ব্যতিক্রমি চেয়ারম্যান বাবুল
নিউজ ডেস্ক।। পৃথিবী এখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। লকডাউনের কারণে সব কাজ বন্ধ। খেয়ে না খেয়ে মানুষ দিন পার করছে। বাংলাদেশেও দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। একদিকে যেমন এই মহামারী অন্যদিকে ক্ষুধা। আমাদের গ্রাস করে ফেলতে চাইছে যখন এই দুই জিনিস তখন সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। এই উদ্যোগ অনেকক্ষেত্রেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে।
যখন দেশের ইউনিয়ন, উপজেলা জেলা পর্যায়ে চেয়ারম্যান-মেম্বাররা চাল চুরিতে ব্যস্ত তখন কেউ কেউ ব্যতিক্রম হয়ে হাজির হন। জানান দেন মানবিকতার। না হলে হয়তো মানবিকতা অদৃশ্য হয়ে যেত। এমনই একজন জনপ্রতিনিধি, বরিশালের আগৈলঝরার বাগ্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল।
ক’দিন আগেই একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের উপসর্গ নিয়ে মারা যান। এরপর তার লাশ দাফনে কেউ এগিয়ে আসছিল না। শুধু তা নয়, কবরও খোঁড়ার লোক নেই। নেমে গেলেন নিজেই কবর খুঁড়তে।
চেয়ারম্যান বাবুলের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় বরিশাল কোয়ান্টামের একটি দল আসেন দাফনের জন্য। করোনা আক্রান্ত ভয়ে কবর খনন করার জন্য আত্বীয় স্বজন,আপন জন এমন কি রক্তের সম্পর্কের কেউ কে শত চেষ্টা করেও নেওয়া যায়নি। আমার ইমানী দ্বায়িত্ব ও সামাজিক দ্বায়িত্ববোধ থেকে স্হানীয় আকুব্বার হাওলাদার ও পির মোহাম্মদ কে নিয়া কবর খনন কাজ শুরু করি।পরে এলাকার দুই যুবক কালা চান ও মাইনুল কে বললে আমাদের সাথে যোগ দেয়।’
অবশ্য পরে মৃত সেই ব্যক্তির করোনা নেগেটিভ এসেছিল। মারা যাওয়ার পর করোনা সন্দেহে নিহতের আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িকে লকডাউন করে দেওয়া হয়। এসময় নিজেই কাঁধে কাঁধে অনেকগুলো পরিবারের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেন বাবুল চেয়ারম্যান।
সরকারি ত্রাণ আসেনি। কিন্তু অনাহারী মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে হবে সেই চিওন্তায় বিভোর বাবুল। বলেন, ‘আমার পরিবারের পক্ষ থেকে কর্মহীন দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের লোকদের মধ্যে আপাতত দুই শত পরিবার কে খাদ্য সহয়তা দেওয়া হয়(১০ কেজি চাল,৩ কেজি আলু,১ কেজি ডাল,১ কেজি লবন,১ লিটার তেল,১ কেজি পেয়াজ ও একটি হুইল সাবান)। চেষ্টা করছি তালিকা অনুযায়ী সব ওয়ার্ড মেম্বার,স্হানীয় নেতা কর্মী ও যুব সমাজকে সাথে নিয়ে সবার ঘরে পৌঁছানো।’
নিজের পয়সা খরচ করে বুধবার এই ত্রাণ তিনি ঘরে ঘরে পৌঁছানো শুরু করেন। যখন চাল চুরিতে চেয়ারম্যান-মেম্বাররা ব্যস্ত বাবুল চেয়ারম্যান একজন অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে এলেন। বিপদের সময় তো মানুষের ভেতরের চেহারা চেনা যায়।




