328169

শ্বশুর-শাশুড়িকে নি’র্যাতন, পুলিশ আসায় ‘পা ধরে ক্ষমা’ চাইলেন পুত্রবধূ

নিউজ ডেস্ক।। বৃদ্ধ দম্পতি খোরশেদ আলী (৯০) ও তার স্ত্রী আয়শা খাতুন (৭৫)। একটি ছাপড়া ঘরে তাদের বসবাস। সংসারে ছিল তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। বাড়ি নাটোর গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের দুর্গাপুর মধ্যমপাড়া গ্রামে।

ওই দম্পতির সন্তানরা যে যার মতো আলাদা থাকেন। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় দুই ছেলে অন্য জেলায় বসবাস করেন। ছোট ছেলের সঙ্গে থাকেন তারা। শ্বশুর-শাশুড়ি দুজনই বৃদ্ধ হওয়ায় মাঝে মধ্যেই তাদের নি’র্যাতন করেন ছেলের স্ত্রী। বাড়ির জায়গাটুকু ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের। খেয়ে-না খেয়ে দুঃখ কষ্টে চলে তাদের সংসার।

পুত্রবধূর নি’র্যাতনের শি’কার হয়ে গতকাল সোমবার গুরুদাসপুর থানায় অ’ভিযোগ দেন খোরশেদ আলী। স্ত্রীকে নিয়ে থানায় গিয়ে তিনি অ’ভিযোগ এ জানান। এ খবর জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাহারুল ইসলাম।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে একদল পুলিশ সদস্য নিয়ে বৃদ্ধ খোরশেদের বাড়িতে যান ওসি। ওই বৃদ্ধ দম্পতির হাতে নগদ অর্থসহ খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ওসি মোজাহারুল ইসলাম খোরশেদের বাড়িতে গিয়ে অ’ভিযুক্ত ছেলের বউকে জেরা করেন। তিনি ওসির সামনে শ্বশুর-শ্বাশুড়ির পা ধরে ক্ষমা চান। প্রতিবেশীদের অনুরোধে তাকে প্রথমবারের মতো ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’

ওসি মোজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘বৃদ্ধ দম্পতি থানায় এসে নিজের ছেলের স্ত্রীর সম্পর্কে অভিযোগ দায়ের করেছেন বিষয়টি আমার কাছে খুবই বেদনাদায়ক মনে হয়েছে। আমি তাদের সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি। ভবিষ্যতে তাদের ছেলের স্ত্রী এমন কোনো সমস্যা সৃষ্টি করলে আ’ইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

ad

পাঠকের মতামত