334745

কি ঘটেছিল সে রাতে? মেজর সিনহার সঙ্গী সিফাতের মুখে ঘটনার বর্ণনা (ভিডিও)

নিউজ ডেস্ক।। টেকনাফে সাবেক মেজর সিনহার সঙ্গে ছিলেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত। পুলিশের সঙ্গে সেদিন কী ঘটেছিল সেই বর্ণনা দিয়েছেন সিফাত।

রোববার (০৯ জুলাই) গো জাস্ট নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে সিফাতের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওতে সে দিন রাতে পাহাড়ে কী ঘটেছিল তা বর্ণনা করেছেন সিফাত।

ওই ভিডিওতে দেখে গেছে, সিফাতকে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করছেন, কী ঘটে ছিল সেই রাতে?। সিফাতও কান্না জড়িত কণ্ঠে এর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। সিফাতের পুরো বক্তব্যে লিখিত আকারে তুলে ধরা হল-

‘রেস্ট হাউস থেকে আমরা রওয়া দেই বিকেল সাড়ে ৩ থেকে ৪টার দিকে। পরে চেকপোস্টে আমাদের পৌঁছাতে ৩০ মিনিট সময় লাগে। ওই সময় মেজর সিনহা নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা পরিচয় দিলে আমাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

ওই সময় সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত ছিলেন তিনি। পরে সেখান থেকে আমরা পাহাড়ের দিকে যাই। পরে পাহাড় থেকে নামার সময় দেখি দুইজন পুলিশ সদস্য খুবই মা’র’মুখী ভাবে আমাদের দিকে আসে। সন্ধ্যার পর হওয়ায় আমাদের চোখের দিকে তারা লাইট মা’রে। এবং আমরা বলি চোখে লাইট মা’রেন কেন? এখানে আসেন। এবং মেজর সিনহার সামনে এসেই তারা অকথ্য বাসায় গা’লিগালা’জ করে।’

সিফাত বলেন, ‘পরে কোনো প্র’তিবাদ না করেই গাড়িতে উঠে আমরা রওয়ানা দেই। সেখান থেকে আসার সময় প্রথম চেকপোস্টে বিজিবিকে মেজর পরিচয় দিলে আমাদের ছেড়ে দেয়। পরে সেখান থেকে আসার সময় দ্বিতীয় চেকপোস্টে আমাদের আটকে দেয় পুলিশ। সিনহার নিজের পরিচয় দেয়ার পরও গাড়ি থেকে নামতে বলে। গাড়ি থেকে নামলেই দুইজন সিনহাকে জে’রা করতে থাকে। পরে আরেকজন আসে আবারও জে’রা করতে থাকে…”

ভিডিওটিতে সিফাত এ পর্যন্ত বলার পর সেটি শেষ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কী ঘটেছিল তা আর উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে, টেকনাফে পুলিশের গু’লি’তে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহার মৃ’ত্যু’র ঘটনায় সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ আ’সামি’র মধ্যে ৭ জন কা’রাগা’রে আছেন। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় গ্রে’ফতা’রি পরোয়ানাভুক্ত ৯ পুলিশ সদস্যসহ ২০ জনকে প্র’ত্যাহার করেছে কর্তৃপক্ষ। ৫ আগস্ট প্র’ত্যাহার করা হয় প্রদীপ কুমার দাশকে।

এর ঘটনার বি’চার চেয়ে টেকনাফ উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহার আ’দালতে ৯ পুলিশ সদস্যকে আ’সামি করে মা’মলা করেন তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। আ’দালতের বি’চারক তামান্না ফারাহ মা’মলাটি গ্রহণ করেন। তিনি এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে সাতদিনের মধ্যে আ’দালতকে অবহিত করতে টেকনাফ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মা’মলাটি তদন্ত করে আ’দালতকে জানানোর জন্য র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মা’মলার আ’সামিরা হলেন- ওসি প্রদীপ ও আইসি লিয়াকত, এসআই নন্দলাল রক্ষিত, এসআই টুটুল, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও কনস্টেবল মো. মোস্তফাকে আ’সামি করা হয়েছে।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফে পুলিশ চেকপোস্টে সিনহাকে গু’লি করা হয়। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত। আর বিশ্ববিদ্যালটির একই বিভাগের ছাত্রী শিপ্রা হিমছড়ির একটি রিসোর্টে ছিলেন। সেখানে অ’ভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে আ’টক করে। পরে রামু থানায় শিপ্রার বি’রুদ্ধে মা’দক রাখার অ’ভিযোগে মা’মলা দেয় পুলিশ। আর সিফাতের বি’রুদ্ধে করা হয় হ’ত্যা ও মা’দক মা’মলা। উৎস: সময়নিউজটিভি।

https://www.youtube.com/watch?v=88upo5baXeo&feature=emb_title

ad

পাঠকের মতামত