নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ভারতে এক মঞ্চে হিন্দু মুসলিম শিখ খ্রিস্টান নেতারা
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আজও ভারতের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি রাজধানী নয়াদিল্লি বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে। নয়াদিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক জামে মসজিদে শুক্রবার জুমআর নামাজের পর হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় দিল্লির আকাশ-বাতাস ‘মোদি হটাও’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।
ভারতের লুধিয়ানায় হিন্দু মুসলিম খ্রিস্টান ও দলিতদের এক বৈঠক থেকে নাগরিকত্বক বিল প্রত্যাখ্যানের দাবি ওঠেছে। ডেইলি তাসির জানায়, লুধিয়ানার ঐতিহাসিক জামে মসজিদে হিন্দু মুসলিম খ্রিস্টান দলিত নেতাদের এক জরুরি বৈঠক থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার তারা এ দাবি জানান।
সূত্র জানায়, ভারতের মজলিসে আহরারে ইসলামের ডাকা এ জরুরি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় হিন্দু মুসলিম খ্রিস্টান দলিত নেতারা। গুরুদ্বার দুখ নরন, পার্ধান সিংহ, আদি ধর্ম সমাজের সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান লুধিয়ানীসহ আরো বড় বড় নেতারা এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, হিন্দুদের নেতা নীতা শ্রী রাজ কুমার আট্টেক, শ্রী পারমিন্দার কুমার মেহতা, কালভেরী গির্জার যাজক শ্রী রাম লাল মসিহ এবং সন্দেব মসিহ, জেদার কিলপ্রীত সিং।
নেতারা বলেন, আজ আমরা ভারতের সব ধর্মের লোকেরা এখানে একিত্র হয়ে ভারত সরকারকে এ বার্তা দিতে চাচ্ছি, যে আমরা কোনো ধর্মের মুনষই এনআরসি আর সিএএ (নাগরিকত্ব বিল) মানি না। আমরা মানবো না। লুধিয়ানার শাহী মসজিদের ইমাম বলেন, দেশজুড়ে সিএএ এবং এনআরসি বিরুদ্ধে আন্দোলন কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল নীতির বিরুদ্ধে আমাদের এ আন্দোলন। সারা দেশ জুড়ে আজ এ ভুল নীতির বিক্ষোভ চলছে, এতে সকল ধর্মের মানুষ জড়িত রয়েছে।
শিখনেতা সরদার পাটপাল সিং বলেন, যে শিখরা জাতীয় নাগরিকত্ব বিলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তবে আমরা তাতে সন্তুষ্ট নই। কারণ আমাদের গুরুরা বলেছেন, মুসলমানদের এই আইন থেকে বাদ দেওয়া কীভাবে সম্ভব, আমরা এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করি।
হিন্দু সমাজের নেতা সিভি শ্রী হরমান্দার মেহতা বলেন, এ দেশ আমাদের সকলের। যদি তিনটি দেশের হিন্দু শিখ শরণার্থী থাকে তবে অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ থেকে মুসলিম শরণার্থীরা এসেছেন। অন্যদের নাগরিকত্ব দিলে মুসলিমরা কী দোষ করেছে।
সিএনআই ক্যালভারি চার্চের যাজক শ্রী রাম লাল মসিহ বলেন, এ বিলে ঘৃণার গন্ধ পাওয়া যায়। সরকার মুসলমানদেরও অন্যদের মত সমান অধিকার দেয়া উচিত।
যাজক বলেন, ক্ষমতার জোরে এই বিলের আওতায় মুসলমানদের আজ বাদ দেওয়া হচ্ছে এর কোন গ্যারান্টি আছে কি? আগামীকাল অন্য কোনো ধর্মের লোকদের নাগরিকত্ব বাতিল করবে না? তাই সময় থাকতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দরকার।




