নামী ব্র্যান্ডের প্যাকেটে ব্যবহৃত মাস্ক ও গ্লাভস ধুয়ে বিক্রি, জরিমানা ১০ লাখ
নিউজ ডেস্ক।। করোনাভাইরাসে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। আর দেশে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বেড়েছে করোন। এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যবহার করা সার্জিক্যাল মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ধুয়ে বাজারে বিক্রি করছিল। যাতে করোনাসহ স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। অবশেষে চক্রটি ধরা পড়েছে র্যাবের হাতে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর পান্থপথে এ এস ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বিপুল পরিমাণ পূর্বে ব্যবহৃত মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস জব্দ করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু বলেন, দেশের বাজারে সার্জিক্যাল মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস বিক্রি করতে হলে ওষুধ প্রশাসন থেকে অনুমতি নিতে হয়। তারপর আমদানি করে বাজারে ছাড়তে হয়। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটির এমন কোনো অনুমোদন ছিল না। এর থেকে গুরুত্বর অপরাধ তারা করেছে সেটা হলো- বিশ্বের নামিদামি ব্রান্ডের সার্জিক্যাল মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভসের বক্স তারা ধানমন্ডিতে তৈরি করে। পরে সেসব বক্সে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যবহৃত সার্জিক্যাল মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ধুয়ে প্যাকেট করে বাজারে বিক্রি করত। আর এজন্য নিজেদের মতো করে ব্রাণ্ড তৈরি করেছিল। যাতে তাদের কোনো অনুমোদন ছিল না। পুরোটাই ভুয়া।
পুরোনো গ্লাভস বিক্রি করা এই প্রতিষ্ঠানটির নাম এএসএম ট্রেডিং। এর মালিক এস এম মুসা (২৭)। তার বিস্তারিত পরিচয় র্যাব জানায়নি। ওষুধ প্রশাসন এবং র্যাব ২ এর সহযোগিতায় র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু এই অভিযান পরিচালনা করেন।
পলাশ কুমার বসু বলেন, আসলে না দেখলে বিষয়টি বোঝা যাবে না। শত শত গ্লাভস এখানে মেঝেতে পড়েছিল। ব্যবহৃত এই গ্লাভসগুলো ‘প্রসেসিং’ করে পুনরায় বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। যেসব প্যাকেটে এই গ্লাভসগুলো ঢোকানো হচ্ছিল সেগুলোও নকল। নামীদামি সব ব্র্যান্ডের নাম দিয়ে প্যাকেটগুলো বানানো হয়েছে। এগুলোর গায়ে দামও লেখা নেই। এই দুঃসময়ে গ্লাভস নিয়ে এমন কাজ ভাবা যায় না। একটি ভবনের দুটি ফ্লোর নিয়ে কাজগুলো করা হচ্ছিল। পুরোটাই সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
পলাশ কুমার বসু বলেন, ভোক্তা অধিকার আইন ও ওষুধ আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক এস এম মুসাকে দশ লাখ টাকা জরিমানা বা অনাদায়ে বিনাশ্রমে তিন মানের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। মুসা দশ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছেন।
মালিকের পুরো পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি নিয়ে গোয়েন্দারা কাজ করছেন।কোন কোন জায়গা থেকে এগুলো এনে প্রসেস করেছিল এসব বিষয় আমার গোয়েন্দা নজরদারিতে রেখেছি।’ উৎস: পূরপশ্চিম।




