331631

১০-১৫ লাখ টাকার জন্য থমকে করোনা যু’দ্ধ

নিউজ ডেস্ক।। করোনার ছোবলে থমকে গেছে বিশ্বের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। মহামারি করোনা মোকাবিলায় সরকার তার উদারতা দেখিয়ে চলেছেন প্রথম থেকেই। আর সুযোগ লুটেরা ফাঁকফোঁকরেও চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অসাধু কার্যক্রম। সত্যিকারের অর্থে যাদের ভেতর মানবিকতা বোধ আছে তারা প্রতিনিয়তই লড়ে যাচ্ছেন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। সময়নিউজ।

যারা সম্মুখ-সারিতে লড়ে যাচ্ছেন তাদেরও অনেক কিছু করবার ইচ্ছা জাগছে। কিন্তু সীমাবদ্ধতার কাছে তাদের ভাবনাগুলোও প্রস্ফূটিত হয়ে আলো ছড়াতে পারছে না যেন। দেশ রক্ষায় সরকার করতে চাইছেন আর সম্মুখসারির যো’দ্ধারা তাদের আপ্রা’ণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তবুও কোথায় যেন সরষের মধ্যেই ভুত লুকিয়ে থাকছে। যার কারণে খোদ সম্মুখ-সারির যো’দ্ধারাও থমকে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। যেখানে বিশ্বের বড় বড় দেশগুলো প্রা’ণপণে লড়ে করোনাকে বশে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন। সেখানে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশ থমকে দাঁড়াবে সেটাইতো স্বাভাবিক কথা।

কোনো কিছু করার দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে সেটি সঙ্গে সঙ্গে করা যায়। কারণ সেটি একক চিন্তা। কিন্তু দেশের জন্য করার ইচ্ছাটা আজ বললেই কাল হয়ে যাবে না সেটাই হচ্ছে বাস্তবতা। কারণ দেশের কাজ দশে করে। আর ১০ জায়গার অবস্থা তার নিয়মকানুন মেনে সমন্বয়ের মাধ্যমে করতে হয় বলেই সময়ের প্রয়োজন। আর এই নিয়মের বেড়াজালে আ’টকে থমকে যাচ্ছেন সম্মুখ-সারির করোনা যো’দ্ধা চিকিৎসকেরা। প্রতিনিয়ত মৃ’ত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন স্বজন হারানোর সংখ্যা। কেবল স্বজন হারানো পরিবারই হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছে তাদের দুঃখগুলো, অসহায়ত্বগুলো।

সম্পতি বিসিএস পাস করা সম্মুখসারির এক চিকিৎসক যো’দ্ধার সঙ্গে কথা বলার পর জানতে পারলাম তারাও কতটা অসহায়। টাকা আছে অথচ সিস্টেম জটিলতার কাছে হার মানতে হচ্ছে সকলকেই। টাকা আছে কিন্তু চিকিৎসা নেই, করোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে এমন বিয়োগের সংখ্যা নেহাত কম নয়। অঢেল অর্থ আর ক্ষমতা থাকা শ’র্তেও চিকিৎসাভাবে মারা যেতে হচ্ছে অনেককেই। দেশের স্বাস্থ্যখাতের ফাঁকফোঁকরে জমে থাকা ব্যর্থতা করোনা এসে যেনো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। তারপরেও এরকম মহামারিকে রুখতে সরকার আপ্রা’ণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্যখাতের এত এত সমস্যা রাতারাতি ভে’ঙে গড়া সম্ভব নয়, তবে আশার কথা হচ্ছে চাইলেই সমস্যার লাগাম কিছুটা টেনে ধরা হয়তো সম্ভব।

কারণ কেউ জানি না কার স্বজনের তালিকা কখন জানি মৃ’ত্যু তালিকায় যোগ হয়। খানিকটা অক্সিজেনের কারণে কখন কাকে দম বন্ধ সময়টা পার করতে হতে পারে। তাই সকলের মিলিত স্বদিচ্ছাটাই বড়সড় পরিবর্তন আনতে পারে এই মুহূর্তে। এটাই মুখ্য সময় দেশ ও দশের জন্য কিছু করার। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো যার টাকা আছে তার হয়তো সঠিক পথটা জানা নেই কোনটা করলে আসলে ভালো হবে। আর যার কাছে সঠিক জ্ঞান-বুদ্ধি আর পরিকল্পনা আছে তার হয়তো অর্থ নেই। আর এই ফাঁকফোকরে চাপে সবাই হয়তো চুপ থাকতে পারছেন, কিন্তু লড়তে হচ্ছে সেই একা সরকারকেই। আর সরকারকে এগোতে হচ্ছে কিন্তু সেই নিয়ম নীতির সমন্বয় করেই। তাই শতভাগ করার ইচ্ছা থাকা শ’র্তেও ঘাটতি থেকে যাচ্ছে অনেক কিছুই। আর সুযোগ সন্ধানীরা ফের সেই ঘাটতি নিয়ে সমালোচনাই করে যাচ্ছেন, সুযোগ লুটে নিচ্ছেন।

সমালোচনা করাতো সহজ, কিন্তু পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে সেটিকে সামাল দেওয়া মোটেও সহজ নয়।

চিকিৎসকরা সরকারের কার্যক্রমে মুগ্ধ তাতে একফোঁটা সন্দেহের জায়গা তারা রাখছেন না। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা যেটি ঘটছে তা অসাধুদের জন্য। এই পৃথিবীতে এখনও অসংখ্য ভালো মানুষ আছেন যারা অন্যের ব্যথায় সত্যিই ব্যথিত হন। দেখানো কার্যকলাপ তাদের খুব একটা স্পর্শ করে না। তারা সত্যিই কিছু করতে চান। এখন আসি মূল কথাটাতে। এই মুহূর্তে যে সিস্টেম জটিলতার কথাটা বলবো তাতে প্রশাসন, সরকার, বা চিকিৎসকদের আসলেই কোনো দায় নেই।

সবাই করতে চাইছেন কিন্তু আটকে যাচ্ছেন নিয়ম আর তার দীর্ঘসূত্রিতার কাছে। সরকারের কাছে চাইলেই হয়তো বরাদ্দ মিলবে। কিন্তু সেই পথটা দ্রুত আর মসৃণ নয় বরং সময় সাপেক্ষের ব্যাপার। কারণ পরিকল্পনা মাফিক প্রকল্প তৈরি তার দরপত্র আহ্বান, কাজের জন্য ঠিকাদারদের দিকে তাকিয়ে থাকা। মৃ’ত্যু মিছিলের লাগাম টানতে এটি আসলে দীর্ঘ একটি পথ। আপাতত দৃষ্টিতে বললেই হয়ে যায় মনে হলেও বাস্তবে চিত্রটা বিপরীত।

তাই দায়টা একা সরকার বা কর্তৃপক্ষকে দিয়ে তেমন লাভ নেই। সরকারি নিয়মনীতি পরিবর্তন চাইলেই রাতারাতি হয় না। এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত যারা আছেন তাদের সমালোচনার দিকে না তাকিয়ে তাদের সমস্যার দিকেও মনোযোগ দেওয়াটা এই মুহূর্তে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সমালোচনা চাইলে পরেও করা যাবে কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তটা সমালোচনার সময় না। সময়টা এখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মৃ’ত্যু মিছিলের লাগাম টানার। মানুষের জীবনের মূল্যেই এখন হওয়া উচিত সবচেয়ে বেশি। কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিই চাইবেন না তাদের সীমাবদ্ধের কথা উপর মহল জানুক। এটাই স্বাভাবিক। তবে এই না জানানোর কাছে মানুষের প্রা’ণ কেনো যাবে? কেনো সামান্য অক্সিজেনের কাছে হার মানবে দেশের এত এত মানুষ?

প্রতিটি জেলার সদর হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু হয়েছে। সেখানে একসাথে অনেক করোনা রোগীর চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব। তাহলে চিকিৎসা আর অক্সিজেনের জন্য কেনো এত হাহাকার? কেনো সর্বোচ্চ ক্ষ’মতা আর অর্থের প্রভাব খাটিয়েও হাসপাতালের বেড আর অক্সিজেন জোগাড় করতে অক্ষম হয়ে মৃত্যুর কাছে হার মানতে হচ্ছে? কেনো ছুটছে দিকবিদিগ? আসলে আমরা পড়ে থাকা ময়লা না সরিয়ে বরং ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধ দূর করতে সময় ব্যয় করছি, ভারী কিছু নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছি হয়তো বাতাসে ভাসা দুর্গন্ধকে কব্জা করতে। বসত বাড়িতে থাকা বর্জ্য না সরিয়ে, লেপ-কাঁথা দিয়ে কি দুর্গন্ধ দূর করা যায়? সমস্যাটা এখানেই। যেখানে টাকা প্রয়োজন নেই সেখানে ওড়ানো হচ্ছে আর যেখানে দরকার সেখানে নিয়মের বেড়াজালে আড়াল বা চাহিদাটাকে চেপে রাখা হচ্ছে। তাহলে সমস্যা মিটবে কিভাবে?

যেখানে একসাথে অনেক রোগী চিকিৎসা পেতে পারতেন সেখানে সামান্য সিস্টেম জ’টিলতার কাছে নামমাত্র রোগীরাই অনেক যু’দ্ধ করে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন। বিষয়টি এমন নয় যে চিকিৎসকরা জোটবন্ধভাবে সুবিধা নিচ্ছেন অথচ সেবা দিতে চাইছেন না। আসলে তাদেরও কিছু করার নেই। জেলা প্রশাসক রাজনীতিবিদরা বা অন্যান্য যারাই দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারা তাদের ব্যর্থতা তুলে ধরতে চাইছেন না। ব্যর্থতা তুলে ধরবে সেটা আশা করাটাও আসলে ভুল। কারণ কারও ভু’ল থাকলে সেটা গোপনে সারিয়ে তুলতে চাইবে অন্যকে জানাতে আগ্রহী হবে না এটা খুবই স্বাভাবিক কথা। তাই এদিকটা নিয়ে কথা না বাড়ানোয় ভালো। কথা আর উদ্দেশে হোক সমাধানের জন্য।

করোনা মোকাবিলায় জেলায় জেলায় করোনা ইউনিট হয়েছে ইতিমধ্যে। জেলা সদর হাসপাতাল গুলোতে বেশ পর্যাপ্ত কাঠামো এখন আছে সেবা দেওয়ার জনবলও আছে কিন্তু কিছু যন্ত্রের অভাবে হয়তো যতটুকু সেবা দেওয়া সম্ভব তা দেওয়া যাচ্ছে না। যে যন্ত্রগুলো প্রয়োজন তার জন্য অর্থও হয়তো খুব বেশি লাগবে না। কিন্তু এখানেও সেই নিয়মের বেড়াজাল। স্বাস্থ্যখাতের যে অর্থ বরাদ্দ তা পরিকল্পনা অনুযায়ী সমন্বয় করে পেতে পেতে অনেক মানুষই অসহায়ত্ব নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন না ফেরার দেশে। এই সমস্যার হাল ধরতে দেরি হলে তীরে আর তরী নেওয়া সম্ভব হবে না। দেরি যত হবে হারানোর তালিকাটা ততই দীর্ঘই হতে থাকবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানাচ্ছিলেন তার কষ্টের কথা। তার ২৯ বছরের তরুণ ভাই সবে করোনা আ’ক্রান্ত হয়েছিলেন। অবস্থা খুবই জটিল পর্যায়ে চলে যায়। জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে স্বজনের থাকার সময়টা কতটা অনিশ্চয়তার সেই সময়ে যে না দাঁড়িয়েছে সে বুঝতে পারবে না, বলেন তিনি। চিকিৎসক হয়েও হাসপাতালে ভাইয়ের চিকিৎসার সেই সীমাবদ্ধতার কথা জানাতে গিয়ে কণ্ঠটা তার ভারী হয়ে ওঠে। তিনিই তুলে ধরেন কিছু সমস্যা আর সমাধানের কথা।

সরকারের করার ইচ্ছা আর চলতি কার্যক্রমের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি বলেন সরকার করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও শতভাগ আন্তরিকতায় কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সামান্য কিছু যন্ত্রের প্রয়োজনে পুরো ব্যবস্থাটায় নাজুক। যেখানে ঢাকার মতই জেলা পর্যায়ে একসাথে অনেক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব সেখানে গুটি কয়ের রোগী সেবা দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। অথচ পর্যাপ্ত জনবল আর অবকাঠামোগত সুবিধা কিন্তু পড়েই থাকছে। কাজে আসছে না কিছুই। নিয়মের দিকে তাকিয়ে থেকে হারানোর তালিকাটা দীর্ঘ দেখতে তিনি চাইছেন না। তাই তিনি স্ব উদ্যোগে বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজনের দারস্থ হচ্ছেন কিছু করা যায় কি না সেই আশায়। তিনি মনে করেন সমাজের বিত্তবানদের এই মুহূর্তে এগিয়ে আসাটা সবচেয়ে জরুরী। আর এতে করে জেলার অনেক মানুষ সঠিক চিকিৎসা পাবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন আসলে দরপত্র করে সব যন্ত্র কেনাটা সময়সাপেক্ষ। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হোক বা জেলা প্রশাসন কেউই তাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করতে চাইবেন না। তাই সামান্য কিছু অর্থের কাছেই এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। সমাজের মানুষের জন্য কিছু করা ইচ্ছা থেকেই কথাগুলো তুলে ধরেন তিনি ।

যাইহোক এবার উদাহরণ টানতে গিয়ে নিজ জেলা বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতালের চিত্রটা এখানে আমি তুলে ধরতে চাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে জানতে পারি সেখানের পরিস্থিতিটা। সেখানে বড় করোনা ইউনিট চালু আছে তবে শুধু নাজাল ক্যানোলা আর ফেস মাস্কের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। আর এই প্রক্রিয়ায় মাত্র ৬ লিটার অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু যদি ভেনচুরি মাস্ক, নন-রি ব্রেথিং মাস্ক আর হাই ফ্লো নাজাল ক্যানোলা আর সেন্ট্রাল অক্সিজেনের সুবিধা থাকতো তাহলে ৩০ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন সরবারহ করা যেতো। এছাড়া হাসপাতালটিতে CRP, D- dimer, serum feritin investigation করা সম্ভব হয় না যেটি করোনা রোগীর জন্য খুবই জরুরী। শুধু ইকুইপমেন্ট আর প্যাথলজি সেবাটি বাড়ানো গেলে ঢাকার মতই জেলা পর্যায়ে একই সুবিধা প্রদান করা যেতো। আর এই সিস্টেমটার জন্য খুব বেশি হলে ১০-১৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। এটা শুধু বাগেরহাট সদর হাসপাতালের চিত্র বাকী জেলা গুলো হয়তো একই সমস্যায় ভুগছে। চিকিৎসার জন্য অবকাঠামো সুবিধা পড়ে আছে কিন্তু তাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না কিছু। ভাবুনতো, জেলা পর্যায়ে যদি জেলার রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হতো তাহলে চিকিৎসার জন্য, বেডের জন্য, অক্সিজেনের জন্য এত হাহাকার কি থাকতো?

বড় অবকাঠামো থেকেও ঢাল তলোয়ারবিহীন লড়তে হচ্ছে চিকিৎসকদের। কিন্তু টিম ওয়ার্ক নষ্ট করে কেউ আসলে মুখ খুলতে হয়তো চাইছেন না সেখানেও হয়তো কিছু সমস্যা আছে। জেলায় যদি বিরাট একটা অংশ করোনার সঠিক সেবাটা পেতো তাহলে দেশজুড়ে এত হাহাকার তৈরি হতো না। ১০-১৫ লাখ টাকা হয়তো সরকারের কাছে খরচ করা তেমন কোনো বড় ব্যাপার নয়। কিন্তু পুরো ব্যবস্থাটা তুলে ধরা, কারো মুখ খুলতে না চাওয়া, সঠিক সাহস নিয়ে কথাগুলো বলে ফেলা এসবের সমন্বয় ঘটাতে ঘটাতে বহু মানুষ মারা যাচ্ছে এবং যাবে হয়তো। সমালোচনা আর পরিকল্পনার বেড়াজালে আটকে সময় নষ্ট করার সময় যেহেতু এখন নয়, তাই তড়িৎ কিছু অর্থ সরবারহটা অত্যন্ত জরুরী। তাহলে হয়তো অনেক প্রা’ণ বাঁ’চানো সম্ভব হবে।

সরকারের নিয়ম মেনে যেহেতু হাটার পথটা দীর্ঘ তাই জেলায় থাকা বিত্তবানরা এগিয়ে আসলেই কিন্তু সমস্যাটার সমাধান চলে আসে দ্রুত। টাকা থাকলেই সেবা পাবেন বেঁ’চে যাবেন সেই নিশ্চয়তাটুকুতো আসলে এই মু’হূর্তে কারো নেই। তাই যার যার জেলা হাসপাতালগুলোতে সামান্য কিছু অর্থ সহায়তা করে দেশের এই ক্রান্তিকালে কিছুটা সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারেন বিত্তবান বা ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা। ইতিমধ্যেই বরগুনাসহ আরো দু একটি জেলায় স্ব-উদ্যোগে বিত্তবানদের কেউ কেউ এগিয়ে এসেছেন। হাসপাতালে উপহার দিয়েছেন কিছু যন্ত্রপাতি। এমন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা প্রয়োজন এবং সেটি হতে হবে খুবই দ্রুত।

বিত্তবানদের কাছে যেটি সামান্য অর্থ সেই সামান্যতেই অনেক মানুষের প্রা’ণ বাঁ’চবে। দেশের এই হাহাকার পরিস্থিতি থেকে হয়তো কিছুটা পরিত্রাণ মিলবে। দেশের জনগণইতো অর্থ যোগানোর মাধ্যম। সেই জনগণের সেবায় এগিয়ে আসাটাতো এখন প্রত্যেকের কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। সামান্য অর্থে কিছু যন্ত্রপাতি হলেই কিছু কিছু জেলা হাসপাতালে অসংখ্য মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে হয়তো। বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিবেন সেই সময়টা বিত্তবানরা পাবেন এমন নিশ্চয়তাটা যেহেতু নেই তাই মহানুভবতার সঙ্গে ইচ্ছাটা নিয়েই সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান। একটা জেলায় কয়েকজন বিত্তবানেরা তাদের সহযোগিতার হাত বাড়ালেই বড় পরিবর্তন আসবে হয়তো। নিজ উদ্যোগে খোঁজ নিতে পারেন, যে যার জায়গা থেকে উঠে দাঁড়ালেই করোনা বোঝাটা হালকা হতে শুরু করবে। সঠিক জায়গায় সঠিক অর্থ বরাদ্দটাই এখন সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ। লেখক : প্রান্তী সারোয়ার। গণমাধ্যমকর্মী

ad

পাঠকের মতামত