316640

নিউইয়র্কে আটকা বিপাশা যে কারণে কাঁদলেন

ডেস্ক রিপোর্ট: অভিনেতা–নির্মাতা তৌকীর আহমেদ মনে মনে ঠিক করেছিলেন, বিপাশাকে এবারের জন্মদিনে চমকে দেবেন। কাজ তাই গুছিয়ে এনেছিলেন। দুই সন্তানকে নিয়ে বিপাশার জন্মদিনের আগেই নিউইয়র্কের ফ্লাইট ধরবেন এমনটাই ছিল পরিকল্পনা। ভেবেছিলেন ব্রুকলিনে থাকা বিপাশা চমকে যাবে দুই সন্তান ও তৌকীরকে দেখে। কিন্তু এমনটা হলো না। বাধা হলো করোনাভাইরাস। বিশ্বব্যাপী ভাইরাসটির সংক্রমণের আতঙ্কে নিউইয়র্কে যেতে পারেননি তৌকীর। বিপাশাকেও আর চমকে দেওয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় দুপুরে ব্রুকলিনের বাসা থেকে গণমাধ্যমকে এসব কথা জানালেন বিপাশা হায়াত। অভিনয়শিল্পী, নাট্যকার ও চিত্রশিল্পী বিপাশা হায়াত গেল বছরের ডিসেম্বরে প্রয়োজনীয় কাজে নিউইয়র্কে যান। মার্চের ২৩ তারিখ ছিল তাঁর জন্মদিন। সেদিন পরিবারের সবার এক হওয়ার কথা। কিন্তু এখন দুই দেশে কাটছে তাঁদের জীবন।

বিপাশা একাকী জীবন কাটাচ্ছেন নিউইয়র্কে। আর সন্তানদের নিয়ে তৌকীর ঢাকায় মহাখালী ডিওএইচএসের বাসায়। সন্তানদের দেখভাল করা থেকে শুরু করে রান্নাবান্নার যাবতীয় কাজ একাই সামলে নিচ্ছে তৌকীর, জানালেন বিপাশা হায়াত।ছেলে আরীব ও মেয়ে আরিশাকে নিয়ে তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াত। ছবি-

বিপাশা হায়াতের মুখে এসব কথা শুনে তৌকীরকেও ফোন দিই। তিনিও জানালেন একই কথা। তিনি এখন রান্নাবান্না করছেন। সন্তানদের দেখভাল করছেন। এসব নিয়ে এর আগে তৌকীরকে কখনো ভাবতে হয়নি। তিনি বলেন, ‘এত বছরের সংসারজীবনে কখনোই আমাকে বিপাশা রান্নাঘরে ঢুকতে দেয়নি। সবকিছু সে একা হাতে সামলে নিয়েছে। এটা যে কত বড় একটা দায়িত্ব, তা এখন উপলব্ধি করতে পারছি।’

ব্রুকলিনে থাকা বিপাশা সারাক্ষণ সন্তান ও তৌকীরের সঙ্গে যোগাযোগের মধ্যে আছেন। আর এত অসাধারণভাবে তৌকীর আহমেদ সবকিছু সামলে নেওয়ায় অনেকটা অবাক হয়েছেন। বিপাশা বলেন, ‘কয়জন বাবা এভাবে সামলে নিতে পারবে আমি জানি না, যেখানে কাজের সহযোগিতা করার কেউই নেই। সাধারণভাবে একজন বাংলাদেশের গৃহিণীরা যা করে থাকেন, সবকিছু তৌকীর একাই করছে! প্রথম যেদিন শুনলাম, তৌকীর রান্নাঘরে ভাজি করছে, সত্যি আমি কেঁদে ফেলেছি। কীভাবে কী করছে, এটা ভাবতেই যেন কেমন লাগছিল। এখন তো দেখছি, আমার ছেলেরাও টুকটাক রান্না শিখে ফেলছে! এক দিন পরপর প্রত্যেকে ঘর মোছে—এসব আমি ভাবতেই পারি না। সবাই সব নিজের কাজ করছে। যার যার কাপড় সে ধুচ্ছে!’

ব্রুকলিনে কীভাবে কাটছে জীবন জানতে চাইলে বিপাশা বলেন, ‘আমি তো এমনিতেই ঘরকুনো মানুষ। এই সময়টায় নিজেকে খুব ভালোভাবে মোটিভেট করার চেষ্টা করছি। আমি আজ যে পরিস্থিতির মুখোমুখি, পুরো পৃথিবী একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটা এমন একটা পরিস্থিতি সবাইকে দূরে থাকতে হচ্ছে। তাই একা যেহেতু আমি, আমাকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে। আমি যেহেতু একা, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যা যা করণীয়, তা করছি। আমার খাবার যেন ভিটামিন ও মিনারেলযুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করছি, আমার ইমিউন সিস্টেম বাড়াতে হবে। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ি। এরপর ইয়োগা করছি। বাসার বাইরে গিয়ে যেহেতু হাঁটার সুযোগ নেই, ঘরের মধ্যে ব্যায়াম করছি। যেহেতু একা, সকালে কিছু গান শুনি। গান আমাকে মানসিকভাবে শক্তি দেয়। ভিন্নভাবে ভাবতে সহযোগিতা করে। ফেসবুক থেকে নিজেকে গেল এক মাস দূরে রাখছি। খবর খুব কম দেখছি।

পড়াশোনায় বেশি মনোযোগী হয়েছেন বলে জানালেন বিপাশা। বললেন, ‘মানবসভ্যতার ইতিহাস, পৃথিবীর ইতিহাস সম্পর্কে আমার যা কিছু জানা নেই, তাই জানার চেষ্টা করছি। বেশ কিছু তথ্যচিত্র দেখছি। ছবিও আঁকছি। এভাবেই আমার সময় কেটে যাচ্ছে।’ এসবের বাইরে বাংলাদেশে থাকা পরিবার, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সবার সঙ্গে প্রতিদিন কথা বলছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে এই সময়টায় বেশি যোগাযোগ হচ্ছে বলে জানালেন বিপাশা।

ad

পাঠকের মতামত