331806

‘কবিরাজ’ যে সু-কৌশলে নারীর কাছ থেকে হাতিয়েছেন ৬৫ লাখ টাকা

নিউজ ডেস্ক।। দেশের আলোচিত প্র’তারক সাহেদকে গ্রে’প্তার নিয়ে নানাধরনের আলোচনার মধ্যেই চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা পুলিশ গ্রে’প্তার করেছে এক ভণ্ড-প্র’তারক ক’বিরাজকে। যিনি এক নারীকে গু’প্তধন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নিয়েছেন ৬৫ লাখ টাকা।

করোনাকালে মানুষ যখন প্রা’ণ বাঁ’চাতে স’তর্কতার সঙ্গে জীবন যাপন করছেন, তখনই ভ’ণ্ড-প্র’তারকরা প্রতাপের সঙ্গে প্র’চারণা করে যাচ্ছেন। চট্টগ্রামে গ্রে’প্তার হওয়া ভ’ণ্ড-প্র’তারকের নাম হাফেজ মোহাম্মদ লিয়াকত আলী। তিনি বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের পাইরং গ্রামের মো. জাকির আহম্মদের ছেলে।

তাকে গ্রে’প্তারের তথ্য জানিয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভুঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, তিনি একজন নারীর সঙ্গে প্র’তারণা করে ৬৫ লাখ টাকা হা’তিয়ে নিয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্র’তারণার কথা স্বীকার করেছেন। তার বি’রুদ্ধে মা’মলা দায়ের করেন ওই নারী।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পাঁচলাইশ থানা এলাকার বাসিন্দা এক নারী ছেলের সংসার বাঁচানোর জন্য হাফেজ লিয়াকতের দ্বারস্থ হন। এই কবিরাজ ‘কোরআনি চিকিৎসা’র মাধ্যমে ছেলের অশান্ত সংসারে শান্তি এনে দিতে পারবেন বলে মাকে আশ্বস্ত করেন। এতে সরল বিশ্বাসে তিনি সাড়ে তিন লাখ টাকায় কবিরাজের সঙ্গে চু’ক্তিবদ্ধ হন এবং টাকা পরিশোধ করেন। টাকা পেয়ে কবিরাজ পবিত্র কোরআন শরীফের একাধিক সুরা পড়ে তাকে আমল করতে বলেন। আমল চলতে থাকে।

এরই মধ্যে কবিরাজ পুনরায় ওই নারীকে জানান, তিনি হাজিরা দেখে নিশ্চিত হতে পেরেছেন তার দেবরের জমির নিচে প্রায় সাড়ে তিন শ কোটি টাকার গু’প্তধন আছে। এসব গুপ্তধন তিনি সংগ্রহ করে দিতে পারবেন। এই গু’প্তধন পাইয়ে দিতে তিনি মোটা অংকের অর্থ দাবি করেন। পরে তারা ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন এবং ধাপে ধাপে ৬৫ লাখ টাকা কবিরাজের হাতে তুলে দেন তিনি।

তারপরও কবিরাজ অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। ৬৫ লাখ টাকা দেওয়ার পর গু’প্তধন না পাওয়া পর্যন্ত আর টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন ওই নারী। এতে ক্ষি’প্ত হয়ে লিয়াকত আলী হুম’কি দেন, টাকা না দিলে তার ছেলের সংসারে আরো ক্ষ’তি হবে। কবিরাজের কাছ থেকে এ ধরনের হুমকি পেয়ে বিষয়টি পাঁচলাইশ থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ অ’ভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে আলফালাহ গলি এলাকা থেকে লিয়াকতকে গ্রে’প্তার করে। সেই সঙ্গে তার বাসা থেকে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধার করে।

ওসি আবুল কাশেম বলেন, লিয়াকত আলী অন্ধ হিসেবে ভান ধরেন। কিন্তু তিনি অন্ধ নন। ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। নতুন বউকে ৪০ লাখ টাকা দিয়েছেন ফ্ল্যাট কেনার জন্য। কিন্তু টাকা পাওয়ার পর ওই স্ত্রী লিয়াকতকে তালাক দিয়ে চলে যায়। ওসি বলেন, গ্রে’প্তারের পর আ’সামিকে আ’দালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ad

পাঠকের মতামত