304318

মুসলিম কবির কবিতা আবৃত্তি করায় উত্তরপ্রদেশে শিক্ষক বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতীয় মুসলিম কবি আল্লামা ইকবাল। ভারতের জাতীয় সংগীত ‘সারে জাহাঁ সে আচ্ছা’ গানটির রচয়িতাও তিনি। এবার তাঁরই এক কবিতা আবৃত্তি নিয়ে বিতর্কের মূখে পড়েছেন উত্তরপ্রদেশের পিলভিটের শিক্ষক ফুরকান আলি। যদিও সেই কবিতাটি দেশাত্মবোধক এবং স্কুলের সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত। তারপরও বিতর্কের জেরে স্কুলের হেডমাস্টার ফুরকান আলিকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অবশ্য বরখাস্তের বিষয়টি যে ভুল, সেটা স্বীকার করে নিয়ে ভারতের উত্তরপ্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী সতীশচন্দ্র দ্বিবেদি মন্তব্য করেছেন, ভালোভাবে খোঁজ না নিয়ে সাসপেন্ড করা উচিত হয়নি।

তিনি বলেন, আসলে পিলভিটের শিক্ষা কর্মকর্তা ও ডিএম জলদিবাজিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। এই সাসপেনশন শীঘ্রই তুলে নেওয়া হবে। এ দিকে স্কুলের হেড মাস্টারকে এভাবে বরখাস্ত করার জন্য ছাত্ররা শুক্রবার থেকে ক্লাস বয়কট শুরু করেছে। ছাত্রদের দাবি— ইকবালের এই কবিতা আবৃত্তি করায় যদি সাসপেন্ড হতে হয়, তাহলে যারা এই কবিতা সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করেছে– তাদেরও সাসপেন্ড করতে হবে। সাসপেনশন নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকায় শিক্ষামন্ত্রী ডাইরেক্টরটের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্টও চেয়েছেন। সেইসঙ্গে সমস্ত স্কুলকে নির্দেশ পাঠাতে বলেছেন, তারা কেবলমাত্র শিক্ষা বিভাগের মনোনীত কবিতা নিয়েই যেন দৈনিক প্রার্থনা করে।

এক সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, শুক্রবার বিদ‍্যালয়ের প্রার্থনা শুরুর আগে ৩০ জন পড়ুয়া লাইন করে বিদ‍্যালয় চত্বরে প্রবেশ করে। এরপর তারা হিন্দিতে স্লোগান দিতে শুরু করে- “দেশকে রক্ষা কে করবে? আমরা করব।” এবং “কিভাবে করব? শরীর দিয়ে, মন দিয়ে ও ধন দিয়ে করব।”

প্রায় দশ মিনিট ধরে এই স্লোগান দিতে থাকে তারা। এরপর বিদ‍্যালয়ের মধ্যে প্রবেশ না করে বাইরে চলে যায় তারা। বিদ‍্যালয়ে না ঢোকার কারণ জানতে চাইলে পঞ্চম শ্রেণীর এক পড়ুয়া বলে, “আমরা সেই দিন আসব যেদিন আমাদের প্রধান শিক্ষক ফিরে আসবেন এবং আমাদের পড়াবেন। কোনো শিক্ষক ওনার বিকল্প হতে পারেননা। ওনার সাথে যা হয়েছে তা ভুল এবং অন‍্যায়।”

সাসপেন্ড হওয়া এই বিদ‍্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফুরকান আলির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিদ‍্যালয়ে “সারে জাহাঁ সে আচ্ছা”-র রচয়িতা মহম্মদ ইকবালের “লব পে আতি হ‍্যায় দুয়া” গানটি পড়ুয়াদের সকালের প্রার্থনা হিসেবে করাচ্ছিলেন। VHP-র অভিযোগ, এটি একটি ধর্মীয় প্রার্থনা, যা মাদ্রাসাগুলিতে হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৪ই অক্টোবর উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন প্রধান শিক্ষককে সাসপেন্ড করেন।

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে রাজ‍্যের বুনিয়াদি শিক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, “এটি ইকবালের রচিত দেশভক্তির একটি কবিতা। প্রশাসন তথ‍্য যাচাই না করে তড়িঘড়ি ওনাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা উচিত হয়নি। ওনার বরখাস্তের নির্দেশ শীঘ্রই প্রত‍্যাহার করা হবে।”

স্থানীয় শিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিকের বক্তব্য অনুসারে, প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত হবার পর ওই স্কুলে ছাত্রদের উপস্থিতি কমে গেছে। বহু ছাত্র তাঁদের প্রিয় প্রধান শিক্ষকের সাসপেনশনের পর স্কুলে আসতে চাইছে না। আরও জানা গেছে বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক ফুকরান আলি নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে স্কুলের উন্নয়নমূলক কাজ করতেন এবং ছাত্র মহলেও তিনি অসম্ভব জনপ্রিয়।

অতি সম্প্রতি তিনি ৬৫ হাজার টাকা খরচ করে স্কুলে একটি স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি করেছেন। একাধিকবার তিনি নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে স্কুলের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।

ad

পাঠকের মতামত