334101

‘আব্বুর খু’নিদের বি’চার কি পাবো না?’

নিউজ ডেস্ক।। ‘আব্বু গেছে, আম্মুও চলে গেল। আব্বুর খু’নি’দের ফাঁ’সি আম্মু দেখতে পারল না। আমাদের আর কেউ থাকল না। আমরা কার কাছে যাব। খুনি শহীদুল ফকিরসহ সকলের ফাঁ’সি চাই।’

মায়ের মরদেহের দাফন শেষে শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে এসব কথা বলে বিলাপ করছিলেন ২০১৮ সালের ১লা অক্টোবর স’ন্ত্রা’সী হাম’লায় নি’হত বাগেরহাটের আনছার আলী দিহিদারের ছেলে মেহেদী হাসান শাওন। শাওন ও তার বোন সাবরিনা আফরিন সুমিও তাদের বাবা-মায়ের হ’ত্যাকা’রীর বি’চার দেখে যেতে পারবেন কিনা- এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দাফনে আসা অনেকে।

২০১৮ সালের ১ অক্টোবর দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী দিহিদার ও উপজেলা যুব লীগের সহ-সভাপতি শেখ শুকুরকে ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান ফকির শহীদুল ইসলামসহ কয়েকজন নি’র্মমভাবে হ’ত্যা করে। এ সময় আনছার আলী দিহিদারের স্ত্রী মোসা. মঞ্জু বেগম এবং শ্রমিক নেতা বাবলু শেখকে বেধ’ড়ক পেটায় করে সন্ত্রা’সী’রা। মা’রপি’টে মঞ্জু বেগমের দুই পা ও বুকের হাড় ভে’ঙ্গে যায়। পঙ্গুত্ব বরণ করেন মঞ্জু। ২২ মাস বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। করোনার কারণে কচুয়ার যশোরদি গ্রামে বাবার বাড়িতে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মা’রা যান তিনি। ওই সময়ে হামলার শিকার বাবলুও মৃ’ত্যু’র সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

এদিকে, আনছার আলী দিহিদারের পরে তার স্ত্রীও মৃ’ত্যুবরণ করায় আত্মীয় ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খু’নিদের ফাঁ’সির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।

নি’হত যুবলীগ নেতা শুকুরের বড় ভাই দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও হত্যা মা’মলার বাদী শেখ ফারুক আহমেদ বলেন, সহকর্মী আনছার ও ভাইকে হারিয়েছি। আজ আনছার ভাইয়ের স্ত্রীও চলে গেলেন। কিন্তু খু’নিদের কিছু হল না। অনেক আসামীই জামিনে বের হয়ে আমাদের হু’মকি ধমকি দিচ্ছে। মা’মলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

নি’হত আনছার আলী দিহিদার ও মোসা মঞ্জু বেগমের মেয়ে সাবরিনা আফরিন সুমি বলেন, আব্বুকে যখন হ’ত্যা করে সন্ত্রা’সীরা তখন আম্মুকেও হ’ত্যার চেষ্টা করে। স’ন্ত্রাসীদের মা’রপি’টে আম্মুর পা ও বুকের হাড় ভে’ঙ্গে যায়। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে আম্মু বেঁ’চে যায়। কিন্তু পঙ্গুত্ব বরণ করে চিকিৎসা নিতে থাকতে হয়। আব্বুর খু’নিদের ফাঁ’সি দেখার আশায় মৃ’ত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছেন দীর্ঘদিন। কিন্তু আজ মাও চলে গেল। ওদের মা’রধরে’র পরে মা আর সুস্থ হননি। ওদের মা’রধরেই আমার মা মা’রা গেছে। আমি আমার পিতা-মাতার হ’ত্যাকারীদের বি’চার চাই।

দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কিসলুর রহমান খোকন বলেন, আমরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মা’মলার আসামীদের উপযুক্ত শা’স্তি চাই।

স্থানীয় আরিফ মল্লিক, আসলাম আলী দিহিদারসহ কয়েকজন বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে আওয়ামী লীগের দুইজন ত্যাগী নেতা আনছার ও শুকুরকে শহীদুল ফকিরের নেতৃত্বে হ’ত্যা করা হলো। হত্যাকারীদের মা’রধ’রে আ’হত আনছারের স্ত্রী মঞ্জু বেগমও ২২ মাস পরে মা’রা গেল। এখনও কিছু আ’সামী বাইরে ঘুরে বেড়ায়। আমরা আ’সামী’দের বি’চার চাই।

২০১৮ সালের ১ অক্টোবর দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী দিহিদার ও উপজেলা যুব লীগের সহ-সভাপতি শেখ শুকুরকে ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান ফকির শহীদুল ইসলামসহ কয়েকজন নি’র্মম’ভাবে হ’ত্যা করে। ৪ অক্টোবর রাতে মোরেলগঞ্জ থানায় নিহ’ত শেখ শুকরের ভাই শেখ ফারুক হোসেন বাদী হয়ে হ’ত্যা মা’মলা করেন। ২০১৯ সালের ৪ জুন পুলিশ ৫৮ জনকে অ’ভিযু’ক্ত করে আ’দালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এর মধ্যে প্রধান আ’সামী ২ অক্টোবর দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফকির শহীদুল ইসলামসহ অনেকেই জে’ল হা’জতে রয়েছেন। উৎস: সময় নিউজ।

ad

পাঠকের মতামত