326508

ওয়েব সিরিজ নাকি সেমিপ’র্নো

নিউজ ডেস্ক।। এই প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে ওয়েব সিরিজ। আর এটাকে পুঁজি করে ওয়েব সিরিজ নির্মাণের প্রবণতা বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যৌ’ন’তার পসরা প্রদর্শন। কারণ এতে নেই সেন্সরের কাঁচি।

নেই কোনো প্রকার নির্দেশনা। ফলে একদল নির্মাতা শ্রেণি ওয়েব সিরিজের নামে চূড়ান্ত ভা’য়ো’লেন্স ও উ’দ্দাম ন’গ্ন’তা ফুটিয়ে তুলছেন, সামাজিকতার মাত্রা ছাড়িয়ে নির্মাণ করে ফেলছেন সে’মিপ’র্নো। মূলধারার অভিনয়শিল্পীরাও উদ্দাম যৌ’ন’তার প্রদর্শন করে যাচ্ছেন। এতদিন যেসব তারকাকে দেখা গেছে শা’লীন, নম্রÑ তারা এখন যৌ’ন সু’ড়সু’ড়ি দেওয়া দৃশ্যে অ’শালীন ও হিং’স্রভাবে হাজির হচ্ছেন দর্শকের সামনে।

যদিও এসব অভিনয়শিল্পী এবং নির্মাতা বলছেন, গল্পটাই আসলে এমন। থাকছে কিছু অ’সামা’জিক সং’লাপ, দৃশ্য এবং স’হিংস’তা। দর্শক টানতে আর ধরে রাখতে বিদেশি অনুষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এসব নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতাই নাকি করতে হয় তাদের। তাই গল্পের প্রয়োজনে ছাড় দেন না। ফলে খোলামেলা উপস্থিতি স্বাভাবিক ঘটনা।

শুরু করা যাক সম্প্রতি আলোচিত একটি ওয়েব সিরিজ নিয়ে। আদনান ফারুক হিল্লোল ও নাজিয়া হক অর্ষা অভিনীত ওয়েব সিরিজের নাম ‘বুমেরাং’। মুক্তি পেয়েছে ঈদে। সিরিজের শুরুটা দেখেই অনেকের চোখ কপালে উঠেছে। বাংলাদেশি প্রথম সারির অভিনয়শিল্পীদের এত নিবিড় বিছানার দৃশ্য! এর আগে কখনো দেখানো হয়েছে? এটা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রশ্ন চালাচালি।

যদিও সিরিজটির নির্মাতা ওয়াহিদ তারেক বলেন, ‘আমরা গল্পের বাইরে কিছুই দেখাইনি। আমাদের তিনটি স্টোরির বেসিক জিনিস হচ্ছে কারমা। এখন কারমার ব্যাপারে ভায়োলেন্স বলেন, সে’ক্স বলেন, খুব বেশি কাটছাঁট করিনি। আদিরস নিয়ে যখন কাজ করছি, সেভাবেই তাকে গল্পে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। যে যেভাবে দেখবেন, সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি গল্পের বাইরে গিয়ে কোনো অ’শ্লীল’তা দেখাইনি।’ যদিও অনেক নির্মাতা বিষয়টাকে মোটেও ভালোভাবে দেখছেন না। একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আজ দুপুরে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশের একটি ওয়েব সিরিজ দেখতে বসেছিলাম।

প্রথম পর্বের শুরুর ৪/৫ মিনিটেই যা দেখাল! আমার মাথায় হালকা একটা ‘চক্কর’ দিয়ে উঠল। কাহিনির প্রয়োজনে শয্যাদৃশ্য (আমার ভাষার জন্য দুঃখিত), নাকি শয্যাদৃশ্যের প্রয়োজনে কাহিনিÑ এ নিয়ে এখনো এক বিরাট ধাঁধার মধ্যে আছি। এই ধাঁধা যে কবে কাটবে কে জানে!”

গত ২৭ মে অনলাইনে মুক্তি পেয়েছে ‘সত্য ঘটনা অবলম্বনে’ শিহাব শাহীন পরিচালিত ক্রাইম থ্রিলার ওয়েব সিরিজ ‘আগস্ট ১৪’। গল্প থেকে বোঝা যায়, ঐশী নামের বখে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ের গল্প এটি। ২০১৩ সালের আলোচিত সেই ঘটনা নিয়েই নির্মিত হয়েছে সিরিজটি। এই ধারাবাহিকে তুশি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাসনুভা তিশা।

সেখানে দেখা যায়, বন্ধুদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, বাসায় একা নীল ছবি দেখার মুহূর্তসহ নানা দৃশ্য। থ্রিলারের শুরুতেই বলে নেওয়া হয়, এটি ১৮ বছরের কম বয়সী দর্শকের জন্য নয়। এই সিরিজে আরও অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, শতাব্দী ওয়াদুদ, মনিরা মিঠু, শাওন, তানভীর প্রমুখ। তাসনুভা তিশা বলেন, ‘ওখানে গল্পের বাইরে কিছু ছিল না।

আমরা চেষ্টা করেছি যতটা সম্ভব ডিসেন্টলি কাজ করতে, তার চেয়েও কম এক্সপোজড করতে। দৃশ্যগুলো যেন দর্শকের ভালগার মনে না হয়। অসংলগ্নটা হয়তো কিছুটা ছিল। ভাষার ব্যবহার বা অন্য যা-ই বলি, সেগুলো চরিত্রের জন্য করতে হয়েছে। যেটা আমি নরমালি নাটকের জন্য কখনো করি না। এখন কেউ যদি নেগেটিভ কিছু বলেন, এমনিতেও বলবেন। কিছু না হলেও বলবেন। অনেকেই খুব প্রশংসা করেছেন। এগুলো নিয়ে আমি চিন্তিত নই।’

“আলোচনা বা প্রশংসা নয়, সমালোচনা ও বিতর্ক দিয়েই বাংলাদেশে ‘ওয়েব সিরিজ’-এর যাত্রা। ইতিবাচকতা নয়, নেতিবাচকতা দিয়েই ওয়েব সিরিজের দৃষ্টি আকর্ষণ। এমনকি কপালে জনপ্রিয়তার তকমা সাঁটার আগেই সেঁটে গেছে যৌ’নতা, অ’শ্লীলতার তকমা। অ’শ্লীলতা মাত্রই কেবল নিন্দনীয় নয়, একই সঙ্গে দ-নীয়। ওয়েব সিরিজের কিছু ভিডিওতে যৌনতার যে দৃষ্টিকটু বাণিজ্যিক সমীকরণ বা অ’শ্লীলতার যে স্যাঁতসেঁতে ব্যাকরণ ধরা পড়ে, তা প্রচলিত একাধিক আ’ইনে অ’পরাধ।”

এমনটা বলেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আফতাব উদ্দিন ছিদ্দিকী রাগিব। এদিকে ভারতে সম্প্রতি অনেক বিচারপতি সরব হয়েছেন ওয়েব সিরিজের বি’রুদ্ধে। আপত্তি তুলেছেন ওয়েব সিরিজে ন’গ্নতা, যৌ’নতা ও হিংসা প্রদর্শনের বিষয়ে। জানা গেছে, আইনজীবী দিব্যা গোন্টিয়া ওয়েব সিরিজে যথেচ্ছ হিংসা ও যৌ’নতা প্রদর্শনের বিষয়ে একটি জনস্বার্থ মা’মলা দায়ের করেন। তার বক্তব্যÑ ‘যেসব ওয়েব সিরিজ দেখানো হচ্ছে, তার অনেকগুলোতেই প’র্নোগ্রা’ফিক কন্টেন্ট রয়েছে। যেখানে টিভি, সংবাদপত্র, সিনেমা ইত্যাদির প্রতি নজরদারি করার বন্দোবস্ত রয়েছে, সেখানে ওয়েব সিরিজ ছাড় পাবে কেন?’ আমাদের সময়।

ad

পাঠকের মতামত