313557

১১ টাকার তাবিজ নিলেই করোনা থেকে মুক্তি! বেঁচতে গিয়ে গ্রেফতার ‘সিদ্দিকি বাবা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : একটা তাবিজ ধা’রণ করলেই আর করোনা ভাইরাস থেকে ভয় নেই। দামও মাত্র ১১ টাকা। ভাবা যায়! গোটা দুনিয়ে যখন এই ভ’য়া’ল ভাইরাস থেকে মুক্তির উপায় খুঁ’জছে তখন এমনই দাবি করে তাবিজ বেঁচতে বসেছিলেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের এক ভন্ড পিরবাবা।

নিজের দোকানের বাইরে এমন বোর্ড ঝুলিয়ে তাবিজ বিক্রি করছিলেন। অবেশেষে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দোকানে ভিড় বাড়ছে খবর পেয়েই পুলিশ গ্রেফতার করেছে আহমেদ সিদ্দিকি নামের ওই ব্যক্তিকে। উত্তরপ্রদেশের ডালিগঞ্জ এলাকায় ওই ব্যক্তি দোকানের বাইরে বোর্ড ঝুলিয়ে তাবিজ বিক্রি করছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

তার দাবি ছিল, মা’রণ করোনা ভাইরাসের প্রতি’কার তার কাছে আছে। দোকানে ঝোলানো বোর্ডে লেখা ছিল, যারা মাস্ক পরতে পারেনি তারা করোনা ভাইরাসকে দূরে রাখতে তাবিজ ব্যবহার করতে পারে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে প্রথমে এই খবর আসে। এর পরে মেডিক্যাল অফিসাররা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের পরে তাকে স’ত’র্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। উত্তরপ্রদেশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) বিকাশ চন্দ্র ত্রিপাঠী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যে অভি’যুক্ত নিজেকে ‘করোনাওয়ালা বাবা’ বলে ডাকে এবং নি’রীহ লোকদের ঠ’কায়।ই বিশ্ব জগতে কত ধরনের শখ না আছে আমাদের মধ্যে। ছিলেন সাংবাদিক। ৯টা–৫টার চাকরি করে মাস বেতন নিয়েই ভালই চলছিল। কিন্তু এতে তার মানসিকভাবে পোষাচ্ছিল না। একদিন তাই দুম করে ছেড়ে দিলেন।

তার পর পড়লেন তার নেশা নিয়ে। নেশা? রান্না করা। সেই নেশাকেই পেশা করে ফেললেন খাজা মইনউদ্দিন। খুলে ফেললেন নিজের ইউটিউব চ্যানেল। রান্না করে অনাথ, দুস্থ শিশুদের খাওয়ান। সেই ভিডিও পোস্ট করেন চ্যানেলে। এখন মাসে অন্তত ১২০০ দুস্থ, অনাথ শিশুকে খাওয়ান মইন। মইনউদ্দিন একটি তেলুগু চ্যানেলে ১০ বছর সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। চ্যানেলটির প্রোডিউসার ছিলেন তিনি।

তার পর এক দিন ঠিক করেন, আর চাকরি করবেন না। যেই ভাবা, সেই কাজ। ছেড়ে দেন চাকরি। ২০১৭ সালে ইউটিউব চ্যানেলটি চালু করেন অন্যরকম উদ্যম নিয়ে। নাম ‘নবাব’স কিচেন ফুড ফর অল অরফ্যানস’। ভিডিওর শ্যুট করেন তাঁর দুই বন্ধু শ্রীনাথ রেড্ডি, ভগৎ রেড্ডি। রান্নার শখ মইনউদ্দিনের ছোটবেলা থেকে। খুব সাধারণ পরিবারে মানুষ হয়েছেন। ভালমন্দ খাওয়ার ক্ষমতা ছিল না। তাই চেষ্টা করতেন,

সাধারণ সরঞ্জাম দিয়েই অসাধারণ একটা পদ বানিয়ে ফেলা। নিজের রান্নায় কখনওই খুব বেশি দামি মশলা ব্যবহার করেন না মইন। তাঁর বন্ধু এবং আত্মীয়রা জানিয়েছেন, এর পরেই মইনের হাতে রান্নার স্বাদ অসাধারণ।

সেই নিয়ে বারবার বলতেন মইনকে। তা থেকেই রান্নাকে পেশা করার ভাবনা তাঁর। পড়তে শুরু করেন দেশবিদেশের রান্নার বই। রান্নার শোও দেখতে শুরু করেন। তার পরই শুরু করেন চ্যানেল। মনস্থির করেন, নিজের রান্না করা পদ দুস্থ, অনাথদের মুখে তুলে দেবেন। তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত আনারসের কেক তৈরির ভিডিওটি প্রথম ভাইরাল হয়। তার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি মইনকে।

প্রথমদিকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রান্না করে খাবার প্যাক করতেন। তার পর শিশুদের হাতে তুলে দিতেন। এখন সকলকে পাত পেড়ে বসে খাওয়ান। তাতেই আনন্দ পান মইন। একজন মানবতাবাদী হিসাবে স্বপ্ন দেখেন,

একদিন সব অনাথ, দুস্থদের মুখে এভাবেই খাবার জোগাবেন। যাতে কোনও শিশুকে অভুক্ত অবস্থায় ঘুমোতে যেতে না হয়। যাতে কোনও শিশুকে অভুক্ত অবস্থায় ঘুমোতে যেতে না হয়। অবস্থায় ঘুমোতে যেতে না হয়। সেই স্বপ্ন দেখেন মঈন।

ad

পাঠকের মতামত