323417

এ পর্যন্ত ৬ জনের প্রা’ণহানি, ভোরের মধ্যেই বাংলাদেশ অ’তিক্রম করবে ঘূর্ণিঝড় আ’ম্ফান

নিউজ ডেস্ক।। দেশের উপকূলীয় বিভিন্ন অঞ্চলে গাছের নিচে চাপা পড়ে ও জলোচ্ছ্বাসে ৬ জনের মৃ’ত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ৮-১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় জেলাগুলোতে বেড়ি বাঁধ ভে’ঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

ব্যাপক ক্ষ’য়ক্ষ’তি হয়েছে ফসল ও মাছের ঘেরের। বসতবাড়ি বি’ধ্বস্ত হয়েছে, উপড়ে গেছে গাছপালা। দু’র্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী, ২৪ লাখ লোককে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছিলো।

বুধবার সন্ধ্যায় তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকা (সুন্দরবন এলাকা) অতিক্রম করছে। আগামী ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করতে পারে। এ সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন সাগর এলাকা উত্তাল রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঝূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ বিকেল ৪টা থেকে সাগর দ্বীপের (বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের একটি দ্বীপ) পূর্বপাশ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করছে। এটি আজ সন্ধ্যা ৬টায় পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় (সুন্দরবন এলাকা) অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে পরবর্তী ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর ম’হাবি’পদ সং’কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর ম’হাবি’পদ সং’কেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বি’পদ সং’কেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৯ নম্বর মহা’বি’পদ সং’কেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর ম’হাবি’পদ সং’কেতের আওতায় থাকবে। ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিসহ ঘণ্টয় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ad

পাঠকের মতামত