315758

পুরো দেশ এখনই লকডাউন করা দরকার: বিএনপি

নিউজ ডেস্ক।। করোনাভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে এখনই পুরো দেশ লকডাউন করা দরকার বলে মনে করে বিএনপি। রোববার বিকালে রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনটি বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে সরাসরি প্রচার করা হয়। এ মুহূর্তে সারা দেশ পুরোপুরি লকডাউন করার প্রয়োজন আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সেটা প্রয়োজন। এখনই পুরো দেশ লকডাউন করা দরকার। দ্যাট ইজ দ্য অনলি অ্যানসার। যে ভয়াবহতা আসছে, এখনও রিয়ালাইজ করতে পারছে না তারা। ২৭ দিন হয়ে গেছে। অলরেডি কিন্তু গতকালের (শনিবার) চেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এটা জ্যামিতিক হারে বাড়বেই। আমরা মনে করি, একাত্তরে যেভাবে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, এবারও সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব। তবে তার জন্য প্রয়োজন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এজন্য যে উইপেন্স দরকার, সেই উইপেন্সগুলো তো আমরা পাচ্ছি না।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ৭২ হাজার কোটি টাকার যে প্যাকেজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন তাতে চলমান সংকট কাটবে না বলে মনে করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের ওপর এক প্রতিক্রিয়ায় রোববার বিকালে এমনটিই জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘এটা গরিব মানুষের জন্য অনুদান নয়, ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে ‘দিন এনে দিন খান’ মানুষজনকে অবহেলা করা হয়েছে। উত্তরার নিজ বাসায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনটি বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সরাসরি প্রচার করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মহাদুর্যোগ মোকাবেলায় বিএনপির প্রস্তাবনা দেয়ার পর মনে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী রেন্সপনড করেছেন। এটা পজিটিভ তখনই বলতে পারতাম যদি আমরা দেখতাম যে, আসল সমস্যার সমাধান করার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। অর্থাৎ সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের, ইনফরমাল সেক্টরের কৃষকদের, তাদের কোনো কথা এখানে (প্রণোদনা প্যাকেজ) নেই। এখানে আমার কাছে যেটা মনে হয় যে, সরকার জনগণকে বলবে যে, ৭২ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। দিয়েছে তো ঋণ, পুরোটাই ঋণ। এখানে অনুদান বলতে কিছু নেই। সব ঋণের প্যাকেজ।

তিনি বলেন দুর্ভাগ্য হল, যে বিষয়গুলোতো গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিল তা সেভাবে আসেনি। আমাদের প্রস্তাবনায় যে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো উলে­খ করেছি, বিশেষ করে দিন এনে দিন খান এ শ্রেণির মানুষদের নিয়ে কোনো কথা প্রধানমন্ত্রী বলেননি। আমরা আশা করেছিলাম আরও বিস্তৃত কিছু করবেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তা তিনি করেননি। তিনি অনেকগুলো বিষয় এড়িয়ে গেছেন। জাতি তার কাছে এমনটি আশা করেনি। অথচ দেশে এ শ্রেণির মানুষের সংখ্যা বেশি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্যাকেজে এ নিয়ে কিছুই দেখতে পাইনি। আমাদের প্রস্তাবনায় এ খাতে ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সামাজিক নিরাপত্তা আরও বড় করা হবে। কত বড় করা হবে, কত টাকা বরাদ্দ করা হবে কিছুই বলা হয়নি। লক্ষ্য করে দেখবেন প্রধানমন্ত্রী যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন- এর বেশির ভাগই হচ্ছে শিল্প ও গার্মেন্ট শিল্পে ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ। ঋণের প্রণোদনা।

তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্যাকেজে উল্লেখ করা হয়নি। এ খাতের সামর্থ্য বৃদ্ধি করা, চিহ্নিত সমস্যা ভ্যাকসিন, ভেন্টিলেটর ও পরীক্ষাকরণ কিটস এগুলো প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আসেনি, অর্থ বরাদ্দ নেই। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বীমার কথা বলেছি। শুধু ঋণ নয়। আপনাকে এভাবে তাদের অনুদান, ভাতা, বেতন বাড়িয়ে সহযোগিতা করতে হবে। যে বিষয়গুলো অত্যন্ত জরুরি, সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সেইভাবে কথা বলেননি। রেমিটেন্স যারা পাঠান তাদের কোনো কথা এ প্রণোদনা প্যাকেজে নেই। গার্মেন্ট খাতের প্রণোদনা শ্রমিকদের কাছে যাবে কিনা তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন ফখরুল।

এর আগে শনিবার করোনাভাইরাসজনিত বৈশ্বিক মহামারীর কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য মহাদুর্যোগ মোকাবেলায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্যাকেজ প্রস্তাবনা দেয় বিএনপি। এ প্রণোদনা প্যাকেজের ৬১ হাজার কোটি টাকা স্বল্পমেয়াদি খাতে, ১৮ হাজার কোটি টাকা মধ্যমেয়াদি খাতে এবং ৮ হাজার কোটি টাকা অদৃশ্য ও অন্যান্য খাতে ব্যয় করার প্রস্তাব দেয় দলটি। রোববার সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের কারণে আর্থিক ক্ষতি মোকাবেলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেন। এ সময় চারটি প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে প্যাকেজে কোনো কথা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতটা একেবারেই অবহেলিত, কোনো কথাই বলা হয়নি এখানে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, পরীক্ষা পরীক্ষা পরীক্ষা। অথচ বাংলাদেশে এখন পরীক্ষা নেই, পরীক্ষা নেই, পরীক্ষা নেই- অবস্থা দাঁড়িয়ে গেছে। যেখানে যাবেন বলবে যে, এখানে হবে না। ভেন্টিলেটর কত আছে আপনারা জানেন? আরও বেশি সেটা তৈরি করার কোনো কথা এখানে (প্রণোদনা প্যাকেজে) নেই। সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দেখুন। হেলথ ডিপার্টমেন্টের মধ্যে পারস্পরিক যে সমন্বয় থাকা দরকার সেটাও ঠিক নেই। ডিজি হেলথ এক কথা বলছেন, আইইডিসিআর ডিজি আরেক কথা বলছেন আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী তো আরও ভীষণ কথা বলছেন। যেসব কথা শুনলে মনে হবে, দেশে ভাইরাস নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতি ইংঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটি (করোনাভাইরাস) মানব সভ্যতার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জটা মোকাবেলা করার জন্য আমরা সবাই হাত বাড়িয়ে আছি, আমরা সবাই উদ্যোগী আছি। তারপরেও তারা বলছেন যে আমরা নাকি এমন এমন কথা বলছি যে, দায়িত্বজ্ঞানহীন-কাণ্ডজ্ঞানহীনের মতো কথা বলছি। কোথায় দেখলেন তারা এসব? আমরা তো ২৭ দফা দিয়েছি। তার বর্ণনা দিয়েছি। প্রত্যেকটা বিষয় যুক্তিসঙ্গতভাবে বলেছি। আজকে সরকার দুর্ভাগ্যজনকভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে করোনাভাইরাস মোকাবেলায়। যেই মানসিকতার দরকার ছিল, আমি প্রস্তুতি বলব না, যে মানসিকতা সেটাকে তৈরি করার জন্য তারা ব্যর্থ হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনার মহাদুর্যোগ মোকাবেলায় অর্থনৈতিক কিছু আবেদন রেখেছি। তার প্রতি উত্তরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক যে বক্তব্য দিয়েছেন, এটা আশা করিনি। তার মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এ ধরনের মন্তব্য করবেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পত্রিকায় রিপোর্ট বেরিয়েছে যে, ৮৭ শতাংশ হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসা নেই। যেমন আপনার অ্যাপেন্ডিসাইটিস হল, আপনি চাইবেন যে, ডাক্তারের কাছে গিয়ে আলট্রাসনোগ্রাম করা হোক, সেটা আপনি পাবেন না। আপনার হার্ট অ্যাটাক হল হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা পাবেন না। জাস্ট ফ্যাক্ট। এ বিষয়গুলো সরকার নজর দিচ্ছে বলে আমরা দৃশ্যমান কিছু দেখছি না। অন্যদিকে সমন্বয় কোনোখানেই নেই। এ বিষয়গুলো জনগণের মধ্যে অনাস্থা তৈরি করেছে এবং প্রথম দিক থেকে প্রত্যেকটা ইস্যুতে কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের আস্থা এ সরকারের ওপর থেকে প্রায় চলে গেছে। করোনা মোকাবেলায় বিএনপি নেতারা ঘরে বসে শুধু অভিযোগ করছেন, করোনা মোকাবেলায় তাদের ভ‚মিকা নেই বলে আওয়ামী লীগ নেতারা যেসব মন্তব্য করেছেন তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, এ ধরনের বক্তব্যের একটাই প্রতিক্রিয়া হল- দায়িত্ব সম্পূর্ণ সরকারের। ইতোমধ্যে আমাদের নেতাকর্মী কর্মজীবী দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তারা খাবার দিচ্ছেন, তারা মাস্ক দিচ্ছেন। সিলেটে মেয়র বৃহৎ আকারে খাবার নিয়ে মানুষের পাশে যাচ্ছেন, প্রত্যেকটা জেলা-উপজেলা, ইউনিয়নে আমাদের নেতাকর্মীরা কাজ করছেন। ফলে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য সঠিক নয়, এসব অলিক অভিযোগ। এখন কী অভিযোগ করা সঠিক? উৎস: যুগান্তর।

ad

পাঠকের মতামত