332180

সৌদি হা’মলা’য় আ’হত শিশুর হৃদয়বি’দারক ভিডিও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে

ডেস্ক রিপোর্ট।। ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিমান হা’মলা’য় আ’হত এক শিশুর ভিডিও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

আরটির প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায় শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। তার শরীরের বেশিরভাগ অংশই বো’মা’র আ’ঘা’তে ক্ষ’তিগ্র’স্ত হয়েছে। সাম্প্রতি ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চেলের আল-জাওয়াফ প্রদেশের আবাসিক এলকায় বি’মা’ন হা’মলা চা’লায়। সেই হা’মলা’য় বহু মানুষ হ’তাহ’ত হয়। আবাসিক এলাকায় বুধবার চালানো এই হা’ম’লায় হ’তাহ’তের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এটিকে যু’দ্ধাপরা’ধ হিসেবে উল্লেখ করে। রেডিও তেহরানের প্রকাশিত ইরানের ওই বক্তব্যে এই হা’ম’লার তীব্র নিন্দা জানায় ইরান।

ওই হা’মলা’য় ঘটনাস্থলেই ৯ জন নি’হ’ত হন। বহু মানুষ আ’হ’ত হন বলে উল্লেখ করে আরটি।

জাওয়াফ হাসপাতালের একজন ডাক্তারের উদ্ধৃতি দিয়ে আরটি জানায়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ৪ শিশুর অবস্থা গু’রুত’র। তাদের মধ্যে এক শিশুর গোটা শরীর বো’মা’র আ’ঘা’তে ঝলসে গেছে। তার মাথা ও মুখে স্প্রিন্টারের অজস্র আ’ঘাতে’র চিহ্ন রয়েছে।

ওই ডাক্তার বলেন, আমরা ম’র্মা’হত। হা’মলা’র শি’কা’র সবাই শন্তিপূর্ণভাবে তাদের ঘরে অবস্থান করছিলো। ভুক্তভোগীদের সবাই নারী ও শিশু।

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের যু’দ্ধ চূড়ান্তভাবে শুরু হয় ২০১৫ সালে। দেশটির ততকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়েমেনের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে ইন্ধন জুগিয়েছিল আরব বসন্ত। ক্ষমতার পালাবদলের আগে ইয়েমেনের দীর্ঘকালের প্রেসিডেন্ট ছিলেন একনায়ক আলী আবদুল্লাহ সালেহ। প্রচণ্ড বি’ক্ষো’ভের মুখে ২০১১ সালে আবদ রাব্বু মনসুর হাদির কাছে ক্ষ’মতা হস্তান্তর করেন তিনি। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শুরু থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছিলেন হাদি। একদিকে জ’ঙ্গি’রা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল, অন্যদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণে বিস্তার লাভ করছিল বিচ্ছিন্নতাবাদ। আর হুতি বি’দ্রোহী’রা তো ছিলই।

ইয়েমেনে ওই সময় আরও কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যা ছিল। আগের প্রেসিডেন্টের প্রতি নি’রাপ’ত্তা বাহিনীর সদস্যদের আনুগত্য ছিল বি’ব্রতকর। দু’র্নী’তি, খাদ্যাভাব ও বেকারত্বের উচ্চহারের মতো বহুবিধ সমস্যায় জ’র্জরি’ত হয়ে পড়ে ইয়েমেন। এর মধ্যে শিয়া ধর্মাবলম্বী হুতিরা নতুন করে বি’দ্রো’হ শুরু করে। নতুন প্রেসিডেন্ট হাদির দু’র্বলতা’র সুযোগ নিয়ে উত্তর ইয়েমেনের ‘সাদা’ প্রদেশ এবং এর আশপাশের এলাকা দখল করে নেয় হুতিরা।

এ সময় সুন্নিসহ অনেক সাধারণ ইয়েমেনি নাগরিকও হুতি বি’দ্রোহী’দের সমর্থন দিয়েছিল। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে সানা দখল করে নেয় হুতিরা। ফলে ইয়েমেনে দুটি পক্ষ দাঁড়িয়ে যায়। একটি সরকার পক্ষ, আরেকটি হুতি বি’দ্রোহী’রা। আলী আবদুল্লাহ সালেহর সমর্থক সেনারাও হাত মিলিয়েছিল হুতিদের সঙ্গে। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে এমন বি’রূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান আবদ রাব্বু মনসুর হাদি।

শিয়া হুতি বি’দ্রোহী’দের ইরান সহযোগিতা করছে- এমন অ’ভিযো’গ তুলে এর পরপরই দৃশ্যপটে আসে সৌদি আরব। সৌদিদের পক্ষে যোগ দেয় আরব বিশ্বের সুন্নিপ্রধান আরও ৮টি দেশ। শুরু হয়ে যায় হাদির পক্ষে জোটগত সামরিক অ’ভিযা’ন। এই জোটকে গো’য়েন্দা তথ্য ও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। সেই থেকে ইয়েমেনে হা’নাহা’নি চলছেই।

ad

পাঠকের মতামত