আমেরিকায় ক’রো’নায় ২২ লক্ষ, ব্রিটেনে ৫ লক্ষ মানুষের মৃ’ত্যু হতে পারে!
নিউজ ডেস্ক।। স’ত’র্ক’তার মা’ত্রা না বাড়ালে নোভেল ক’রো’না’ভা’ই’রাসে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে ২২ লক্ষ মানুষের মৃ’ত্যু হতে পারে আমেরিকায়। এবং এই সংখ্যাটা ব্রিটেনের ক্ষেত্রে ৫ লক্ষ। এমনটাই দাবি করেছেন ব্রিটেনের গবেষকরা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার ইতিমধ্যেই এই ভাই’রা’সের মো’কা’বিলায় আমেরিকায় প্রবেশে ইউরোপীয়দের উপর এক মাসের নি’ষে’ধাজ্ঞা জা’রি করেছে। এবার ওই পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করেই ক’রো’না মো’কা’বিলায় দেশজুড়ে কড়া নির্দেশিকা জা’রি করেছে বরিস জনসন সরকারও।
শুধুমাত্র ক’রো’না আ’ক্রা’ন্তদের পাব-থিয়েটার বা অন্যান্য সামাজিক মেলামেশা থেকে বিরত রাখাই নয়, গুরুতর অসুস্থ সত্তরোর্ধ্বদের আইসোলেশনে রাখার পরামর্শও দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। লন্ডনে অধ্যয়নরত কলকাতার এক তরুণের দেহে ইতিমধ্যেই ‘কোভিড-১৯’-এর অস্তিত্ব মিলেছে। তবে সেই লন্ডন তথা ব্রিটেনের ক’রো’না-পরিস্থিতি ইটালি বা ইরানের মতো ভ’য়া’বহ না হলেও ইতিমধ্যেই ন’ড়ে’চড়ে বসেছে সে দেশের সরকার।
সোমবার থেকেই ক’রো’না মো’কা’বিলায় আরও ক’ড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে বরিস জনসন সরকার। মূলত, ইম্পিরিয়াল কলেজ লন্ডনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পর্যবেক্ষণের পরই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাথেমেটিক্যাল বায়োলজির এক অধ্যাপক নিল ফার্গুসনের নেতৃত্বে যে পর্যবেক্ষণে দাবি করা হয়েছে, ক’রো’না মোকাবিলায় আরও ক’ড়া না হলে ব্রিটেনে মৃ’ত্যু ছুঁতে পারে ৫ লক্ষ।
সাম্প্রতিককালে চিন ছাড়াও ক’রো’না’ভা’ই’রাসে আ’ক্রা’ন্ত হওয়া বা মৃ’ত্যুর হার হু হু করে বেড়েছে ইটালিতে। ইতিমধ্যেই আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষের মৃ’ত্যু হয়েছে সে দেশে। আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যা সাড়ে ৩১ হাজারেরও উপরে। সেই ইটালি থেকেই করোনা সং’ক্রা’ন্ত তথ্য সংগ্রহ করে ওই পর্যবেক্ষণ করেছে ইম্পিরিয়াল কলেজের গবেষকরা।
১৯১৮ সালে বিশ্ব জুড়ে ফ্লু-এর কারণে যে অতিমারি হয়েছিল, তার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে ক’রো’নাকে। গোটা বিশ্বে ৫ কোটিরও বেশি মানুষের মৃ’ত্যু হয়েছিল। কেবলমাত্র ব্রিটেনেই তাতে মৃ’ত্যু হয়েছিল ২ লক্ষ ২৮ হাজার মানুষের।
গবেষকদের দাবি, এখনই স’ত’র্ক না হলে মৃ’ত্যু’র হারে সে সংখ্যাকেও ছাপিয়ে যাবে ব্রিটেন। ব্রিটেন ছাড়াও ক’রো’না’ভা’ই’রা’সে’র কোপে কেবলমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ২২ লক্ষ মানুষের মৃ’ত্যু হতে পারে। হোম আইসোলেশনের মতো পদক্ষেপ করলেও এই সংখ্যায় বেশি হেরফের হবে না বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।
তাঁদের মতে, এই ভা’ই’রাসের মোকাবিলায় সমাজের বৃহত্তর অংশকে পাব, থিয়েটার বা ক্লাবে জমায়েত থেকে বিরত থাকার মতো কড়া দাওয়াই দিতে হবে। তবেই ওই মৃ’ত্যুহার কমানো যাবে। এই পর্যবেক্ষণের দাবিকেই কার্যত স্বীকৃতি দিয়ে সে নির্দেশ জা’রি করেছে ব্রিটিশ সরকার।
অধ্যাপক নিল ফার্গুসনের পাশাপাশি ওই পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ছিলেন ইম্পিরিয়াল কলেজের ইনফেকশাস ডিজিজ এপিডেমিয়োলজির অধ্যাপক আজরা ঘনি। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ব্রিটেনের সামাজিক তথা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রবল চাপ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ‘‘সামাজিক ভাবে এবং আমাদের অর্থনীতিতেও এই ব্যবস্থা বেশ চাপ তৈরি করবে।’’ ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গ্লোবাল হেল্থ এপিডেমিয়োলজি-র এক বিশেষজ্ঞ টিম কোলবোর্নের মতে, এই পর্যবেক্ষণ দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ক’রো’না নিয়ে ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ বেশ গুরুতর।
এদিকে ক’রো’না মো’কা’বিলায় দ্রুত পদক্ষেপ না করার অ’ভি’যো’গ উঠেছে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে। জনস্বাস্থ্য বিশষজ্ঞদের তো’পে’র মুখে পড়তে হয়েছে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে। তবে এই পর্যবেক্ষণ প্রকাশিত হওয়ার পর ক’রো’না মোকাবিলায় আরও সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন।




