ওসি প্রদীপের ভ’য়াল থাবা সাংবাদিকের সুখের সংসারে!
নিউজ ডেস্ক।। কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস ও কক্সবাজারের এসপি মাসুদ হোসেনের রোষানলে স’র্বনা’শ নেমে এসেছে স্থানীয় সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা ও তার পরিবারে।
এসপি ও ওসির যোগসাজশে টেকনাফ থানায় ৩টি মা’দ’ক মা’ম’লা এবং কক্সবাজার সদর থানায় আরো ৩টি মা’দ’ক ও অ’স্ত্র মা’মলা’র আ’সা’মি হয়েছেন সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা। টেকনাফে মা’মলা’র পর ক্ষা’ন্ত হয়নি পুলিশ। ফরিদুলকে পুলিশ ঢাকা থেকে বিনা ওয়ারেন্টে আ’ট’ক করে কক্সবাজার সদর থানায় মা’ম’লা সাজিয়ে আ’সা’মি করে বলে অভি’যোগ তার পরিবারের সদস্যদের।
সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার স্ত্রী হাসিনা মোস্তফা বিডি২৪লাইভকে জানান, এসপির নির্দেশে ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে আমার স্বামীকে বিনা দোষে আ’টক করে প্রথমে ১০ লাখ টাকা দাবি করে পুলিশ। আমার স্বামী এসপি ও ওসির বি’রু’দ্ধে মা’দক সংশ্লিষ্ট, গ্রে’ফতা’র বাণিজ্য ও অ’নি’য়মের সাংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ করেন। এতেই ক্ষি’প্ত হন এসপি ও ওসি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফরিদুলের স্ত্রী হাসিনা মোস্তফা বলেন, স্বামীকে জামিনে মুক্ত করতে নিজের বাড়িঘর-জমিজমা সর্বস্ব বিক্রি করে দিয়েছি। এখন নিঃস্ব হয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি আমি ও আমাদের ২ ছেলে এবং এক মেয়ে। প্রধানমন্ত্রী আপনি ছাড়া আমাদের রক্ষা করার কেও নেই। আপনি বঙ্গবন্ধু কন্যা আপনিই পারবেন আমাদের রক্ষা করতে।
এলাকাবাসী, সহকর্মী সাংবাদিকদের সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারে ফরিদুল মোস্তফা খান একজন নিরপেক্ষ ও মেধাবী সাংবাদিক হিসাবে সুপরিচিত। কৈশর থেকেই লেখালেখিতে অভ্যস্ত। দৈনিক কক্সবাজারবাণী ও জনতারবাণী ডটকম তার প্রকাশিত পত্রিকা। আজ তিনি ১১ মাস ধরে বিনা দোষে কারাজীবন ভোগ করছেন। কক্সবাজারের এসপি ও টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের রোষানলে পরে ৬টি মিথ্যা মা’মলা’র আ’সা’মি। তার জামিন করাতেও ব্যর্থ হয়েছেন পরিবারের লোকজন। ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ৩ ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা। স্ত্রী, ৩ সন্তান ও বৃদ্ধ মায়ের চ’রম অভাব অনটনে দিন কাটছে।
স্ত্রী হাসিনা মোস্তফা জানালেন, তার স্বামী সত্য ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ করতেন। এসপি ও ওসি প্রদীপের বি’চার বহির্ভূত হ’ত্যাকাণ্ড ঘু’ষ বাণিজ্য নিয়ে লিখে গেছেন। তাই তাকে পরপর ৬টি মা’ম’লা দেয়া হয়েছে। তার স্বামীর চোখে এবং পায়ুপথে গুড়া মরিচ ঢেলে দিয়েছে ওসি প্রদীপ। এতেও ক্ষা’ন্ত হয়নি। বৈদ্যুতিক শর্ট দিয়ে যৌ’নশ’ক্তি ন’ষ্ট করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। অর্থাভাবে কা’রাগারে ঠিক মতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। একটু দেখা করতে অনেক ভোগান্তি পেতে হয়।
ফরিদুল মোস্তফার মেয়ে সুমাইয়া মোস্তফা খান জানিয়েছে, তাদের পরিবারের কারো বি’রু’দ্ধে কোন মা’মলা নেই। তারা কখনো অ’পরা’ধে জড়াননি। সংবাদ প্রকাশ করার কারণেই ষড়’যন্ত্রের শি’কার হয়েছেন বাবা। ওসি প্রদীপের নি’র্মম নি’র্যাত’নে বাবার চোখ দুটি অন্ধ হওয়ার উপক্রম, ডান হাত এবং পা ভাঙা, আঙুল থেঁতলানো।
ছোট ছেলে সাদেক মোস্তফা জানান, বাবাকে ফিরে পেতে চাই। বাবাকে ছাড়া ঘুম আসে না।
হাসিনা মোস্তফা বলেন, আমার স্বামীকে হয়রানি না করতে হাইকোর্টে রিট করেছিলাম। ঐ রিট আদা’লতের নির্দেশে পিবিআই ত’দন্ত করছে। আট মাস ধরে পিবিআই কার্যালয়ে ফাইল পড়ে আছে। ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এসপি ও ওসি প্রদীপের কারণে আমাদের জীবনে নেমে এসছে অন্ধকার।
এদিকে কারাবন্দি সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার পরিবারের খোঁজ খবর নিতে কক্সবাজার যান বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর, বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদ (বনেক) সভাপতি মোঃ খায়রুল আলম রফিক, সাংবাদিক নেতা আবুল কালাম আজাদ, বনেকের নেতা এনামুল কবির সোহেল, নান্টু লাল দাস, এস এইম জিবনসহ দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বনেকের সভাপতি খায়রুল আলম রফিক জানান, সাংবাদিককে মুক্ত করতে পদক্ষেপ নেয়া হবে। উৎস: বিডি২৪লাইভ




