335079

আমাদের ভ্যাকসিন নিয়ে সব প্রশ্ন ভিত্তিহীন: রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। রাশিয়ার করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন যথেষ্ট পরীক্ষিত এবং কার্যকারী। এর উপযোগিতা নিয়ে তারাই সন্দেহ প্রকাশ করছে, যারা ভ্যাকসিন তৈরির প্রতিযোগিতায় হঠাৎ করে পিছিয়ে পড়েছে। করোনার ভ্যাকসিন স্পুটনিক-ভি (Sputnik-V) নিয়ে যারা সন্দেহ প্রকাশ করেছে, তাঁদের এই ভাষাতেই পাল্টা দিল রাশিয়া।

গতকাল মঙ্গলবার রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভ্যাকসিন অনুমোদনের ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই গবেষণাটি নিয়ে আশঙ্কার করা বলতে শুরু করেন বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, রাশিয়া খুব তড়িঘড়ি করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। গবেষণার তথ্য নিয়েও যথেষ্ট প্রশ্ন আছে।

যেসব গবেষক সমালোচনা করেছেন তাদের অধিকাংশই জার্মানি, ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। তবে তাদের এসব দাবি ভিত্তিহীন উল্লেখ করে মিখাইল বলেন, ভ্যাকসিন আবিষ্কারের প্রতিযোগিতায় আমাদের বৈদেশিক সহযোগীরা হেরে গেছে। এখন তারা যেসব কথা বলছেন তার সবই ভিত্তিহীন।

তিনি বলেন, অনুমোদিত এই ভ্যাকসিন শিগগিরই এসে পড়বে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই ভ্যাকসিনের প্রথম চালান পাওয়া যাবে। প্রথমে রাশিয়ার চিকিৎসকদের ওপর এটি প্রয়োগ করা হবে। অক্টোবর থেকে আরো বৃহৎ পর্যায়ে এর উৎপাদন শুরু হবে।

মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ডব্লিউএইচও থেকেও রাশিয়ান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এই ভ্যাকসিনটির তথ্য পর্যালোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে ডব্লিউএইচও ৬টি ভ্যাকসিন গবেষণা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। সবগুলো গবেষণাই শেষধাপে রয়েছে। রাশিয়ার গবেষণাটি এর মধ্যে ছিলো না। তাই তারা সেখানে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া কী? : রাশিয়ার ভ্যাকসিন আবিষ্কারকে সংশয়ের চোখে দেখছেন ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। জার্মান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেন স্পাহনের দাবি, এই ভ্যাকসিন সঠিকভাবে টেস্ট করা হয়নি। লাখে লাখে এর প্রয়োগ বি’পদজ্জ’নক প্রমাণিত হতে পারে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোকেও যাচাই করা হয়নি। এ কারণে অনেকের মৃ’ত্যু হতে পারে।

তিনি বলেন, কে প্রথমে ভ্যাকসিনের আবিষ্কার করলো তা মোটেও মূখ্য হতে পারে না। সবার এখন নিরাপদ ও কার্যকর একটি ভ্যাকসিনের প্রয়োজন।

একই মতামত দিয়েছেন ফ্রান্সের গবেষক ইসাবেল ইমবার্ট। তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত তাদের মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফল জানি না। এই ভ্যাকসিন কতটুকু নি’রাপদ তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট কার্যালয় হোয়াইট হাউসের করোনা টাস্কফোর্সের সদস্য এন্থোনি ফুসিও এই গবেষণার তথ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আমি আশা করছি রাশিয়া সফলভাবেই করোনাভাইরাসের একটি ভ্যাকসিন বানিয়েছে। যা নি’রাপদ ও কার্যকর। কিন্তু আমার এ বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

এদিকে মস্কোভিত্তিক এসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অর্গানাইজেশন (একটো) রাশিয়ান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এই ভ্যাকসিনের অনুমোদন তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে মানবদেহে তৃতীয় ধাপে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষ হওয়ার পর এর অনুমোদন দেয়া উচিত।

এ প্রসঙ্গে একটো’র পরিচালক ভেতলানা জাভিডোভা বলেন, আমরা মানবদেহে প্রথম ও দ্বিতীয়ধাপে ৭৬ জনের ওপর ভ্যাকসিনটির প্রয়োগ করেছি। তার ওপর ভিত্তি করে ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেয়া একটু ঝুঁ’কিই বটে।

ইউরোপ ও আমেরিকার বিশেষজ্ঞরা সংশয় প্রকাশ করলেও বেশ কিছু রাষ্ট্র আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এরমধ্যে অন্যতম ফিলিপাইন। দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে নিজে সেই ভ্যাকসিন গ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস তারা যেই আবিষ্কার করেছে তা মানবতার জন্য কল্যানকর হবে।

ফিলিপাইনের পাশাপাশি ইসরায়েলও এই ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।

ad

পাঠকের মতামত