চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
ইসরাইলি বাহিনীর এমন বেপরোয়া হয়ে ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে লেবাননের স্বশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইসরাইলি সেনা হত্যার মাধ্যমে তেলআবিবের আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে। ইরানপন্থি এই নেতার দাবি, গাজার মতো অন্যান্য সীমান্তেও লাগামহীন ইসরাইল।
হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, ইসরাইলকে বুঝতে হবে, যখন আমাদের একজন যোদ্ধাকে হত্যা করা হবে তখন তাদের এক সেনাকে হত্যার মাধ্যমে এর জবাব দেওয়া হবে। এ অঞ্চলে চলমান ইসরাইলি আগ্রাসন রুখতে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইল সফর করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা এবং হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা জ্যারদ কুশনার।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি দাবি করেন, আমিরাতের সঙ্গে ইসরাইলে চুক্তিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কুশনার বলেন, গত ১৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল এবং আমিরাতে মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তি সই হয়েছে। মূলত এর মাধ্যমেই এই অঞ্চলে শান্তির পথ সুগম হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সব পক্ষকে সহযোগিতা করতে হবে।
এসময় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, শান্তি প্রক্রিয়া স্থাপনে ফিলিস্তিনের মতামতের জন্য অপেক্ষা করলে অনন্তকালেও শান্তি স্থাপিত হবে না। তাই অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা এবং সমর্থন নিয়ে কুশনারের শান্তি পরিকল্পনা স্থাপনের দাবি জানান তিনি।




