প্রেমে বাধা দেয়ায় প্রেমিকার বাবার গলা কাটলো প্রেমিক
সিলেট প্রতিনিধিঃ প্রেমে বাঁধা দেয়ায় কাটা সরাতে প্রেমিকার বাবাকে গলা কেটে হত্যা করেছে প্রেমিক। গত শনিবার সিলেটের বিয়ানীবাজারে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের একদিন পর রোববার রাতে পুলিশ ঘাতক প্রেমিককে আটক করেছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লাঠি ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। সোমবার বিকেলে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঘাতক প্রেমিক আব্দুল মুবিন লিমন উপজেলার লাউতা ইউপির সাবেক সদস্য টিকরপাড়া গ্রামের মুহিব আলীর ছেলে। নিহত নজরুল ইসলাম একই ইউপির নন্দিরফল গ্রামের খলিল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জকিগঞ্জ-বিয়ানীবাজার থানার সার্কেল সুদীপ্ত রায় জানান, মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আসামিকে শনাক্ত করা হয়। পরে রোববার রাতে লাউতা ইউপির টিকরপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আব্দুল মুবিন লিমনকে আটক করা হয়। আটকের পর তার ঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের লাঠি ও ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে লিমন পুলিশকে জানায়, নজরুল ইসলামের বড় মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই মেয়ে ক্লাস নাইনে পড়া অবস্থায় তাদের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ধীরে ধীরে তা গভীর হয়। একপর্যায়ে তারা দুইজনে একসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় গোপনে ঘুরে বেড়ান। প্রতিনিয়ত মোবাইলে যোগাযোগ হত। এমনকি রাতেও দুইজন একান্তে দেখা সাক্ষাৎ করতেন। এ অবস্থায় গত আগস্টে বিষয়টি মেয়ের পরিবারে জানাজানি হয়। এতে মেয়ের পরিবারের নিষেধের কারণে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। মেয়েটির মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বাবা-মার মোবাইলেও কল দিতেন।
এ নিয়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে প্রায় সময় বাকবিতণ্ডা হত লিমনের। এতে করে নজরুল ইসলামের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন তিনি। এর জেরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী শনিবার ঘর থেকে কাঠের লাঠি ও চাকু ঘটনাস্থলের পাশে লুকিয়ে রাখেন।
পরে নজরুল ইসলামকে ঘর নির্মাণের কাজ দেয়ার কথা বলে মোবাইলে বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়। ঘটনাস্থলে আসার পর প্রথমে পিছন থেকে নজরুলের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন লিমন। লাঠির আঘাতে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান নজরুল। এ সময় ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে লিমন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একা জড়িত ছিলেন বলে জানান। তবে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি অবনী শংকর কর জানান, এই হত্যাকাণ্ডে আরো কেউ জড়িত থাকতে পারেন। আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কিনা তা জানার চেষ্টা করা হবে।




