কুমিল্লায় করোনা: মেডিকেল থেকেই ছড়াচ্ছে সং’ক্রমণ!
নিউজ ডেস্ক।। কুমিল্লায় ভ’য়াবহ হারে বাড়তে থাকা নভেল করোনাভাইরাসের সং’ক্রমণ ছড়াচ্ছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে। হাসপাতালে স্থাপিত করোনা ওয়ার্ডে অবাধে ঢুকছেন রোগীর স্বজন ও বহিরাগতরা।
পৌঁছে দিচ্ছেন ওষুধ-খাবার। এমনকি সেখানে করোনার সং’ক্রমণ-উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া রোগীর ম’রদেহও বয়ে নিতে হচ্ছে স্বজনদের। এগিয়ে আসছেন না হাসপাতালের কেউ। এতে করে কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা সং’ক্রমণ। যা দিন দিন বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।
করোনা ওয়ার্ডে রোগীদের স্বজন ও সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াতে কমিউনিটিতে করোনা সং’ক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আ’শঙ্কার সাথে একমত পোষণ করেছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, জনবল না থাকার কারণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছি না। চল্লিশ জনের মতো চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মী করোনায় আ’ক্রান্ত। তাই কোভিড ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষ ঢুকে যাওয়া রোধ করা যাচ্ছে না। তবে যেহেতু করোনা সং’ক্রমণের বিষয়টি ছোঁয়াচে, তাই এ ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের প্রবেশে সং’ক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আ’শঙ্কা থেকেই যায়।
গত কয়েকদিন সরেজমিনে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, জেলা ও জেলার বাইরে থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ করোনার সং’ক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার জন্য আসছেন। কিন্তু হাসপাতালে আসার পরও রোগীর যাবতীয় বিষয় দেখভাল করছেন স্বজনরা। হাসপাতালের কাউকেই তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। এমনও চিত্র চোখে পড়েছে, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্তরা দূরে দাঁড়িয়ে দেখছেন রোগীর স্বজনরা স্পর্শকাতর এলাকায় কাজ করছেন।
এমনকি কোভিড ওয়ার্ডে মা’রা যাওয়া ব্যক্তির মরদেহও সাধারণ মৃতের মতো একটি ট্রলিতে করে কোনো প্রকার স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়াই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনরা।
এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে কোভিড ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর মেডিকেলের সামনের দোকানে বসে আড্ডা দেয়ার খবরও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি কোভিড ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে এসে আইসিইউ সেবা না পেয়ে সেখানে ভা’ঙচুরও চালিয়েছেন রোগীর স্বজনরা। গত সোমবার (১৫ জুন) সকালে ঘটে এ ঘটনা।
পরে হাসপাতালের অন্য রোগীর স্বজনেরা তিন জনকে পুলিশে সোপর্দ করলেও পরে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।
ওই সময় হাসপাতালের পরিচালক চিকিৎসক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আইসিইউতে শয্যা আছে ১০টি। সেগুলোতে আগে থেকেই রোগী ভর্তি আছে। ওইদিন চৌদ্দগ্রামের একরোগী ও তার স্বজনেরা পিপিই পরে হাসপাতালের আইসিইউতে ঢুকে পড়েন। হাসপাতালের কর্মচারী ও চিকিৎসকেরা মনে করেছিলেন, কোভিড-১৯ হাসপাতালের লোকজনই তাদের এখানে ঢুকতে দিয়েছেন। কিন্তু রোগী মা’রা যাওয়ার পর তারা ভাঙচুর শুরু করে। পরে ৩ জনকে আ’টক করা হলেও তাদের বাবা মারা যাওয়ায় মানবিক কারণে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৩ জুন কুমিল্লা মেডিকেলে কভিড-১৯ হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়। ১৫৪ শয্যার এ হাসপাতালের মধ্যে ১৩৪ শয্যায় কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ করা আছে। ১০ শয্যার আইসিইউ এবং ১০ শয্যার রোগীকে সিলিন্ডারে অক্সিজেন দেয়ার ব্যবস্থা আছে। উৎস: সময়টিভি।






