বিপ্লব চন্দ্রের ‘ইসলাম নিয়ে কটূক্তি’ ও পুলিশের অবস্থান তুলে ধরলেন এডিসি নাজমুল
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ফেসবুকে হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় সন্ধ্যার পর বিপ্লব চন্দ্র বোরহানউদ্দিন থানায় ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে মর্মে জিডি করতে গেলে থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিপ্লব চন্দ্রকে তাদের হেফাজতে রাখে।
শুক্রবার বিকালে Biplob Chandra Shuvo নামের ফেসবুক আইডি থেকে তার ফ্রেন্ডলিস্টের বেশ কয়েকজনের কাছে আল্লাহ এবং রাসুল (সা.) কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগালের ম্যাসেজ যায়। বিষয়টিকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করেই বিপ্লব জিডি করতে যান।
শনিবার রাতে ফেসবুকের কয়েকটি পেজ ও গ্রুপ থেকে বিপ্লব চন্দ্রের অ্যাকাউন্টের ওই মেসেজের স্ক্রিনশটটি শেয়ার দিয়ে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। রবিবার সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আরেকটি স্ক্রিনশট প্রকাশ হয়। যেখানে দেখা যায় বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের আইডি থেকে হ্যাকার শুভর স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করে ৫০০ টাকা দাবি করছে। পরের স্ক্রিনশটটি যদি সত্যি হয় তাহলে বিপ্লবের দাবিই সত্যি হবে। আর যে ফোন নম্বর হ্যাকার দিয়েছিলেন সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
স্ক্রিনশটটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে হ্যাকের কথোপকথনের স্ক্রিনশটটি সত্য না-কি ভুয়া সেটি পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এই ইস্যুতে বিপ্লব চন্দ্রের অপরাধ ও পুলিশের অবস্থান তুলে ধরলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিম কমিশনার মোঃ নাজমুল ইসলাম। এই বিষয়ে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস শেয়ার করেছেন। ‘দি বাংলাদেশ টুডে’র পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো –
ধর্মীয় ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট বা মেসেজ দেয়ার জন্য যাকে নিয়ে অভিযোগ উঠেছে সেই বিপ্লব গতকাল থেকেই পুলিশের কাছে আটক রয়েছে। এ বিষয়ে প্রাযুক্তিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রমানের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রক্রিয়াধীন।
এ নিয়ে একটা শান্তিপূর্ণ সভা দোষের কিছু না, কিন্তু অবশ্যই আমরা বিশ্বাস করি ভিন্নমতাবলম্বীরা এই সুযোগ নিয়ে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব উস্কে দিয়ে ফায়দা নিচ্ছে, সুকৌশলে পুলিশ কে একটা পক্ষ হিসেবে দাড় করবার জন্য পুলিশ কে আক্রমন করা হচ্ছে, পুলিশ কে গুলি করে আহত করে পুলিশ কে রেস্পন্ড করতে বাধ্য করা হচ্ছে, অতঃপর সেই পুরনো ধাচে সহিংসতাকে বেছে নেয়া হচ্ছে। আর এর শিকার হয়েছে নিরীহ কয়েকটা তাজা প্রাণ, যার জন্য শোকে মুহ্যমান আজ সবাই।
কারো ষড়যন্ত্রের ফাদে না পরে সম্মানিত ধর্মপ্রান নাগরিকদেরকে এ বিষয়ে ধৈর্য্য ধারন করে সামগ্রিক পুলিশী তদন্তের ওপর আস্থা রাখতে অনুরোধ করা যাচ্ছে। যারা দোষী তাদের বিচার হবেই!!
আবহমান কাল ধরে আমরা জাতি হিসেবে যে সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছি তা অক্ষুণ্ণ রাখতেই হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
https://www.facebook.com/NajmulSumon/posts/10156441686826566




