‘হিন্দুরা শরণার্থী, মুসলিমরা অনুপ্রবেশকারী’: নরেন্দ্র মোদি
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে এবার দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু মন্তব্যকে হাতিয়ার বানালেন নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই বিষয়টি নেহেরুর দূরদৃষ্টিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
মোদি বলেন, ‘দেশভাগের পর পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দুদের শরণার্থী ও মুসলিমদের অনুপ্রবেশকারী বলে উল্লেখ করেছিলেন পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু। এই সম্পর্কে তাঁর মনোভাব খুবই স্পষ্ট ছিল।’
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্য রাখতে গিয়ে আজ লোকসভায় বেশ আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। তিনি যখন বক্তব্য রাখতে উঠছিলেন তখন বিজেপি সাংসদ অনন্তকুমার হেগড়ের গান্ধীজিকে নিয়ে মন্তব্যের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন কংগ্রেস-সহ অন্য বিরোধী সাংসদরা। এই বিষয়টিকে ট্রেলার বলেও উল্লেখ করেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী।
এর জবাবে নরেন্দ্র মোদি বলেন, গান্ধীজি আপনাদের কাছে ট্রেলার হতে পারে। কিন্তু, তিনি আমাদের কাছে জীবন।’
এরপরই নাগরিক আইনের সমর্থনে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর একটি চিঠির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন মোদি। ওই চিঠিটি জওহরলাল নেহেরু লিখেছিলেন আসামের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী গোপীনাথ বরদুলইকে। ওই চিঠিতে লেখা নেহেরুর বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘নেহেরুজি হিন্দু শরণার্থী ও মুসলিম অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে পার্থক্য রাখার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। বলেছিলেন যে হিন্দু শরণার্থীদের দায়িত্ব এই দেশকেই নিতে হবে।
১৯৫০ সালে হওয়া নেহেরু-লিয়াকত চুক্তির সময়ও ধর্মীয়ভাবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সুরক্ষিত করার কথা বলেছিলেন জওহরলাল নেহেরু। আর সেই সময় তিনি শুধু পাকিস্তানে থাকা সংখ্যালঘুদের বিষয়েই মন্তব্য করেছিলেন। তাহলে কি পণ্ডিত নেহেরুকেও সাম্প্রদায়িক বলা হবে? তিনিও কি হিন্দু রাষ্ট্র চেয়েছিলেন?’
এই প্রসঙ্গে প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত ও যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের পাকিস্তান থেকে ভারতে আসার কথাও উল্লেখ করেন নরেন্দ্র মোদি।




