329211

ইমদাদুল হক মিলনকে তারেক রহমানের লিগ্যাল নোটিশ

নিউজ ডেস্ক।। দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলনকে আ,ইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্বাস্থ্য খাতে দু’র্নীতি নিয়ে হাওয়া ভবন ও তারেক রহমানকে জড়িয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় মানহানির অ’ভিযোগে আজ মঙ্গলবার এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের পক্ষে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এ নোটিশ পাঠিয়েছেন। রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রিপোর্টটিতে তারেক রহমান ও হাওয়া ভবন নিয়ে দেওয়া তথ্য অসত্য দাবি করে নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্টের সত্যতার প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে। প্রমাণে ব্যর্থ হলে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পত্রিকায় আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আই’নগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নোটিশে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, গত ২৩ জুন দৈনিক কালের কণ্ঠের অনলাইন ভার্সনে জনৈক ব্যক্তির রেফারেন্সে তারেক রহমান ও হাওয়া ভবনকে জড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতে দু’র্নীতি শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মা’নহানি হয়েছে এবং তার সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন ‘মন্ত্রীদের ছেলেরাই গডফাদার মিঠুর ভরসা, তাই তিনি ছেলে ধরা’ শিরোনামে কালের কণ্ঠ পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘স্বাস্থ্য খাতে যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটার নিয়ন্ত্রণ যে ব্যক্তিটি নিজের হাতে বছরের পর বছর ধরে রেখেছেন তিনি ঠিকাদারি সাম্রাজ্যের গ’ডফাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। গা বাঁ’চাতে সাত বছর ধরে কিছুটা পর্দার আড়ালেই আছেন তিনি। কিন্তু প্রতাপ ধরে রেখেছেন ঠিকই। কেনাকাটার বাইরে স্বাস্থ্য খাতের সরকারি পর্যায়ে বদলি-নিয়োগেও রয়েছে তাঁর সমান নিয়ন্ত্রণ। পেছনের কারণ হলো- হাওয়া ভবন থেকে মিন্টো রোড, মহাখালী থেকে সচিবালয়, মন্ত্রীর দপ্তর থেকে বাসায় অগাধ যাতায়াত তার। যুগের কিংবা সরকারের বদল হলেও তাঁর কোনো অসুবিধাই হয় না। নিজের সিন্ডিকেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোতে বসানো এবং অপছন্দের লোকদের অন্যত্র বদলি করানোর কাজও নিয়মিত করে ফেলছেন নানা প্রভাব খাটিয়ে। পালিয়ে থেকে দিব্যি সি’ন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন।

গত ৩০ মে জনপ্রশাসনসচিবের কাছে লেখা এক চিঠিতে এই মিঠুসহ আরো বিভিন্ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদউল্লাহ। মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর একসময়ের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মিঠুর এত প্রভাবের খুঁটির জোর কোথায়? সে কেন সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। এর জবাব মন্ত্রীদের ছেলেরাই মিঠুর ভরসা। তাই আমরা তাকে সব সময় ‘ছেলেধরা মিঠু’ বলেই ডাকতাম। কেবল স্বাস্থ্যমন্ত্রীই নন, আরো কয়েকজন মন্ত্রীর ছেলেদের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে বাণিজ্যিক কারণেই।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর কৌশলে একজন মন্ত্রীর ছেলের বন্ধু হয়ে মিঠু ঢুকে পড়েন মিন্টো রোডের বাসভবন থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর একান্ত কামরায়। বলা হয়ে থাকে, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেনাকাটার সব কিছুই ছিল এই মিঠুর নিয়ন্ত্রণে। তৎকালীন ওই মন্ত্রীর ছেলের সঙ্গে মিলে প্রয়োজন থাকুক বা না থাকুক, কোথায় কোন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে না হবে, প্রাক্কলন তৈরি থেকে শুরু করে বিল তৈরি পর্যন্ত সব কিছুই বেশির ভাগ সময় মন্ত্রীর মিন্টো রোডের বাসায় অথবা মিঠুর অফিসে ঠিকঠাক হতো। মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তাঁর সুবিধাভোগী কর্মচারীরা ফাইল নিয়ে ছোটাছুটি করতেন ওই দুই জায়গায়। যাঁরা তাঁকে সহায়তা করতে বিলম্ব করতেন কিংবা অপারগতা দেখাতেন তাঁদেরই পড়তে হতো বদলি বা বিভিন্ন ধরনের বিভাগীয় শাস্তির কবলে। এসব প্রক্রিয়ায় দরপত্র তৈরি ও বিল প্রস্তুতের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দর দেখিয়ে চলত কেনাকাটা। নিজের ১৫-১৬টি প্রতিষ্ঠানসহ সহযোগীদের নামে থাকা ঠিকাদারি লাইসেন্স দিয়ে চলত এসব দুর্নীতির উৎসব।

মিঠুর ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, মিঠু বর্তমানে আমেরিকা ও সিঙ্গাপুর যাতায়াত করে সেখান থেকেই বাংলাদেশে তাঁর সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। তাঁর মূল প্রতিষ্ঠান লেক্সিকনের ঠিকানা পরিবর্তন করে গুলশানে নেওয়া হয়েছে। তাঁর এই অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীও পরিবর্তন হয়েছে এর মধ্যেই। সেই সঙ্গে তাঁর পুরনো যে প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে নানা দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, সেই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দিয়ে অন্য নামে আরো কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন বলেও ওই প্রক্রিয়ায় যুক্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগের পরবর্তী মেয়াদে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে সশরীরে যাতায়াত কমে যায় মিঠুর। এমনকি দুদকের মামলার পর গাঢাকা দেন তিনি। বেশির ভাগ সময় কাটে দেশের বাইরে। তবে ভেতরে ভেতরে নিজের সিন্ডিকেটের লোকজনকে যতটা সম্ভব সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকে। অভিযোগ রয়েছে, এ ক্ষেত্রেও বর্তমান একজন মন্ত্রীর ছেলেকে হাত করে সিন্ডিকেট সক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। আর এরপরই সিন্ডিকেটের ভেতরে থাকা বিভিন্ন ঠিকাদার, কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে এক ধরনের ভাঙা-গড়া তৈরি হয়। পুরনো অনেককেই বাদ দিয়ে জায়গা দেওয়া হয় নতুন অনেককে। তাঁর রোষানলে পড়া পুরনো ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেমন অনেকে বদলি হয়েছেন আবার অনেকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির আওতায় এসেছেন।

স্বাস্থ্য খাতের একাধিক সূত্র জানায়, মিঠুর একসময়ের ‘ডান হাত’ বলে পরিচিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মচারী আবজাল ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ আয় ও সম্পদের ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হলে ফাঁস হয়ে যায় ওই দম্পতির প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার মালিকানার বিষয়টি। দুদক ওই সূত্র ধরেই একে একে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের ৪৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্তকাজ শুরু করে। পরে পর্যায়ক্রমে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা কার্যক্রম শুরু হয়। কয়েকজন গ্রেপ্তার হন, কেউ কেউ বদলি হন।

এসব বিষয়ে মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর বক্তব্য নেওয়ার জন্য দুই দিন ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি। গতকাল সোমবার রাতেও একাধিকবার তাঁর ফোন নম্বরে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।’ উৎস: কালের কণ্ঠ।

ad

পাঠকের মতামত