ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা: জরিমানা দিলেন ৬০ কোটি টাকা
নিউজ ডেস্ক।। বাজার থেকে পণ্য কিনে যেন কোন ক্রেতা প্রতারণার শিকার না হন এমনকি নিজের অজান্তেও ভোক্তা যেন স্বাস্থ্যঝুঁ’কির মুখে না পড়েন সেজন্য কয়েক বছর ধরেই বাজার তদারকিতে তৎপর সরকারের বিভিন্ন সংস্থা।
এসব বাজার অভিযানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের যেমন সচেতন করা হয়, তেমনি ক্রেতার স্বার্থ বিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হলে জরিমানাও আদায় করা হয় প্রতারক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে।
এসব অভিযানেই পণ্যের মোড়ক ব্যবহার না করা, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম রাখা ও ভেজাল পণ্য বিক্রি করাসহ ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘন করার মতো অপরাধ করে ৫৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এই জরিমানা আদায় করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ২০০৯ সালে জুলাই থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১১ বছরে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন বাজারে ৩৩ হাজার ৬৮৭টি অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা আদায় করেছে সংস্থাটি। ভোক্তাকে নিয়ম মতো পণ্য বুঝে না দেয়ার অভিযোগে এসব অভিযানে দোষী সাবাস্ত হয়েছে ৮৩ হাজার ৯১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
বছর ভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ১৪ কোটি ৭৮ লাখ ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা দেয় ১৯ হাজার ২৩৪টি প্রতিষ্ঠান। ওই বছরে বাজারে ৭ হাজার ৩৪৩টি অভিযান চালানো হয়। এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এর প্রায় অর্ধেক অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয় ১২ কোটি ৫২ লাখ ৮১ হাজার টাকা। ওই ১২ মাসে ৪ হাজার ৭৭টি অভিযানে দণ্ডের মুখে পড়ে ১১ হাজার ৭১৮টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। গেল অর্থবছরে (২০১৯-২০) এ যাবৎকালের সর্ব সংখ্যক বাজার অভিযান পরিচালনা করে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়। ১২ মাসে ১২ হাজার ৩৫১টি বাজার অভিযানে ১১ কোটি ৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা দেয় ২২ হাজার ২৪৪টি প্রতিষ্ঠান।
এছাড়া, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৭টি বাজার অভিযানে ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ২০১০-১১ অর্থবছরে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা জরিমানা দেয় ১ হাজার ৫১২টি প্রতিষ্ঠান। ওই বছর অভিযান চালানো হয় ১৭৪টি। ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩৭১টি বাজার অভিযানে ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘন করার অভিযোগে ২ হাজার ৬৫৫টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২ কোটি ৬৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫৪০টি অভিযানে ২ কোটি ০৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে সংস্থাটি। ওই বছর দণ্ডিত হয় ২ হাজার ৮৯৫টি প্রতিষ্ঠান। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৭২১টি অভিযানে ২৮৪৪টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয় ১ কোটি ৭৫ হাজার ২৫ হাজার টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় ৩ হাজার ২৪টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। অভিযান চালানো হয় ৮৪১টি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে অভিযান চালানো হয় ১ হাজার ৩৯৪টি, এসব অভিযানে ৪ হাজার ৮৬৫টি প্রতিষ্ঠান জরিমানা দেয় ৩ কোটি ১১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬ কোটি ২৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জরিমানা দেয় ৯ হাজার ৩০৬টি প্রতিষ্ঠান। ৩ হাজার ৪৩৭টি বাজার অভিযানে ওই টাকা আদায় করা হয়। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ১ মাসেই ২ হাজার ৪৩১টি বাজার অভিযানে আইন অমান্যের অভিযোগে ৩ হাজার ৫৬৩টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১ কোটি ৫২ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
ভোক্তা অধিকার আইনের বিভিন্ন ধারায় এই জরিমানা আদায় করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১৯ কোটি ৮৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে অবৈধভাবে পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের অপরাধে (ধারা-৪৩)। ২৩ হাজার ৪০১টি প্রতিষ্ঠান এই জরিমানা দিয়েছে। এরপর পণ্যের মোড়ক ব্যবহার না করার অপরাধে (ধারা-৩৭) ১৯ হাজার ৩৭৯টি প্রতিষ্ঠান জরিমানা দিয়েছে ১১ কোটি ৬১ লাখ ২৮ হাজার। তৃতীয় সর্বোচ্চ জরিমানা আদায় করা হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বা ওষুধ বিক্রির অপরাধে (ধারা-৫১)। এই ধারা ১৭ হাজার ৫১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জরিমানা দিয়েছে ৯ কোটি ৪০ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
তদারকিমূলক নিয়মিত এই বাজার অভিযানে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পণ্য কেনাবেচার সময় আরও সজাগ, সচেতন করাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। উৎস: সময়নিউজ।






