301344

খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে দেলজনের, তবুও ভাগ্যে জোটেনি বয়স্কভাতা!

খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে দেলজনের(৮০)! নেই নিজের থাকার ঘর। থাকেন মেয়ের ঘরে। মেয়েও দিন আনেন দিন খায়। একপ্রকার নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। তবুও তার ভাগ্যে জোটেনি সরকারী বয়স্কভাতার কার্ড।কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ভবানীপুর বাজার গ্রামের দেলজন, বয়স ৮০ বছর। স্বামী মারা গেছেন কত বছর হলো সঠিক হিসাব মনে নেই তার। আনুমান করে বলেন, ৩০/৪০ বছর আগে হবে হয়তো।

স্বামী মারা যাওয়ার পর দেলজন বেগম মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু বয়সের ভারে অনেক আগেই কর্মশক্তি হারিয়েছেন তিনি। তাই অনেকটা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটে এই বৃদ্ধার।অথচ এখনও তার কপালে জোটেনি বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড। বেঁচে থাকার জন্য তিনি একটি কার্ড চান। অথবা সমাজের হৃদয়বাদ বৃত্তবানের কাছে জীবনের শেষকটা দিন ভালভাবে বাঁচার জন্য সহযোগিতা চান।

বৃদ্ধা দেলজনের প্রশ্ন ‘আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবো? খেয়ে পরে বেঁচে থাকার জন্য শুধু একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড চাই। অথবা মানুষের সহযোগিতা চাই।স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে অনেকবার ধর্না দিয়েছেন একটি বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য। কিন্তু পাননি তিনি।

আশিঊর্ধ্বো এই বৃদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন, এখন আমি অসুস্থ্, চলতে পারি না। বাঁচার জন্য অন্তত শেষ বয়সে একটি বয়স্কভাতা চাই অথবা কোন মানুষের সহযোগিতা নিয়ে বাঁচতে চাই। আমি খেয়ে না খেয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। আমি জীবনের শেষকটা দিন একটু ভালভাবে বাঁচার জন্য সকলের সহযোগিতা চাই।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, দেলজনের একটাই ছেলে সে আজ ২০ বছর থেকে চট্রগ্রামে অন্যের বাড়িতে কাজ করে। সে ২০ বছর থেকে মায়ের কোন খোঁজ রাখেন না। আর মেয়ে ৩ জন জবেদা,কমিনা,মমিনা। এর মধ্যে জবেদা ও কমিনা দুজনই বিধবা। আর মমিনান নিজেই গুরুত্বর অসুস্থ। মমিনার স্বামী কোন রকমে রিকসা চালিয়ে তার সংসার চালায়।
সূত্রঃ সময়ের কন্ঠস্বর

ad

পাঠকের মতামত