কুৎসিত মেয়েকে কেউ ধ’র্ষণ করে নাকি, বিচারপতির মন্তব্যে বি’তর্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ‘কুৎসিত’ মেয়েকে কেউ ‘ধ’র্ষণ করে নাকি! ভারতের কর্নাটক হাইকোর্টের বিচারপতির মন্তব্যে ঘিরে শুরু হয়েছে বি’তর্ক। এই ঘটনার প্রতিবাদ করে প্রায় ২০০ জন আইনজীবী, আ’ইন শিক্ষীর্থী এবং নাগরিক সমাজের একাংশ তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছেন।
তারই সঙ্গে একটি খোলা চিঠিতে কর্নাটক হাইকোর্টের বি’চারপতির মন্তব্যকে ‘সহানুভূতিহীন এবং অন্যায্য’ বলে দাবি করেছেন। ধ’র্ষণে’র ঘটনায় অ’ভিযুক্ত’কে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে বি’চারপ’তির এমন মন্তব্য ঘিরে তীব্র নিন্দার ঝ’ড় উঠেছে।
গত ২৩ জুন বিচারপতি কৃষ্ণা এস দীক্ষিতের মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে বি’তর্ক। ধ’র্ষণে’র শিকার এক নারীর ব্যাপারে আ’পত্তি’কর মন্তব্য করে বেকায়দায় পড়েছেন তিনি। অ’ভিযো’গ, ধ’র্ষণে’র ব্যাপারে অ’ভিযোগ’কারিণী নারীর দেওয়া বয়ান বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেননি বি’চারপতি। এমনকি ভুক্তভোগী নারীকে ‘কু’ৎসিত’ হিসেবে বিবেচনা করে তার সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটার ব্যাপারেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এ ছাড়া ধ’র্ষণে অ’ভিযুক্তদের গত সপ্তাহেই জামিন দিয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণা এস দীক্ষিত। কর্ণাটক আ’দালতের বি’চারপতি কৃষ্ণা এস দীক্ষিতের দাবি, ওই নারীর বয়ান বিশ্বাস করা কঠিন।
ভুক্তভোগী নারীকে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, কেন এত রাতে- ১১টার সময় অফিসে গিয়েছিলেন? কেন ম’দ খেয়েছিলেন? কেন সকাল পর্যন্ত তাকে (অ’ভিযুক্তদের) থাকতে দিলেন? তিনি আরো বলেন, ভারতের কোনও নারী যখন অসম্মানের শি’কার হয়, তখন তাদের আ’চরণ এ ধরনের হয় না।
এর পরই বি’চারপতির এ ধরনের বক্তব্যের ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বি’ক্ষোভও হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে ভারতে ধ’র্ষণের শি’কার নারীদের বয়ান কেমন হবে, সে ব্যাপারে ধ’র্ষিতাদের জন্য গাইড কিংবা নির্দেশিকা থাকবে নাকি? কিংবা কোনও বি’চারপতি আদর্শ ধ’র্ষণের শি’কারের মা’নদণ্ড ঠিক করে দেবেন? দিল্লির সিনিয়র আ’ইনজীবী অপর্ণা ভাট দেশের প্রধান বি’চারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের তিনজন নারী বি’চারকের উদ্দেশে খোলা চিঠিতে লিখেছেন, ‘যে ঘটনা সম্পর্কে আমি অবগত নই বা আ’ইনে লেখা নেই, সে ব্যাপারে কি বিচারের কোনও বিধান নেই? আর ভারতীয় নারী মানেই কি একটি ফরম্যাটের সঙ্গে মিলে যাবে? তার হেরফের হলেই সমস্যা!’
বেঙ্গালুরুর নারী অধিকারকর্মী মধু ভূষণ বলেছেন, বি’চারপতি যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা একেবারে হতাশ হওয়ার মতো।’ এই মা’মলার পর্যবেক্ষণেই বি’চারপতি কৃষ্ণা এস দীক্ষিত ধ’র্ষণের পর নারীর ঘুমিয়ে পড়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। অ’ভিযুক্ত রাকেশ বি-কে গ্রে’ফতারির আগেই জা’মিনে মুক্তি দিয়েছিল আ’দালত। বার ও বেঞ্চের দাবি অনুযায়ী জা’মিনের আবেদনের শুনানিতে বি’চারপতি কৃষ্ণা দীক্ষিত বলেন, ‘অ’ভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, ধ’র্ষণের পর তিনি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। একজন ভারতীয় মহিলা এটা করতে পারেন না। আমাদের মেয়েরা ধ’র্ষিত হওয়ার পর এমন আ’চরণ করেন না।
গত দু বছর ধরে নিগৃহীতার অফিসেরই কাজ করতেন অ’ভিযুক্ত। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সে মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল বলে অ’ভিযোগ। তার অ’পরাধের একাধিক প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করে জামিন নাকচের আবেদন জানিয়েছিলেন সরকারপক্ষের আইনজীবী। অ’ভিযুক্তকে জামিন দেওয়া হলে, তদন্তে ভুল পথে চালিত হতে পারে বলেও আদালতে জানিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দেয় কর্নাটক হাইকোর্ট। উৎস: এই সময়




