অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছিল সেলুনে!
নিউজ ডেস্ক।। অবৈধভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত ও বি’ক্রির অ’ভিযোগে রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের মাইশা কেয়ার লিমিটেড নামক নার্সিংহোম ও তেজগাঁওয়ের কলোনী বাজার মার্কেটে (হকার্স মার্কেট) অ’ভিযান চালিয়েছেন র্যাবের ভ্রম্যমাণ আ’দালত।
ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদা’লতে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে কলোনী বাজার মার্কেটে দেখা যায়, অনুমোদন না নিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত বিক্রি ও ভাড়া দেয়া হচ্ছে। অভিযাকালে সেলুন মালিকসহ তিন জনকে মোট ১১ লাখ টাকা জরি’মানা করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে শতাধিক সিলিন্ডার।
পলাশ বসু বলেন, কলোনী বাজারের মেসার্স তাহের এন্টারপ্রাইজ মূলত এলপি গ্যাসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তারা কোভিড-১৯ এর সুযোগ নিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের অনুমোদন না নিয়ে এলপি গ্যাসের আড়ালে অক্সিজেন সিলিন্ডারও বিক্রি ও ভাড়া দিচ্ছিল।
অক্সিজেন সিলিন্ডার মূলত এক ধরনের ড্রা’গ, যা ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের অনুমোদন ছাড়া মজুত বা বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি অ’বৈধভাবেই তা করছিল। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবু তাহের কোরাইশিকে ৫ লাখ টাকা ও সহযোগী ইয়াসিনকে ৩ লাখ জ’রিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া অ’ভিযানকালে কলোনী বাজারের পাশে একটি সেলুনের ভেতরে বিক্রির জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত করে রাখতে দেখা যায়। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেও তার আড়ালে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি এক ধরনের প্র’তারনা। এজন্য সেলুন মালিক গোকুলকে দুই লাখ টাকা জ’রিমানা করা হয়েছে। একই অ’ভিযোগে একই মার্কেটের এসএসকে এন্টারপ্রাইজ নামক অপর প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জ’রিমানা করা হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু বলেন, এসএসকে এন্টারপ্রাইজ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবসা করলেও অ’ভিযানকালে সেখানে মেডিকেল অক্সিজেন দেখা যায়। অনুমোদন, বিশেষজ্ঞদের মতামত ও বি’শষজ্ঞ টেকনিশিয়ান ছাড়া এগুলো বিক্রি করা হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানের মালিক ইমাম হোসেন শাকিল স্বীকার করেছেন, সম্প্রতি তিনি মেডিকেল সিলিন্ডার বিক্রির জন্য মজুত করেছিলেন। প্রথমবারের মতো স’তর্কতার জন্য শাকিলকে এক লাখ টাকা জ’রিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জব্দ সিলিন্ডারগুলো আসলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেন না মেডিকেল অক্সিজেন সেটা আমরা কেউ জানি না। যেহেতু যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেই, সেজন্য বিশ্বাস করারও কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া যদি কোনোভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডারের কথা বলে ভেতরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেন ঢোকানো হয়, তাহলে বাসাবাড়িতে দু’র্ঘটনার আ’শঙ্কা থাকে। রোগীর সুস্থতার চেয়ে অসুস্থতা বেশি কিংবা ই’নফেকশন বেশি হতে পারে।
পলাশ বসু বলেন, সকালে গুলশানে পৃথক অভিযানকালে দেখা যায়, মাইশা কেয়ার মূলত নার্সিং সেবা দিয়ে থাকে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রসূতি নারী কিংবা অসুস্থ ব্যক্তিদের সেবা দেয়াই তাদের কাজ। কিন্তু কোভিড-১৯ এ সং’ক্রমিত ক্রিটিক্যাল পেশেন্টদের অক্সিজেন সিলিন্ডারের অভাবের সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে বিকল্প ব্যবসা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের অনুমোদন না নিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত করে। প্রচার প্র’চারণা-চালায় যে তারা কোভিড-১৯ এ গুরুতর অসুস্থ রোগীদের আইসিইউ সেবা দিচ্ছে। অক্সিজেন সিলিন্ডার ভাড়া এবং বিক্রি করছেন।
বিষয়টি জানতে পেরে অ’ভিযান চালানো হয়। এ সময় অর্ধশত অক্সিজেন সিলিন্ডার জব্দ এবং প্রকৃত মূল্যের চেয়ে তিনগুণ বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মহিবুল ইসলামকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার কাম হিসাবরক্ষক শাহাদাত হাবিবকে ৪ লাখ টাকা জ’রিমানা করা হয়েছে।






