সেই চাল চোর নেতার পক্ষে তদবির, উপজেলা আ. লীগ সভাপতিকে অব্যাহতি
নিউজ ডেস্ক।। সরকারি ২২৯ বস্তা ত্রাণের চালসহ পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কোরবান আলী সরদারকে হাতেনাতে আটক ও পরে আমিনপুর থানায় দায়েরকৃত মা’ম’লায় গ্রে’প্তা’র করা হয়। দেশ রূপান্তর
সেই কোরবান আলী সরদারকে বাঁচানোর চেষ্টা করায় দলীয় সকল পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল বাতেন।
মঙ্গলবার বিকেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামালের নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
লিখিত বিবৃতিতে তারা জানান, সোমবার রাতে বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কোরবান আলী সরদার কালো বাজারে ভিজিডি ত্রাণের ২২৯ বস্তা চাল বিক্রির সময় র্যাব হাতে নাতে গ্রেপ্তার হন। এ ঘটনায় কেন্দ্রের নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় সকল পদ থেকে কোরবান সরদারকে বহিষ্কার করে।
জানা যায়, কোরবান আলীকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে প্রশাসনের ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে তাকে মুক্ত করতে বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর ভাই আব্দুল বাতেন তদবির শুরু করেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বিষয়টি অবগত হয়ে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশ দেন। পরে, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামালে নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল বলেন, আব্দুল বাতেন দীর্ঘদিন ধরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বিভিন্ন বিতর্কিত কাজ করে আসছিলেন। সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অবৈধ নৌবন্দর পরিচালনা, জামাত ও বিএনপির লোকজনকে প্রশ্রয় দেয়া ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। আব্দুল বাতেনের কারণে দল বারবার বিব্রত হয়েছে। সর্বশেষ ত্রাণের চাল চুরি করে গ্রেপ্তার হওয়া চেয়ারম্যানের পক্ষে তদবির করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
তবে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ ফিরোজ কবীর। তবে বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে সাজানো ঘটনায় কোরবান সরদারকে ফাঁসানো হয়েছে বলে সাফাই গেয়েছেন এমপি।
মঙ্গলবার কোরবান আলী সরদারের পক্ষে জামিনের জন্য নিজ নেতাকর্মীদের নিয়ে পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসেন তিনি।
এ সময় আহমেদ ফিরোজ কবীর এমপি বলেন, ঢালারচর একটি সন্ত্রাস ও চরমপন্থী অধ্যুষিত এলাকা। নিরাপত্তার স্বার্থে চেয়ারম্যান কোরবান আলী সরদার চালের বস্তা ইউনিয়ন পরিষদে না রেখে নিজ গুদামে মজুত করছিলেন। তার আত্মসাতের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। কোনো একটি মহল তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, ত্রাণের চাল কোনোভাবেই ব্যক্তিগত গুদামে রাখার সুযোগ নেই। কোরবান আলী সরদার ইউনিয়নের সীমানার বাইরে বেআইনিভাবে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। সেখানে ত্রাণের চাল মজুদ করার বিষয়েও তিনি প্রশাসনকে অবহিত করেননি।
পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি বলেন, করোনা দুর্যোগের এই সময়ে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা কোনোমতেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ত্রাণের চাল আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ব্যাপারে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে অবস্থান তার ব্যক্তিগত বিষয়।




