319497

কেউ জানে না রাজশাহীর দুর্গাপুরের এ মসজিদের ইতিহাস! 

ধর্মবার্তা।। দেশজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য প্রাচীন ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য নিদর্শনের মধ্যে রাজশাহীর দুর্গাপুরের কিশমত মারিয়া মসজিদ।

১৫শ’ সাল থেকে কালের সাক্ষী হয়ে থাকা এ মসজিদটি এখনো ঠাঁই পায়নি কোনো বইপুস্তক কিংবা পত্রিকায়। এ মসজিদ নিয়ে হয়নি কোনো সেমিনার-আলোচনা সভা।

প্রসাশন কিংবা প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী নিয়ে যারা গবেষণা করেন- মসজিদটি এখনো তাদের দৃষ্টির আড়ালে রয়ে গেলেও স্থানীয়রা এ মসজিদের ইতিহাসের কিছুটা জানে।

কিশমত মারিয়া মসজিদকে দেশের একটি প্রাচীন মসজিদ হিসেবে অভিহিত করেছেন স্থানীয় গণ্যমান্যরা। সঠিক ইতিহাস জানা না থাকলেও তাদের ধারণা, মসজিদটি নির্মিত হয়েছে আনুমানিক ১৫শ’ সালে। তৎকালীন কোনো মোগল শাসক কিংবা জমিদার মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের তালিকাভুক্ত এ মসজিদটি রাজশাহী জেলার দুর্গাপুরের ৬ নম্বর কিশমত হোযা ইউপির মারিয়া গ্রামে অবস্থিত।

রাজশাহী সদর থেকে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক হয়ে ১৩ কিলোমিটার গেলেই পড়বে শিবপুর বাজার। সেখান থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের সাইনবোর্ড ধরে ৪-৫ কিলোমিটার এগিয়ে গেলেই চোখে পড়বে আমবাগান আর ফসলি জমিবেষ্টিত কিশমত মারিয়া মসজিদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অন্তর্ভুক্ত হলেও আজ পর্যন্ত দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মসজিদটির ক্ষয়ে যাওয়া দেয়ালে এখনো কিছু শিল্পকর্ম বিদ্যমান। মুসলিম ঐতিহ্যের নান্দনিক টেরাকোটা মসজিদটির সৌন্দর্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। মসজিদের তিনটি প্রবেশদ্বারের ঠিক সমান্তরালে উপরে ছাদের মাঝামাঝি একটি করে গম্বুজ আছে। সম্মুখভাগে রয়েছে ছোট্ট উচু উঠান ও খোলা বারান্দা। যা অনুচ্চ প্রাচীরে ঘেরা।

মসজিদের দক্ষিণে আছে একটি দ্বিতল চৌচালা স্থাপনা। যা বিবির ঘর বলে পরিচিত। পুরো স্থাপনাটি নির্মিত হয়েছে চুন, সুড়কি ও ইট দিয়ে।

দেশের অন্যান্য প্রাচীন মসজিদের সঙ্গে কিশমত মারিয়া মসজিদের একটি পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। প্রায় সব প্রাচীন মসজিদের একটি করে বড় পুকুর কিংবা জলাধার আছে। কিন্তু এ মসজিদের কোনো পুকুর-দীঘি নেই।

ad

পাঠকের মতামত