309833

ইরানে এবার খামেনিপন্থীদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউক্রেনের বিমান ভূপাতিত ইস্যুতে তেহরানে এবার পথে নেমেছে খামেনিপন্থীরা। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে বলে তাঁরা দাবি করছেন।

কিন্তু সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত আছে তেহরানে। মার্কিনিদের মতো ইউরোপীয় বাহিনীকেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিতাড়িত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।

দিল্লিতে এক সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছে ইরান ও রাশিয়া। তবে, দুপক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসার আহবান জানিয়েছে ভারত।

ইউক্রেনের বিমান ভূপাতিত ইস্যুতে এবার পশ্চিমা তৎপরতা বিরোধী বিক্ষোভ তেহরানে। টানা ৪ দিন ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর বৃহস্পতিবার মাঠে নামে সরকারপন্থীরা।

রেভ্যুলেশনারী গার্ডের মহাকাশ বিভাগ প্রধান জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহ বলেন, ‘বিমান ভূপাতিতের বিষয়টি শত্রুপক্ষ আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। এটা তাদের ভুল। যখন কেউ যুদ্ধাবস্থায় থাকে, তখন আমরা পাল্টা আক্রমনে প্রস্তুত ছিলাম এবং আঘাতও হেনেছি।’

ইরানি প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, তেহরানে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রবেশে বাধা দিয়ে, লাখো মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র।

প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, ‘আজ মার্কিন সেনারা বিপদের মধ্যে, কাল ইউরোপের সেনাদের জন্যও ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। আমরা চাই, তোমরা যুদ্ধ ছাড়াই স্বেচ্ছায় মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে চলে যাও।’

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নৌঘাটি আছে ফ্রান্সের। আর বাহরাইনে ঘাটি রয়েছে ব্রিটেনের। দিল্লিতে অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সেমিনারে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে, ইরান ও রাশিয়া।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যে মায়াকান্না করেছে, তা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য। যখন সুলাইমানিকে হত্যা করা হলো, তখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টুইট করেন, তেহরান ও বাগদাদের মানুষ উল্লাসে নাচবে।’

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ‘পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ দুপক্ষই মিত্র চায়। যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝতে হবে, অপ্রয়োজনীয় অবরোধ দিয়ে কোনো ধরনের সমঝোতা হবে না।’

সংকট সমাধানে দুপক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসার আহবান জানিয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার ইতিহাস কম। তবে আমার মনে হয়, সংকট সমাধানে দুই দেশকেই এগিয়ে আসতে হবে।’

কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাশেম সুলাইমানির জন্য প্রার্থনা করেন পাকিস্তানের শিয়ারা।

ad

পাঠকের মতামত