অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হাত-পা বেঁ’ধে নি’র্যাত’ন!
নিউজ ডেস্ক।। বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় জান্নাতি বেগম নামে এক অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর হাত-পা বেঁ’ধে নি’র্যাত’নের অ’ভিযো’গ উঠেছে স্বামী খায়রুল ও শাশুড়িসহ তাদের স্বজনদের বি’রুদ্ধে।
স্বামী খায়রুলের প’রকিয়া সম্পর্ক ও যৌ’তুক চাওয়া নিয়ে স্ত্রী জান্নাতির সঙ্গে ঝগড়া বাধলে এ সময় তাকে নি’র্যাতন করা হয়। গতকাল রোববার দুপুরে উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের সানুহার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আজ সোমবার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ কথা জানান জান্নাতি বেগম। এক সন্তানের মা জান্নাতি একই উপজেলার বাহেরঘাট গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা জাহাঙ্গীর হোসেনের মেয়ে।
জান্নাতির বাবা মাওলানা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে খায়রুলের সঙ্গে জান্নাতির বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে খায়রুল তার স্ত্রীর কাছে মোটা অংকের যৌতুক দাবি করে। জান্নাতি তার বাবাকে জানালে প্রতি বার ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হতো। এভাবে বহু টাকা দেওয়া হয়েছে খায়রুলকে।
পরে কর্মস্থলে একটি মেয়ের সঙ্গে পরকিয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে খায়রুল। বিষয়টি জানতে পেরে জান্নাতি স্বামীকে বোঝানোর চেষ্টা করে জান্নাতি। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রী প্রায় ঝগড়া হতো এবং খায়রুল ক্ষু’ব্ধ হয়ে জান্নাতিকে মা’রধ’র করত।
সর্বশেষ গতকাল রোববার স্বামী খায়রুল, শাশুড়ি আলেয়া ও তাদের সহযোগী তানভীর মোশারেফ জান্নাতির হাত-পা বেঁ’ধে নি’র্যাত’ন চালায়। জান্নাতি দেড় মাসের অন্তঃসত্ত্বা জানতে পেরে স্বামী ও শাশুড়ি তার পেটের ওপর লাথি মে’রে সন্তান ন’ষ্ট করতে র’ক্তা’ক্ত করেন।
জান্নাতির চিৎকারে স্থানীয়রা জানতে পেরে তার বাবার বাড়িতে খবর দিলে তারা হাত-পা বাঁধা ও র’ক্তা’ক্ত অবস্থায় তাকে উ’দ্ধা’র করে উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সোমবার দুপুরে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় জান্নাতি বেগম বলেন, ‘যৌতুক এবং প’রকি’য়ার বিষয় নিয়ে খায়রুল আমার ওপর অমানবিক নি’র্যাতন চালিয়ে সংসার থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমার অসুস্থ সন্তানের জন্য আমি নি’র্যাত’ন মুখ বুঝে সহ্য করি। সর্বশেষ যে নির্যাতন চালানো হয়েছে তাতে আমার গর্ভের সন্তান ন’ষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফারিহা তাবাসুম বলেন, ‘জান্নাতির আলট্রাসনোগ্রাম করানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে তার গর্ভের সন্তানের অবস্থা ভালোভাবে জানা সম্ভব হবে।’
এ বিষয়ে উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান বলেন, ‘স্বামী-শাশুড়ির নি’র্যাত’নের ঘটনা শুনেছি। অভিযোগ পেলে তাদের বি’রু’দ্ধে কঠোর আ’ইনগ’ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’




