330403

‘গত ১৬ দিনে চুলোয় হাঁড়ি ওঠেনি আমার ঘরে’

নিউজ ডেস্ক।। ছেলেটি মারা যাওয়ায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত আমরা ঘর থেকে বের হতে পারিনি। করো সাথে মিশতেও দেওয়া হয়নি। করোনার অজুহাতে একঘোরে করে রাখা হয়। খবর: কালের কণ্ঠ।

বিভিন্ন দিকে থেকে আমাদের ওপর চালানো হয়েছে সামাজিক ও মানসিক নি’র্যাতন। এখন খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে। কিন্তু আমাদের খবর কেউ রাখে না। অথচ করোনা টেস্টে আমার ছেলের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

গত ২০ জুন রাতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শাহ্ জালালের (২০) বাবা বাগেরহাটের শরণখোলার রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর কদমতলা গ্রামের সুজন ফকির কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন এমন ক্ষোভ ও কষ্টের কথা। অভাবের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন তাঁর বাবা-মা।

সুজন ফকির বলেন, আমার কিডনি, হার্ট ও লিভারে সমস্যা। ভারী কোনো কাজ করতে পারি না। ছেলের উপার্জনে সংসার চলতো। টিউবওয়েল বসানো এবং বাসবাড়িতে লেট্রিন-বাথরুমে পাইপ লাইনের কাজ করতো শাহ্ জালাল। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেটি মারা যাওয়ার পর থেকে গত ১৬ দিনে চুলোয় হাঁড়ি ওঠেনি আমার ঘরে।

সুজন ফকির জানান, স্ত্রী আর তিন মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটছে। তাঁর ছোট ভাই রাজ্জাক ফকির দৈনিক ৩০০টাকা বেতনে হোটেল শ্রমিকের কাজ করে। এই দুর্দিনে সেই ভাই তাদের পাঁচ জনের খাওয়ার ব্যবস্থা করছে। কিন্তু অন্য কেউ সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি। এ অবস্থায় অসুস্থ শরীর নিয়ে ভাড়ায় ভ্যানগাড়ি চালানোর চিন্তা করছেন সুজন।

নিহত শাহ্ জালালের মা ডলি বেগম জানান, স্বামী অসুস্থ। কোনো কাজ করতে পারে না। এখন অন্যের সংসারে বোঁঝা হয়ে বেঁ’চে আছেন তাঁরা। বড় মেয়ে আশামনি (১৪) বাড়ির পাশের রায়েন্দা বাজার ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় সপ্তম শ্রেণিতে এবং মেজ মেয়ে আরিফা (১০) রায়েন্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ছোট মেয়ে রাবেয়ার বয়স পাঁচ বছর। কিন্তু টাকার অভাবে মেয়েদের জামাকাপড়ও কিনে দিতে পারছেন না।

ডলি বেগম আরো জানান, মাত্র ১৪ মাস আগে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের রহিম বয়াতীর মেয়ে কাকলি আক্তারের সঙ্গে শাহ্ জালালের বিয়ে হয়। ছেলের মৃ’ত্যুর এক সপ্তাহ পর মা-বাবা এসে বউকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর আর ফিরে আসেনি। কোনো সন্তান না থাকায় তাকে অন্যত্র বিয়ের চিন্তা করছে তাঁর পরিবার।

প্রতিবেশী স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মো. শহিদুল ইসলাম খান জানান, করোনায় মৃ’ত্যুর গু’জবে সামাজিকভাবে অনেক চাপে পড়ে শাহ্ জালালের পরিবার। ছেলেটি মারা যাওয়ায় বর্তমানে খুব কষ্টে দিন কাটছে তাদের।

রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রাম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, ওই পরিবারে ভিজিডি সহায়তা চালু রয়েছে। পরিষদের পক্ষ থেকে অন্যান্য সহায়তাও দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, অসহায় ওই পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সযোগিতা করা হবে।

ad

পাঠকের মতামত