320905

করোনাকাল: জমি বিক্রির টাকায় অসহায়দের পাশে

নিউজ ডেস্ক।। করোনাকালে অসহায় মানুষের পাশে থাকতে মার্চের মাঝামাঝি কোমর বেঁধে নেমে পড়েন আসমা আক্তার লিজা। তিনি ও তার সঙ্গীরা মাস্ক-স্যানিটাইজারের পাশাপাশি শুকনো খাবারও বিতরণ করেন। তবে ভাসমান অনেক মানুষের রান্নার সুযোগ নেই বলে একপর্যায়ে তিনি নিজেই রাঁধতে থাকেন। শুরু হয় রান্না করা খাবার বিতরণ।

দিন দিন করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে, বাড়তে থাকে খাবারপ্রার্থীর সংখ্যা। অর্থকড়িও ফুরিয়ে আসতে থাকে লিজার। অথচ অসহায় মানুষ প্রতিদিনই তার বাসার সামনে খাবারের জন্য ভিড় জমান। শেষপর্যন্ত এক কঠিন সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শ্বশুরের চিকিৎসার জন্য গ্রামের একটি জমি বিক্রি করেছিলেন। সেই টাকা থেকেই খরচ শুরু করেন। স্বামী আহমেদ আকতার জ্যোতিও এ কাজে সমর্থন জোগান তাকে।

নাট্যকর্মী আসমা আক্তার লিজা সমকালকে বলেন, ‘যে কোনো দুর্যোগেই সীমিত সামর্থ্য নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। এবারও সেভাবেই শুরু করেছিলাম। পরে কিছু স্বেচ্ছাসেবী ভাইবোন এসে যুক্ত হন। তবে সমস্যা দেখা দেয় অর্থের জোগান নিয়ে। শুধু রমজান মাসের চিত্রই বলি- প্রথম দিন এলাকার ৫০ জন নিরাপত্তাকর্মী ও রিকশাচালকের জন্য ইফতারের আয়োজন করি। ইফতারের সময় দেখা গেল প্রায় ১০০ জন উপস্থিত। এ সময় কাউকে কি খাবার না দিয়ে ফেরানো সম্ভব? ফলে মুড়ি-চিড়া যা ছিল, তা দিয়ে কোনোরকম সামাল দিতে হলো। এদিকে তৃতীয় রমজানে অতিথির সংখ্যা (যারা খেতে আসেন সবাই আমার অতিথি) দাঁড়াল ৫০০। অথচ সেদিন আয়োজন ছিল মাত্র ৩০০ জনের। সব শেষে আসা ৫০ জনকে শুধু মুড়ি আর মুরগির ঝোল দিতে হয়েছে। আমার খুব খারাপ লেগেছে। কিন্তু জানেন, ওটুকু খেয়েই তারা খুব খুশি!’

রাজধানীর লালমাটিয়ার ডি ব্লকের ৪/৮ নম্বর বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন লিজা। তিনি ‘নাটনন্দন’ নামে একটি নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত। তার স্বামী আহমেদ আকতার জ্যোতি বায়িং হাউসে কাজ করেন। স্বামী-স্ত্রী দু’জনই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভালোবাসেন। লিজার শ্বশুরবাড়ি পাবনার ফরিদপুরে। তার শ্বশুর আ খ ম শামসুল আলম টুনু ক্যান্সারে আক্রান্ত। ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ চালাতে কয়েক মাস আগে গ্রামের বাড়ির একটি জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন স্বামী-স্ত্রী। জমি বিক্রি করে পাওয়া যায় ১৬ লাখ টাকা। সেই টাকা দিয়ে নিয়মিত বিরতিতে শামসুল আলমকে থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। তারই কিছু টাকা লিজার কাছে ছিল। অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে তিনি এখন সেই টাকা থেকেই বাজার করছেন।

এর আগে সাভারের রানা প্লাজা ধসের পরও মানবিক সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন লিজা। মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় মা হারানো ছয়টি শিশুকে তিনি এখনও নিজের কাছে রেখে দেখভাল করছেন। এ ছাড়া বছরভর বার্ন ইউনিটের দুস্থ রোগীদের নানাভাবে সেবা করেন তিনি। উৎস: সমকাল।

ad

পাঠকের মতামত