328173

স্বামীর গলায় অ’স্ত্র ঠেকিয়ে গৃহবধুকে পালাক্রমে ধ’র্ষ’ণ!

নিউজ ডেস্ক।।  চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীবেষ্টিত দুর্গম একটি চরে এক গৃহবধু সং’ঘব’দ্ধ ধ’র্ষ’ণের শি’কার হয়েছেন। এই ঘটনার পর দুইদিন ধরে অবরুদ্ধ ছিলেন ধ’র্ষিতা’র পরিবার। পরে তারা চর থেকে কৌশলে পালিয়ে আসেন জেলা শহরে।

ধ’র্ষি’তা গৃহবধুকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে চলছে তার চিকিৎসা। ঘটনায় জড়িত ৬ ধ’র্ষক’দের বি’রুদ্ধে থানায় মা’মলা দায়ের করা হয়েছে।

চাঁদপুর সদরের পদ্মা ও মেঘনা নদীবেষ্টিত রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের দুর্গম লক্ষ্মীরচর। গত রবিবার ভোররাতে একদল দু’র্বৃত্ত, জেলে পরিবারের এই গৃহবধুর ঘরের দরজা ভে’ঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে গৃহবধুর স্বামীর গলায় ধারালো অ’স্ত্র ঠেকিয়ে একেক করে ৬ জনে পালাক্রমে ধ’র্ষণ করে। ধ’র্ষকরা যাওয়ার সময় স্বামীসহ গৃহবধুকে হু’মকি দিয়ে যায়। এই ঘটনা কাউকে জানালে গোটা পরিবারকে গু’ম করা হবে। শুধু তাই নয়, কোথাও গিয়ে যেনো চিকিৎসা না নিতে পারে। তার জন্য অ’বরুদ্ধ করে রাখা হয় নি’র্যাতিতা গৃহবধুর পরিবারটিকে।

শেষপর্যন্ত সোমবার রাতে কৌশলে চর থেকে পালিয়ে চাঁদপুর শহরে পৌঁছে পরিবারটি। এ সময় সদর মডেল থানায় গিয়ে পুরো ঘটনা খুলে বলেন তারা। পরে পুলিশের সহযোগিতায় চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নি’র্যাতিতাকে ভর্তি করা হয়।

ওই গৃহবধু জানান, একই এলাকার ফিরোজ (২২), সবুজ (২৫), বাবু (২৩), মোস্তফা (২১) এবং মুখোশপড়া আরো ২ জন। এই চারযুবক তাদের ঘরের দরজা ভে’ঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় কিছু বুঝে উঠার আগেই যুবকদের একজন গৃহবধূর স্বামীর গলায় ধারালো অ’স্ত্র ঠেকিয়ে দেয়। পরে পালাক্রমে তাকে ধ’র্ষণ করে। যাওয়ার সময় যুবকরা হুম’কি দিয়ে যায়। এমন ঘটনা কাউকে জানালে গোটা পরিবার গু’ম করে ফেলে দেওয়া হবে। এরপর বিনা চিকিৎসায় দুইদিন অ’বরুদ্ধ ছিলেন ধ’র্ষিতার পরিবার। পরে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় কৌশলে পালিয়ে আসেন শহরে। এখানে সদর মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় গৃহবধুকে।

ঘটনার শিকার গৃহবধূর স্বামীও সেই ব’র্বরতার কথা জানান। তিনি বলেন, চরের সাতপাঁচে নেই তিনি। নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। বিনা কারণে তার স্ত্রীর ওপর এমন বর্বরতা হয়েছে। হু’মকির কারণে ফের চরে যেতে ভ’য় পাচ্ছেন তিনি। ঘটনার বিচার দাবি করে অ’ভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তি জানান তিনি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, লক্ষ্মীরচরে গতকিছু দিন ধরে গাজী ও বকাউল গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপাত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং লুটপাট চলছে। এরমধ্যে এই দুই পক্ষের মারামারিতে গাজী বংশের লোকমান হোসেন একজন মা’রা যান। আর সেই দ্বন্দ্বের প্র’তিশোধ নিতে গাজী গোষ্ঠীর বখে যাওয়া যুবকরা নিরীহ এই পরিবারের গৃহবধুর ওপর ওপর এমন নি’র্যাতন করেছে।

তবে এই নিয়ে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে এই নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

থানায় মা’মলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের তৎপরতার কথা জানান চাঁদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদ পারভেজ চৌধুরী। তিনি জানান, মা’মলাটি তদন্ত এবং আ’সামিদের দ্রুত গ্রে’প্তারে’র জন্য সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) হারুনুর রশিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ধ’র্ষিতার চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পর্কে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুজাউদৌলা রুবেল জানান, নি’র্যাতিতার শারীরিক অবস্থা এখন বেশ স্থিতিশীল। র্ধ’ষণের আলামত নিশ্চিত হবে তার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। উৎস: কালের কণ্ঠ।

ad

পাঠকের মতামত