অভাবের কারণে নবজাতক বিক্রি, মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলো পুলিশ
নিউজ ডেস্ক।। ঢাকার ধামরাই উপজেলায় অভাবের তাড়নায় এক নবজাতককে বিক্রির তিন দিন পরে বিশেষ অ’ভিযান শেষে উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর নবজাতকটিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নবজাতককে বিক্রি ও কেনার অভিযোগে রাবেয়া ক্লিনিকের এক নার্সসহ তিনজনকে আ’টক করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার দুপুরে পুলিশ সাভার এলাকায় অ’ভিযান চালিয়ে নবজাতকে উদ্ধার করেছে।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ধামরাই সুতিপাড়া ইউনিয়নের বাটারখোলা এলাকার সোনালী বার্তা গুচ্ছ গ্রামের মৃত বাবুল হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগম প্রসব বেদনা নিয়ে উপজেলার ডাউটিয়া এলাকার রাবেয়া মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য আছিয়া বেগমের সাহায্য নিয়ে ভর্তি হন। পরে তিনি হাসপাতালে একটি ছেলে শিশুর জন্ম দেন।
সংসারে অভাব থাকার কারণে তার নবজাতকে বিক্রি করতে চান তিনি। তার আরও দুটি সন্তান রয়েছে। পরে ওই হাসপাতালের নার্স সাদিয়া খাতুনের কথামতো এক দম্পতির কাছে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।
নবজাতক বিক্রির বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হলে ওই হাসপাতালের নার্স সাদিয়াকে গত রোববার হাসপাতাল থেকে দুপুরে আটক করে পুলিশ। ওই নার্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিন দিন অভিযান চালিয়ে আজ দুপুরে সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকা থেকে ঔই নবজাতকটিকে উদ্ধার করে।
এ সময় ওই নবজাতককে কেনার অ’ভিযোগে হেলাল উদ্দিন (৪০) ও তার স্ত্রী সাথী আক্তার (৩০) নামের এক দম্পতিকে আটক করে পুলিশ। নবজাতকটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ।
ওই নারীর ৮ বছরের এক মেয়ে ও ৫ বছরের আরও একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ওই নারী সরকারি গুচ্ছ গ্রামে ভাড়া থাকলেও তিনি কোনো সরকারি ঘর পাননি। সন্তানদের মানুষ করার জন্য তিনি সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। এদিকে নবজাতকটিকে উদ্ধারের পরে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় ধামরাই থানার দুই পুলিশ নবজাতকের মাকে কিছু নগদ টাকা সাহায্য করেন বলে জানা যায়।
নাজমা বেগম জানান, দুই মাস আগে তার স্বামী মা’রা গেছে। আগে তার দুই সন্তান রয়েছে। সংসারে অভাব তাই তিনি নবজাতককে বিক্রি করেছিল। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো ত্রাণ পাননি বলেও জানান।
তিন সন্তান নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবেন, এমন প্রশ্ন ওই নারীর।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ‘নবজাতকের মাকে সরকারিভাবে সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করা হবে। আর তিনি যাতে গুচ্ছ গ্রামে একটি ঘর পান সে বিষয়েও চেষ্টা করা হবে। যেহেতু সন্তান বিক্রি করা আ’ইন বিরোধী। তাই এর সাথে জড়িতদের বি’রুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ওসি আরও বলেন, ‘নবজাতক বিক্রির ঘটনায় থানায় মাম’লা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত তিনজন আ’সামিকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে।’




