335666

ঠান্ডা মাথায় মেজর সিনহাকে খু’ন করা হয়েছে: শিপ্রা (ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্ট : ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ফেইসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে হে’নস্তা করার প্রতিকার চেয়ে শিপ্রা দেবনাথ বলেছেন, একজন মানুষ হ’ত্যা’কে ‘ধামাচাপা দিতে’ টুঁটি চেপে ধরে তাকে আ’ত্মহ’ননের দিকে ঠেলে দিলে এদেশের তরুণ-তরুণীরা চুপ করে বসে থাকবে না।

কক্সবাজারে পুলিশের গু’লি’তে নি’হ’ত অসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের ‘ডকুমেন্টারি’ নির্মাণে সম্পৃক্ত শিপ্রা এখন র‌্যাবের নি’রাপ’ত্তায় থাকলেও তার ব্যক্তিগত নানা ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে ‘চরিত্রহননের’ চেষ্টা চলছে, যা নিয়ে তার পরিবারও হতাশা জানিয়েছে।

এই ঘটনায় জ’ড়িত’দের বি’চা’র চেয়ে ঢাকার স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শিপ্রা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাকে হে’ন’স্তায় জ’ড়িত’দের বি’রু’দ্ধে মা’মলা করারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সোমবার এক ভিডিও বার্তায় শিপ্রা দেবনাথ বলেন, “একজন মানুষ হ’ত্যা’কে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আমার টুঁটি চেপে ধরে আমাকে আ’ত্মহননের দিকে ঠেলে দিলে লাখো তরুণ-তরুণী এর প্র’তিশোধ নেওয়া থেকে নিশ্চয়ই বিরত থাকবে না।

“আমি একজন ছাত্রী, পড়াশুনার পাশাপশি কাজ করি। একটি স্বাধীন দেশে একজন নারীর কারও অধিকার ক্ষুণ্ন না করে নিজের পছন্দমতো বেঁ’চে থাকার অধিকার কি নেই?”

শিপ্রা বলেন, “গত কিছু দিন ধরে আমার একান্ত কিছু ছবি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় এডিট করে, ট্রেইলার করে অথবা আমার বিভিন্ন প্রজেক্ট থেকে নিয়ে বিভিন্নভাবে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে প্রকাশ করা হচ্ছে।”

এজন্য সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে দায়ী করেননি শিপ্রা। তবে পুলিশ বাহিনীর কেউ এই কাজ করছেন বলে সন্দেহ তার।

শিপ্রা বলেন, “মেজর সিনহা হ’ত্যাকা’ণ্ডের পর পুলিশ আমাদের রিসোর্টে এসে দুটি মনিটর, ল্যাপটপ, ডেক্সটপ, ক্যামেরা, লেন্স, তিনটি হার্ডড্রাইভ এবং আমাদের ফোন ডিভাইস সব নিয়ে যায়, জব্দ তালিকায় যার কোনোটিরই উল্লেখ নেই। আমি জানি না, কীভাবে কার কাছে সেগুলো ফেরত চাইব।

“আমাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে, ডিভাইস থেকে সেই ছবি চু’রি করে কিছু বি’কৃত মস্তিষ্কের দায়িত্বশীল অফিসাররাই ফেইসবুকে সেই সব শেয়ার করেছেন।”
এই তরুণী বলেন, “আমার ব্যক্তিজীবন যারা অসহনীয় করে তুলেছেন বিভিন্ন ছবি দিয়ে, আমি প্রত্যেকের বি’রুদ্ধে ডিজিটাল নি’রাপত্তা আ’ইনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কথা দিলাম।”

কবে কোথায় মা’মলা করা হবে- জানতে চাইলে শিপ্রা বলেন, “দেখা যাক, মা’মলা যখন করব তখন সবাই জানতে পারবেন, আদালতে বা কক্সবাজার থানায় মা’মলা করা হবে।”

মাম’লায় আ’সামি কাদের করা হবে সে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ছবিগুলো বিকৃত করে যারা আপলোড করেছেন, তারাই আ’সামি হবেন।”

সিনহার স্বপ্নটুকু বাঁ’চাতে চাই: শিপ্রা : নারীর নি’রাপত্তায় প্রধানমন্ত্রীকে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিপ্রা বলেন, “আমি মনে করি, আমার চরিত্রহননের চেষ্টার মাধ্যমে এই দেশে (ঘরের) বাইরে কাজ করা প্রতিটি নারীর জন্য নিগৃহীত ও অ’পমান’জনক আচরণ এটি।”

অ’পপ্র’চারে জ’ড়ি’ত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি সমস্ত পুলিশ বাহিনীকে দায়ী করছি না, এখানে অনেক সৎ অফিসার রয়েছেন। কিন্তু এইরূপ হ’ত্যা’কারী কর্মকর্তা এবং একজন নারীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিকৃতভাবে উপস্থাপনকারী অসুস্থ মা’নসিকতার পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে আ’ইনে’র আওয়তায় না আনা হলে এই ক’ল’ঙ্কের দায়ভার সমস্ত বাহিনীর ওপর ন্যস্ত হবে।”

‘ভালো নেই’ শিপ্রা ও তার পরিবার : ঢাকার স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজের অষ্টম সেমিস্টারের ছাত্রী শিপ্রা দেবনাথের সঙ্গে সিনহা মো. রাশেদ খানের পরিচয় দেড় বছর আগে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওড়ে ঘুরতে গিয়ে। পরিচয় থেকে বন্ধুত্বের এক পর্যায়ে ভ্রমণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন তারা।

সেই পরিকল্পনা থেকে ‘জাস্ট গো’ নামে ইউটিউব চ্যানেল ও ফেইসবুক পেইজ খুলে ডকুমেন্টারি নির্মাণ শুরু করেন। শুটিং ও এডিটিংয়ে সহায়তার জন্য সহপাঠী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও তাহসিন রিফাত নূরকে সঙ্গে নিয়ে চারজনের দল হয়ে জুলাইয়ের শুরুর দিকে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন শিপ্রারা।

সেখানে কাজ চলার মধ্যে গত ৩১ জুলাই টেকনাফের একটি ত’ল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গু’লি’তে সিনহা রাশেদ খান নি’হ’ত হওয়ার পর শিপ্রা ও সিফাতকেও গ্রে’প্তা’র করা হয়েছিল। পরে এই মা’মলা’য় টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ পুলিশের সাত সদস্য গ্রে’প্তা’র হওয়ার পর জা’মিনে ছাড়া পান তারা।

এরপর সিনহা হ’ত্যাকা’ণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে তাদের তৈরি করা একটি ডকুমেন্টারি ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিও তাদের প্রকাশিত না হওয়ায় নিজেদের ‘স্বপ্নকে’ টিকিয়ে রাখতে ‘জাস্ট গো’-তে ডকুমেন্টারি প্রকাশের ঘোষণা দিয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেন শিপ্রা। এরপরই শুরু হয় তাকে নিয়ে নানা ধরনের ‘নোংরা’ প্রচা’রণা।
সিনহা হ’ত্যাকা’ণ্ডের জন্য ওসি প্রদীপ কুমার এবং বাহারছড়া পুলিশ ফাঁ’ড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছেন শিপ্রা।

ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, “পুলিশ বাহিনী আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। ৩১ জুলাই রাতে এই বাহিনীর কু’খ্যাত ওসি প্রদীপ ও তার সহচর ইন্সপেক্টর লিয়াকত ‘ঠাণ্ডা মাথায়’ মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গু’লি করে হ’ত্যা করেন।”

ওই রাতের পরবর্তী ঘটনাবলীর বর্ণনায় শিপ্রা বলেন, “ঘটনার দিন ৩১ জুলাই প্রায় রাত ১২টার দিকে ১০-১২ জন পুলিশ আমাদের রিসোর্টে (নীলিমা রিসোর্ট) প্রবেশ করে। কোনো সার্চ ওয়ারেন্ট, মহিলা পুলিশ ছাড়াই তারা সেখানে আসেন এবং আমাকে সময় না দিয়ে, মোটামুটি আমার অনুমতি ছাড়াই আমাদের কটেজে ত’ল্লাশি শুরু করেন।

“রাত আনুমানিক আড়াইটার পর সিভিল ড্রেসে কিছু অফিসার আসলে, আমি তাদের প্রশ্নে করি। তখন তারা জানায়, ইয়েস সিনহা ইজ ডেড। এরপর রাত ৪টার দিকে আমাকে ও তাহসিন নূরকে কোনো প্রকার ইঙ্গিত ছাড়াই রামু থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।”

পরদিন কক্সবাজার কা’রাগারে নেওয়ার পর ‘মা’দক মাম’লায় গ্রে’প্তার হওয়ার কথা জানতে পারেন’ বলে জানান শিপ্রা।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমি মেজর সিনহা হ’ত্যার বি’চার চাই। আমার ও আমার সহকর্মীদের চরিত্র হননের চেষ্টাকারীদের বি’চার চাই। আ’ইনশৃ’ঙ্খলা বাহিনীর সুনজর চাই।” বিডি নিউজ ও আমাদের সময়.কম।

ad

পাঠকের মতামত