ভ’য়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁ’দে পুলিশ সুপার, খোয়ালেন ৫ লাখ টাকা
ভ’য়ঙ্কর প্রতারণা। সরকার ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে ফাঁ’দে ফেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে গোলাম মোস্তফা আদর ও তার বাবা গোলাম মোহাম্মদ কালুর নেতৃত্বে একটি প্রতারক চক্র। বদলির কথা বলে খোদ রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেনের কাছ থেকে নিয়েছে ৫ লাখ টাকা। টাকা চাইতে গেলে উল্টো এসপির বিরুদ্ধে মা’মলাও করা হয়। খু’নের মা’মলারও আ’সামি এই বাবা ও ছেলে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি’র আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বদলির তদবীর করতে চান গোলাম মোস্তফা আদর। আস্থা অর্জনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতারক বাবা গোলাম মোহাম্মদ কালুর কিছু ছবি পাঠান।
মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডে শোনা যায় এসপি বেলায়েতকে আশ্বস্ত করে আদর বলেন, বদলির ব্যাপারে মন্ত্রীকে দিয়ে ফোন করানো হয়েছে। সবচেয়ে হাই লেভেলের তদবির হল আপনারটা। এর ওপর আর কোন তদবির নাই।
মন ভোলানো কথায় ধীরে ধীরে আদরের সঙ্গে সখ্য তৈরি হয় এসপি বেলায়েতের। হঠাৎ একদিন অসুস্থতার কথা বলে, ছবিগুলো পাঠিয়ে এসপির কাছে ১০ লাখ টাকা ধার চান। বদলির আশায় আর মানবিক কারণে ৫ লাখ টাকা দিয়েও দেন এসপি বেলায়েত। তার অভিযোগ, টাকা ফেরত চাইলে তাকে নানা বাহানায় ঘুরায় আদর। কখনও বলে লকডাউন চলছে। আবার কখনও ভিন্ন কথা। এক পর্যায়ে হু’মকি দেয়া শুরু করে- আপনার ফ্যামিলি ঢাকায় থাকে, আপনার বাচ্চারা ঢাকায় পড়াশোনা করে, আপনি কি বুঝেন না। আপনি নিরাপত্তা চান না? আপনি তো দূরে থাকেন। কি করবেন? আমি টাকা দিতে পারবো না।
টাকা ফেরত দেয়া তো দূরের কথা। উল্টো, টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এসপি বেলায়েতের বিরুদ্ধে মামলা করেন গোলাম মোস্তফা আদর। কৌশলে তার অভিযোগের তীর এসপির দিকে। এ ব্যাপারে আদরে বক্তব্য, উনি দাবি করছেন আমি এ বছর টাকা নিছি। এ বছর তো আমি অসুস্থই ছিলাম না। আর আদরের বাবা জানান, তারা ষড়যন্ত্রের শিকার।
ব্যাংক হিসাব দেখে আদরের কথার সত্যতা পাওয়া যায়নি। ১৬ মার্চ আদরই চেকের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা তোলেন এসপি বেলায়েতের অ্যাকাউন্ট থেকে। সে টাকা ফেরত না দিয়ে এসপি পরিবারকে নিয়ে অ’শ্লীল মন্তব্য আর নানা হু’মকি দেন আদর।
কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে সাপ। একের পর এক মিলছে বাবা-ছেলের প্রতারণার তথ্য। আদর ও তার বাবা খু’নের মা’মলারও আ’সামি। ২০১৫ সালে উত্তরা থেকে অ’পহরণ করে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে খু’ন করা হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আসিফ ইমরানকে। বিচার চাওয়ায় উল্টো ৩টি মা’মলা দিয়ে হয়রানি ও ভ’য়ভীতি দেখানো হয় এই আসিফের পরিবারকে। সন্তানকে খু’নের পরিবর্তে আ’সামিদের মৃত্যুদ’ণ্ডের দাবি করেন আসিফের মা। আদর ও তার বাবা সব সময় প্রতারণাসহ হ’ত্যাকা’ণ্ডের মতো অ’পরাধ করে বেড়ান বলে অভিযোগ আসিফের বাবার।
তবে, অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা ও তার বাবা গোলাম মোহাম্মদ কালু সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন। সূত্রঃ সময় টিভি




