324615

বিক্ষোভে উ’ত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ ডেস্ক।। যুক্তরাষ্ট্রে নি’রস্ত্র এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে গ্রে’প্তারের পর পুলিশ কর্মকর্তা হাঁটু দিয়ে তার গলা চেপে মেরে ফেলে। নি’র্মম এই হ’ত্যা’কাণ্ড দেশটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বি’রুদ্ধে পুলিশের নৃ’শংসতার বিষয়টি সামনে এসেছে। এর প্রতিবাদে বি’ক্ষোভের আগুন জ্বলছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনোপোলিস শহরে।

দ্য গার্ডিয়ান গতকাল জানিয়েছে, বি’ক্ষোভের এই আ’গুন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে। নিউইয়র্ক, ডেনভার, শিকাগো ও অকল্যান্ড সবখানেই শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার সচেতন নাগরিকরা।

বিবিসি জানিয়েছে, টানা বি’ক্ষোভের তৃতীয় রাতে মিনোপোলিস শহরের পুলিশ স্টেশনে আগুন লাগিয়ে দেন বি’ক্ষোভকারীরা। জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকান্ডের পর থেকে শহরটির মানুষ বি’ক্ষোভ করছেন। এর আগেও শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় আ’গুন লাগিয়ে দেন তারা।

এদিকে বি’ক্ষোভকারীদের ‘গু’ন্ডা’ বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। তিনি হু’মকি দিয়েছেন, ‘লুট করলে শু’ট করব’। এমন হু’মকি টুইট করলে টুইটার কর্তৃপক্ষ ওই টুইটটি আড়াল করে দেয়। কদিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমটির সঙ্গে ট্রাম্পের বোঝাপড়ায় দ্ব’ন্দ্ব চলছে। এমনকি সামাজিক মাধ্যমগুলো নিয়ন্ত্রণে একটি নির্বাহী আদেশে এরই মধ্যে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এদিকে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, কৃষ্ণাঙ্গ হ’ত্যার প্রতিবাদে চলমান বি’ক্ষোভ সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গ্রে’প্তার হয়েছেন এক সাংবাদিক। বি’ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীর শত শত সদস্য মোতায়েন করলেও বিক্ষোভে ফুঁ’সে উঠছেন মানুষ।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ২৮ মে সকালে চলমান এই প্রতিবাদের সময় অন্তত একজন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন। মিনোপোলিসে একটি রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তা কর্মীর কাজ করতেন ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েড। গত ২৫ মে সোমবার সন্ধ্যায় সন্দেহভাজন প্রতারণার অভিযোগে ফোন পেয়ে পুলিশ তাকে গ্রে’প্তার করে। এরপর এক পুলিশ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে রাস্তায় মাটিতে ফেলে হাঁটু দিয়ে গলা চেপে হ’ত্যা করে তাকে।

এক প্রত্যক্ষদর্শীর তোলা ১০ মিনিটের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জর্জ ফ্লয়েড নিঃশ্বাস না নিতে পেরে কাতরাচ্ছেন এবং বারবার একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাকে বলছেন, ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।’ এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয় মুহূর্তেই।

এরপর প্রথম দিকে বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও এখন অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও তুমুল ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে তা সহিংস রূপ নিয়েছে। বি’ক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে মিনোপোলিস শহরের প্রধান পুলিশ স্টেশন পুড়ে গেছে। বিক্ষোভকারীদের দমাতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে পুলিশ।

বুধবার রাতে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অন্তত ১৬টি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে মিনোপোলিস অরাজকতা ঠেকাতে মেয়র জ্যাকব ফ্রের ব্যর্থতার কড়া সমালোচনা করেছেন।

নি’র্মম’ভাবে হ’ত্যাকান্ডের শিকার ফ্লয়েডের পরিবার তার মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনার কথা বললেও সরকার পক্ষের কৌঁসুলিরা বলছেন, তারা এখনো এ নিয়ে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ করছেন। ওই চার পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফ্লয়েডের নি’র্মম এই হত্যাকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে মৃত্যুর ঘটনার উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান সামনে এনেছে। মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে ১ হাজার ১৪ জন মা’রা গেছে।

বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, দেশটিতে পুলিশের গু’লিতে নি’হতদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশিরভাগই কৃষ্ণাঙ্গ। ‘ম্যাপিং পুলিশ ভায়োলেন্স’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার চালানো জরিপে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গু’লিতে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় তিনগুণ বেশি মা’রা যায় কৃষ্ণাঙ্গরা।

ad

পাঠকের মতামত