মা দিবসের দিন নে’শার টাকা না পেয়ে মাকে লা’ঠিপেটা, গলা কেটে হ’ত্যাচেষ্টা!
নিউজ ডেস্ক।। রোববার, দিনটি ছিল সারা বিশ্বের মায়েদের জন্য। ‘আন্তর্জাতিক মা দিবস’। বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় যখন দিবসটি পালিত হচ্ছিল, তখন রাজধানীর কলাবাগানে প্রিয় সন্তানের মধ্যযুগীয় নি’র্যাতনের শিকার হতভাগিনী এক বিধবা মায়ের দিনটি কেটেছে চরম উৎকণ্ঠায়। ছেলের নি’র্মম নি’র্যাতনে কাতরাচ্ছিলেন অ’সহ্য য’ন্ত্রণায়। বুক ভাসিয়েছেন চোখের জলে।
হতভাগী ওই মায়ের নাম নুরুন্নাহার রুনু। তার অ’ভিযোগ, নে’শার টাকার জন্য প্রতিনিয়ত তিনি মা’রধরের শিকার হন একমাত্র ছেলে খান মিল্লাত হোসেনের (২৫)। শুধু মা’রধর’ই না, একাধিকবার ওড়না দিয়ে নিজের মাকে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁ’স দিয়ে হ’ত্যার চেষ্টাও করে সে।
প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেলেও গত বৃহস্পতিবার নি’র্যাতনে নতুন মাত্রা যোগ হয়। বেধড়ক মা’রধরের পর গরু কাটার ছুরি দিয়ে নুরুন্নাহারের গ’লা কেটে হ’ত্যাচেষ্টা করে মিল্লাত। এবারও বাঁ’চায় প্রতিবেশীরা। সেদিনই রাজধানীর কলাবাগান থানায় ছেলের বি’রুদ্ধে হ’ত্যাচেষ্টার মা’মলা করেন অসহায় মা।
কিন্তু আজ রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত পু’লিশ মিল্লাতকে গ্রে’প্তার করতে পারেনি। ফলে মা’দকাসক্ত ছেলে কখন কী করে বসে; এই চিন্তায় চরম উৎকণ্ঠা আর নি’রাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নুরুন্নাহার রুনু।
রাতে থা’নার অদূরে দাঁড়িয়ে তিনি যখন কথাগুলো বলছিলেন, তখন তার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল পানি। বারবার আঁচল দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করছিলেন ছেলের দেওয়া আ’ঘাতের চিহ্ন, মোছার চেষ্টা করছিলেন চোখের জল। আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘দশ মাস পেটে ধরে এই উপহার পেলাম আমি?’
নুরুন্নাহার রুনু জানান, কলাবাগানের গেজেটেড অফিসার্স ডরমেটরি গ্রিনরোডের একটি ফ্ল্যাটে প্রায় সাত বছর ধরে মিল্লাতকে সাথে নিয়েই থাকেন তিনি। মিল্লাত ছেলেবেলা থেকেই ঊ’চ্ছৃঙ্খল আ’চরণ করত। তিন বছর আগে স্বামী খান সাহাদাৎ হোসেন মা’রা যাওয়ার পর ছেলে আরও বিগড়ে যায়। খারাপ ছেলেদের সঙ্গে মিশে মা’দকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কেবল বাইরেই না বিভিন্ন সময়ে ব’খাটে ছেলেদের বাসায় এনেও মা’দক সেবন করে সে। নে’শার টাকার জন্য মাকে মা’রধর করে। বহু চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে তাকে মা’দকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রেও ভর্তি করা হয়, কিন্তু শোধরায়নি সে।
হতভাগী এই মা আরও জানান, গত বৃহস্পতিবারও মা’দকের টাকার জন্য তার ওপর চড়াও হয় মিল্লাত। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ঘরে থাকা লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পে’টায় সে। টিভি, ফ্রিজ, সোকেসসহ ঘরে থাকা প্রায় সবকিছু ভে’ঙে ফেলে।
শুধু তাই নয়, মা’থায় আ’ঘাত পেয়ে নুরুন্নাহার মেঝেতে পড়ে গেলে গরু কাটার বড় ছু’রি দিয়ে তার গ’লা কাটার চেষ্টা করে মিল্লাত। চিৎকার দিয়ে কোনো রকমে উঠে পালাতে গেলে নুরুন্নাহারকে একপর্যায়ে একটি ওড়না দিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে হ’ত্যাচেষ্টা করে ছেলে। এক পর্যায়ে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে মায়ের গলার স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় মিল্লাত। কিছুটা সুস্থ হয়ে মা’মলা করেন রুনু। কখন কী হয় এই চিন্তায় বর্তমানে চরম নি’রাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে নুরুন্নাহার বলেন, ‘গর্ভধারীনি মাকে যে ছেলে নি’র্যাতন করে, তার দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তি চাই।’
এ বিষয়ে কলাবাগান থা’নার পরিদর্শক (অপারেশন) ঠাকুর দাস মালো বলেন, ‘বিষয়টির ত’দন্ত চলছে। অ’ভিযুক্ত ছেলেকে গ্রে’প্তারের চেষ্টা অ’ব্যাহত রয়েছে।’ উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।






