‘কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা না করলে হেফাজত সরকারের পাশে থাকবে না’- আল্লামা শফি
ইসলাম ডেস্কঃ অবিলম্বে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফি। অন্যথায় সরকারের সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম থাকবে না বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন আল্লামা আহমদ শফি।
শনিবার, আহমদীয়া মুসলিম জামাত তথা কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফ্ফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশ এর নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আল্লামা শফি বলেছেন, কাদিয়ানীরা আমাদের নবী মুহাম্মদ (স:) কে শেষ নবী হিসেবে মানে না। তাই তারা কাফের। তাদেরকে মুসলমান বলা যাবে না। মুসলমানদের কবরস্থানেও কাদিয়ানীদের কবর দেয়া যাবে না। বিয়েসহ তাদের সঙ্গে কোন ধরনের আত্মীয়তার সম্পর্কও করা যাবে না। কাদিয়ানীদেরকে যারা কাফের বলে না তারাও কাফের বলে ফতোয়া দেন আল্লামা শফি।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আল্লামা শফি বলেন, ‘আপনি দেশের ষোল কোটি মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখেন এ ব্যাপারে সবাই একমত আছে। অতিসত্বর কাদিয়ানীকে কাফের ঘোষণা করো। যদি তাদের কাফের ঘোষণা করা হয় তাহলে তোমাদের পাশে আমরা থাকবো। আর যদি কাফের ঘোষণা না করো তবে আমরা থাকবো না।
আল্লামা শফি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনার লোকদের মাধ্যমে আমি আগেও বারবার জানিয়েছি যেন কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আপনি এ ব্যাপারে কোনো কর্নপাত করছেন না। যদি কর্নপাত করেন তবে অনতিবিলম্বে অমুসলিম ঘোষণা করেন। ১ কোটি মানুষকে জিজ্ঞাসা করুন, সবাই একমত, কাদিয়ানীদের অমুসলমান ঘোষণা করা হোক। আমরা আপনার সঙ্গে থাকব, না হলে থাকব না।
সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সরকারকে বলতেছি কাদিয়ানীকে কাফের ঘোষণা করো। সত্যিই যদি তুমি মুসলমান হও তবে কাদিয়ানীকে অতি সত্বর অমুসলমান ও কাফের ঘোষণা করো। তা না হলে মুসলমানদের কি অবস্থা হবে জানি না। তোমরা তোমাদের প্রধানমন্ত্রীকে বলো অনতিবিলম্বে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে যেন কাফের ঘোষণা করে।’
খতমে নবুয়্যতের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদিরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক ধর্মমন্ত্রী মুফতি ওয়াক্কাস, ভারতের দেওবন্ধ মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক আল্লামা কমর উদ্দিন, জমিয়তে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব, ঢাকা মহানগর হেফাজতের আমীর নুর হোসাইন কাশেমী, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা অধ্যক্ষ ইসহাক, নারায়ণগঞ্জ হেফাজতের মহানগর আমীর মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান প্রমুখ।
এর আগে সকাল থেকেই সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে। জোহর নামাজের পর থেকে মুসল্লিদের ঢল হাজার পেরিয়ে লাখে গিয়ে দাঁড়ায়, যা একপর্যায়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
বিকাল ৪টায় মঞ্চে উপস্থিত হন আল্লামা শফি। বিকাল সাড়ে ৪টায় ওই ময়দানেই আছরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরুমাত্র মঞ্চের পেছনের অংশ ভেঙ্গে পড়ে। একই সময়ে মঞ্চের নিচের বাঁশ খুলে গেলে মঞ্চ নিচে নেমে যায়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।




