325525

এমপি এনামুলের তালাক দেয়া দ্বিতীয় স্ত্রী লিজার বি’রুদ্ধে মা’মলা

নিউজ ডেস্ক।।  গত কয়েকদিন ধরে রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের বি’রুদ্ধে গোপনে বিয়ে করে প্র’তারণা ও অনাগত সন্তান হত্যার অ’ভিযোগ করেছিলেন আয়েশা আক্তার লিজা নামের এক নারী।

এসব অ’ভিযোগ তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন তিনি।এবার সেই লিজার বি’রুদ্ধেই মা’মলা হয়েছে। সাংসদের পক্ষে মা’মলাটি করেছেন তার একান্ত সহকারী ও বাগমারা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ।

লিজা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবি দিয়ে বি’চার চাওয়ায় এর আগে সংসদ সদস্য এনামুল তাকে তালাক দেন। এবার তার বি’রুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আ’ইনে মা’মলা হলো। মা’মলাটি হয় রাজশাহীর বাগমারা থানায়।

বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর সাংসদ এনামুল হকের পক্ষে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ও চাঁদা দাবির অ’ভিযোগ এনে মা’মলাটি দায়ের করেছেন তার একান্ত সহকারী আসাদুজ্জামান আসাদ। এতে আ’সামি করা হয়েছে এনামুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী আয়েশা আক্তার লিজাকে।

মা’মলায় বলা হয়েছে, আয়েশা আক্তার লিজাকে তালাক দেওয়ার পর তিনি তার স্বামী সাংসদ এনামুল হকের কাছে নিজের ব্যাংক লোনের এক কোটি টাকা পরিশোধের জন্য চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবি দিয়ে সাংসদ এনামুল হকের বি’রুদ্ধে অ’পপ্রচার চালিয়ে তার সুনাম ক্ষু’ন্ন করেছেন।

পুলিশ লিজাকে গ্রে’প্তারের চেষ্টা করছে বলে জানান বাগমারা থানার ওসি।

মা’মলা প্রসঙ্গে সাংসদ এনামুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী আয়েশা আক্তার লিজা বলেন, আমাকে পুলিশ দিয়ে গ্রে’প্তার এবং মেরে ফেলার হু’মকি দেওয়া হচ্ছিল। তার অংশ হিসেবেই আমার নামে মি’থ্যা মা’মলা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আ’ইনগত আমি এখনো সাংসদ এনামুল হকের বৈধ স্ত্রী। আমাকে তালাকের প্রথম নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। এখনো নোটিশ হাতে পাইনি। পরপর তিনটি নোটিশ তিন মাসে আসার পর তালাক চূড়ান্ত হয়। আমাকে তালাক দেওয়ার বিষয়টি শুনতে পেয়ে আমি ন্যায় বি’চার চেয়ে আমার স্বামীর সঙ্গে ফেসবুকে ছবি দিয়েছি। এতে তার একার পক্ষে মান সম্মান ন’ষ্ট হবার কথা নয়। যেহেতু আমরা বৈধ স্বামী-স্ত্রী।

লিজা বলেন, ‘দীর্ঘ আট বছর বিয়ের নামে নাটক করে আমার সঙ্গে সে ঘর সংসার করেছে। এত বছর পর যখন স্বামীর স্বীকৃতি চাইলাম বাচ্চা চাইলাম তখন আমাকে তালাক দেওয়া হয়। আমার সঙ্গে নি’র্মম আ’চরণ, মানুষিক নি’র্যাতন ও আমার বাচ্চা ন’ষ্ট করা হয়। এসব বিষয় জনসম্মুখে আনার পরই এখন মা’মলা দেওয়া হলো। এভাবে আমার বি’চার চাওয়ার পথ এমপি এনামুল হক থামিয়ে দিতে চায়। আমাকে গ্রে’প্তার করা হলে আমার পক্ষে আর বি’চার চাওয়ার কেউ থাকবে না। এজন্যই মিথ্যা মা’মলা দেয়া হলো।’

তিনি অ’ভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর মহিলা আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিচা’র চাওয়ার কথা ছিলো আমার। এরপরই মা’মলা করার কথা ছিলো। কিন্তু নগর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা আমাকে ফোন করে ভ’য়’ভীতি দেখিয়ে মা’মলা করা এবং সংবাদ সম্মেলন না করার জন্য বলেন। বলা হয়েছিলো ২৪ ঘণ্টার মধ্য তিনি সমঝোতা করে দেবেন। কিন্তু আমাকে থামিয়ে এখন পরিকল্পিতভাবে মি’থ্যা মা’মলা দেওয়া হলো।

চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সাংসদ এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, আমি নাকি তাকে ব্লা’কমে’ইল করে চাঁ’দাবাজি করে ৫তলা বাড়ি করেছি। এরই প্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম, তাকে বিয়ে করার আগেই আমার ৩তলা বাড়ি ছিল। বিয়ের পর ব্যাংকে কোটি টাকার উপরে ঋণ নিয়েছি। এজন্যই এই অ’ভিযোগ এনেছে। অথচ এমপি এনামুল নিজেই আমাকে মেসেজ দিয়ে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে। সেই মেসেজ আমার কাছে এখনো আছে। আমিও তার নামে মা’মলা করবো।

এই মা’মলা’র বিষয়ে সাংসদ এনামুল হকের একান্ত সহকারী ও বাগমারা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদকে ফোন করা হলে তিনি সরাসরি কোন উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘আমি নামাজে আছি। পরে ফোন করেন।’ এরপর একাধিকবার ফোন করলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

মা’মলার পর সাংসদ এনামুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনিও ফোন ধরেননি। অবশ্য এর আগে তিনি বলেছিলেন, লিজা ব্লাকমেইল করে তাকে বিয়ে করেছে। বিয়ের পর চাঁ’দাবাজি করে সে ৫তলা বাড়ি করেছে।

এদিকে, আয়েশা আক্তার লিজা সাংসদ এনামুল হকের বি’রুদ্ধে বিয়ের নামে প্র’তারণা ও ভ্রুণ হ’ত্যার অ’ভিযোগ এনে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অ’ভিযোগ দিয়েছেন।

লিজার অ’ভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান দিল সেতারা চুনি বলেন, প্রতারণামূলক বিয়ে, বাচ্চা ন’ষ্ট করা এবং রাজনৈতিক কারণে বিয়ে গো’প’ন করতে বলে লিজার সাথে ঘর সংসার করেন এমপি এনামুল হক। পরে যখন সন্তান এবং স্বীকৃতি দাবি করেন, তখন লিজার স্বাক্ষর জা’ল করে একটি তালাকের কাগজ দেখান। এতে বলা হয় লিজাই তালাক দিয়েছেন। পরে বলা হয় এনামুল হক তালাক দিয়েছেন। এরপর থেকেই এনামুল হকের অনুসারীরা লিজাকে ভ’য়ভীতি দেখাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তারা নিজেরা দুজনই বিবাহিত ছিলেন। দুজনই বিয়ে করেছেন। এখন তাদের কাগজপত্র যাচাই করে ত’দন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাগজ পর্যালোচনা করছি আমরা। উৎস: পূর্বপশ্চিমবিডি

ad

পাঠকের মতামত