311279

‘হিরো’ বনে গেলেন করোনা নিয়ে সতর্ক করা সেই চিকিৎসক

চীনের করোনাভাইরাস সম্পর্কে প্রথম যে চিকিৎসক সতর্ক করেছিলেন, এবার তিনি নিজেই আক্রান্ত হয়েছেন। লি ওয়েনলিয়াং নামে ওই চিকিৎসকের শরীরে গত শনিবার এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়লে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তিনি ভর্তি হন।

আজ মঙ্গলবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি ও মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, সবার আগে এই প্রাণঘাতি ভাইরাসটির অস্তিত্ব টের পেয়েছিলেন ও ভয়াবহতা বুঝতে পেরেছিলেন চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াং।

চিকিৎসক লি চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েবোতে এক পোস্টের শুরুতে লিখেন, ‘আমি লি ওয়েনলিয়াং। উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালের একজন চক্ষুবিশেষজ্ঞ।’

সেই পোস্টে তিনি জানান, হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় তিনি অন্য চিকিৎসকদের সতর্ক করার চেষ্টা করলে সে সময় পুলিশ তাকে দমিয়ে দেয়। এক মাস পরে সেই তিনিই এখন সবার কাছে হিরো হয়ে উঠেছেন।

মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর তার মেডিকেল স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীদের গ্রুপে ডা. লি জানিয়েছিলেন যে, স্থানীয় একটি সামুদ্রিক খাবার বিক্রির বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতজন একটি বিশেষ ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন।

লি বলেন, ‘এটি অনেকটা সার্সের মতো। আমি একটা টেস্ট দেখে বুঝতে পারি এটি এক ধরনের করোনাভাইরাস। আমার বিশ্বিদ্যালয়ের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক করতে আমি ওই বার্তা লিখেছিলাম।’

তারপর ওই বার্তাটি স্ক্রিনশট আকারে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এতে বিপদে পড়েন ৩৪ বছর বয়সী ওই চিকিৎসক। তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ আনে উহান পুলিশ।

ওইদিনই উহান মিউনিসিপাল হেলথ কমিশন থেকে এক জরুরি বার্তায় জানানো হয়, সি-ফুড মার্কেট থেকে আগত ওই সাত রোগীর ‘অজ্ঞাত নিউমোনিয়া’ ছিল। একইসঙ্গে সতর্ক করে জানানো হয়, কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি চিকিৎসার তথ্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করতে পারবেন না।

পরে ৩১ ডিসেম্বর উহানের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জরুরি সভা হয়। সভার পর নতুন করোনাভাইরাসের ব্যাপারে সবাইকে জানায় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকেও এ ব্যাপারে জানানো হয়। কিন্তু তারপরও লি রেহাই পাননি।

গত ৩ জানুয়ারি ‘অনলাইনে গুজব ছড়ানো ও সামাজিক শৃঙ্খলা ব্যাহত করার’ অভিযোগে স্থানীয় পুলিশ তাকে থানায় তলব করে। ‘বেআইনি’ কাজের কথা স্বীকার করে এবং আর কোনো আইনবিরোধী কাজ না করার অঙ্গীকার করে এক ঘণ্টা পর থানা থেকে বের হন লি।

পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালে কাজে ফেরেন লি। পরে ১০ জানুয়ারি নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীর চিকিৎসা করার সময় তিনি এতে আক্রান্ত হন।

গত বছরের শেষ দিন চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম এ ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি ধরা পড়ে। প্রাণঘাতি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৬ জনে। এ ছাড়া আক্রান্ত হয়েছে ২০ হাজার ৪৩৮ জন। চীনের বাইরে ফিলিপাইন ও হংকংয়ে এই ভাইরাসে একজন করে মারা গেছে।

ad

পাঠকের মতামত