প্রেমিকার উপবৃত্তির টাকায় কেনা বিষ খেয়ে যুগলের আত্মহত্যা
দীর্ঘদিনের প্রেম। দুজন দুজনকে খুব ভালোও বাসত। প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়ায় উভয়ের পরিবার বিয়েতে রাজি হচ্ছিল না। আর এ কারণেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিলো এই প্রেমিক যুগল।
ঘটনাটি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার। প্রেমিকার উপবৃত্তির টাকায় বিষ খেয়ে ৩৬ ঘণ্টা ব্যবধানে প্রেমিকা ও প্রেমিক দুইজনের মৃত্যু হয়।
আজ শনিবার সকাল ১১টায় বরিশাল নগরীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রেমিক প্রকাশ বিশ্বাস (১৭) মারা যায়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১টায় শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে মারা যায় প্রেমিকা পূজা বৈরাগী (১৪)।
পূজা উপজেলার রত্নাপুর ইউনিয়নের মোহনকাঠী গ্রামের হীরা লাল বৈরাগীর মেয়ে। সে মোহনকাঠী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। আর প্রকাশ একই ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের পরিমল বিশ্বাসের ছেলে।
বিষপানের পর প্রথমে তাদের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শুক্রবার রাতে প্রকাশকে নগরীর বান্দ রোড এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হলে আজ সকালে সে মারা যায়।
মেডিকেলে দায়িত্বে থাকা পুলিশেল উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হুদা দৈনিক আমাদের সয়কে বলেন, ‘প্রকাশকে রাতে মেডিকেল থেকে নগরীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। শনিবার সে মারা যায়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় পূজা। দুইজন একই সাথে বিষপান করেছিল।’
মৃত্যুর আগে শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-৩ এ চিকিৎসাধীন প্রকাশ বিশ্বাস জানায়, পূজার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। পূজা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু পূজা ও তার পরিবার তাদের দুইজনের বয়সের কারণে বিয়েতে সম্মতি দেয়নি।
প্রকাশ বলে, ‘বেশ কিছুদিন থেকে পূজা আমাকে বিয়ের জন্য পীড়াপীড়ি করতে থাকে। সর্বশেষ গত ৯ মার্চ পূজা স্কুল থেকে উপবৃত্তির টাকা তোলে। এরপর আমাকে বিয়ে করতে বলে। কিন্তু পূজার বয়স কম হাওয়ায় আমি রাজি হইনি। এরপর পূজা উপবৃত্তির টাকা দিয়ে বিষ কেনে।’
প্রকাশ আরও বলে, ‘বিষ কিনে আমরা বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ভাউধর গ্রামে আমার মামা নিহার বাড়ৈর বাড়িতে যাই। সেখানে দুপুর দেড়টার দিকে প্রথমে বিষপান করে পূজা। এরপর আমিও বিষপান করি। পরে পরিবারের সদস্যরা আমাদের উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া হাসপাতালে ভর্তি করে।’
আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. বখতিয়ার আল মামুন বলেন, ‘৯ মার্চ বিষপানের পর চারদিন চিকিৎসাধীন থেকে প্রকাশ ও পূজার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার তাদেরকে বরিশাল মেডিকেলে পাঠানো হয়।’




