যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মারা যাবে ৮১ হাজার মানুষ!
ডেস্ক রিপোর্ট।। মহামারী করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৪ মাসে ৮১ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে। আর জুনের আগে ভাইরাসটির প্রকোপ নাও কমতে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন স্কুল অব মেডিসিনের এক দল গবেষক। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তারা এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স ও সিএনএনের। গবেষকদের মতে, এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে করোনা রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। এর মধ্যে কোনো কোনো রাজ্যে এপ্রিলের শেষ দিকে রোগী বাড়তে পারে। জুলাইয়ের শেষ দিক পর্যন্ত এ ভাইরাসের কারণে কোনো কোনো রাজ্য থেকে মারা যাওয়ার খবর আসতে পারে। তবে মারা গেলেও জুনের শেষ দিকে সে সংখ্যা দিনে ১০ জনের নিচে নেমে যেতে পারে। সরকারি তথ্য, হাসপাতাল এবং অন্যান্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য থেকে গবেষকরা ধারণা করছেন, ভাইরাসটিতে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার মানুষ মারা যেতে পারেন।
এদিকে, করোনা সংক্রমণ বিস্তারে ইতালিকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫ হাজারের বেশি। ইতালিতে সে সংখ্যা ৮০ হাজার ৫৮৯ জন। বিশ্বের ১৯৯টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মারা গেছেন ২৪ হাজারের বেশি মানুষ। আক্রান্ত হয়েছেন সোয়া পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় সোয়া এক লাখ মানুষ।
পিপিই সংকটে মার্কিন চিকিৎসক ও নার্সরা মারা যাচ্ছেন : যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনাভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছেন। শুধু ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যেই ৩৫ জন চিকিৎসক ও নার্স এ ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে ইলিনয়, নিউ জার্সি, নিউইয়র্কসহ অন্য রাজ্যেও। চিকিৎসকরা জানান, করোনাভাইরাসে পরীক্ষার কিট ও পিপিই সংকটে পরিস্থিতি এমন বেগতিক হচ্ছে। গত সপ্তাহে পরীক্ষার পর করোনা ধরা পড়ে মিসোরি রাজ্যের সেন্ট লুইসের সেন্ট ম্যারি হসপিটালের নার্স জুডি উইলসন গ্রিফফিনের। তিনি মারা গেছেন।
জর্জিয়ায় দু’জন স্বাস্থ্য সেবাকর্মী দায়িত্ব পালনকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর মারা যান। তাদের মধ্যে ৪৮ বছর বয়সী এক নারী কাজ করতেন ডোনালসলভিলে হাসপাতালে এবং ৪২ বছর বয়সী অপর একজন পেডমন্ট নিউনান হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যানহাটনে ৪৮ বছর বয়সী একজন নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কয়েকদিন আগে এ ভাইরাস ধরা পড়ার পর মঙ্গলবার তিনি মারা যান। যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতালে কর্মরত অন্যরা বেশ কিছুদিন থেকেই ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রীর (পিপিই) অভাবের কথা বলে আসছেন। সুরক্ষা স্যুট, মাস্ক, গ্লাভস, হেড কভার প্রয়োজনের তুলনায় পাচ্ছেন না তারা। সে কারণে অনেক বেশি ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে তাদের।
সিয়াটলের একটি হাসপাতালের নার্স ডন আলদিনজার বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালের প্রত্যেকেই নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করছেন। আমাদের বিশ্বাস, এ সংকট আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসকদের পিপিই সরবরাহ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ, তারা সুস্থ না থাকলে অন্যদের সেবা দেয়া বাধাগ্রস্ত হবে। এরই মধ্যে অবশ্য চিকিৎসক এবং নার্সদের মধ্যে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্তের শঙ্কা তৈরি হলে জরুরি ভিত্তিতে কিছু রাজ্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওয়াশিংটনেও চিকিৎসক এবং নার্সদের অনেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে সঙ্গত কিছু কারণে সেই সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।




