324580

লিবিয়ায় গু’লিতে নি’হতদের ৮ জন ভৈরবের

প্রবাস ডেস্ক।। ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন পুরণ হলো না ভৈরবের আট যুবকের। গত মঙ্গলবার লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে গু’লি করে হ’ত্যা করেছে স্থানীয় এক মানবপাচারকারীর পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আটজন নি”হত হয়েছেন। শুক্রবার (২৯ মে) তাদের নাম-পরিচয় জানা গেছে।

ভৈরবের নি’হত’রা হলেন, সাদেকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মিয়াচান মিয়ার বাড়ির মেহের আলীর ছেলে মো. আকাশ, মোটুপী গ্রামের খালপাড় এলাকার আব্দুল আলীর ছেলে সোহাগ মিয়া, কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামের জিন্নত আলীর ছেলে মাহাবুব, শ্রীনগর ইউনিয়নের শ্রীনগর গ্রামের বাচ্চু মিলিটারির ছেলে সাকিব। বাকিরা শুম্ভপুর গ্রামের জানু মিয়া, মামুন মিয়া, সাদ্দাম মিয়া ও মোহাম্মদ আলী।

লিবিয়ায় নি’হ’ত আকাশের বড় ভাই মোবারক জানান, দেড় বছর আগে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য লিবিয়ায় যায় তার ভাই। সেখানে কাজ করার সময়ে ভৈরবের শ্রীনগর গ্রামের এক দালাল তানজীরের মাধ্যমে লিবিয়ার বেনগাজি হতে ত্রিপলী হয়ে ইতালি যাওয়ার জন্য কথাবার্তা হয়। তারা ইতালিতে পৌঁছানোর পর তিন-চার লাখ টাকা প’রি’শোধ করতে হবে।

তিনি বলেন, ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার কিছু দিন পর তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি। হঠাৎ ২৭ মে সন্ধ্যায় সামাজিকমাধ্যমে ইমোতে একটি ভয়েস মেসেজ আসে। সেখানে জানতে পারেন তার ভাই বলছে ‘আমাকে বাঁ’চাও, আমাকে মে’রে ফেলবে’।

পাচারকারীরা আকাশের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। যদি না দেয় তাহলে তাদের মেরে ফেলবে। এরপর থেকে আর তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি।

বাংলাদেশ সরকারের কাছে লিবিয়ায় নি’হ’ত আকাশের বড় ভাই মোবারকের দাবি, শেষবারের মতো যেন তার ছোট ভাইয়ের মুখটা দেখতে পারে সেই ব্যবস্থা করার।

নি’হ’ত সোহাগের বাবা আব্দুল আলী জানান, এক বছর আগে লিবিয়ায় যান তার ছেলে। সেখানে কয়েক মাস থাকার পর ভৈরবের শ্রীনগর গ্রামের পূর্বপাড়ার সোনা মিয়ার ছেলে তানজীরের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার জন্য তিন লাখ টাকার মাধ্যমে চুক্তি করে। ইতালিতে পৌঁছানোর পর টাকা প’রিশোধ করতে হবে। তারপর থেকে তার ছেলের আর খোঁজ মেলেনি।

তিনি বলেন, দেশের কিছু দালালের খপ্পরে পড়ে ইতালিতে যাওয়ার জন্য জীবন বাজি রেখে টাঙ্গি পাড়ি দেয়। কিন্তু তাদের জিম্মি করে তাদের পরিবারের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে তাদের নি’র্যাত’ন করে। এইভাবে তাদেরকে আমরা হারালাম।

ভৈরব থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) ত’দ’ন্ত বাহালুল আলম খান জানান, লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের গু’লি’তে নি’হ’ত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ভৈরবের আটজনের নাম জানা গেছে। আমরা তাদের নামের তালিকা সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। পরবর্তীতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা বলেন, এভাবে অবৈধভাবে বিদেশ গিয়ে পাচারকারী চক্রের গু’লি’তে নি’হ’ত হওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নির্দেশনা মোতাবেক দালাল চক্রের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, অভিবাসীরা লিবিয়ার মিজদা শহরের এক মানবপাচারকারীর কাছে জিম্মি ছিলেন। অভিযুক্ত পাচারকারী মঙ্গলবার রাতে অভিবাসীদের হাতে খু’ন হন। এরপর তার সহযোগী ও আত্মীয়-স্বজনেরা জিম্মি অভিবাসীদের ক্যাম্পে নির্বিচারে গু’লি চালালে ঘটনাস্থলে ২৬ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৩০ জন মা’রা যান। এই ঘটনায় আরো ১১ জন বাংলাদেশি মা’রাত্মক’ভাবে আ’হত হয়েছেন। তাদেরকে বর্তমানে দেশটির জিনতান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

ad

পাঠকের মতামত