শিক্ষকের শাস্তি সইতে না পেরে ছাত্রী অজ্ঞান
অঙ্ক না পারায় নবম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রীকে ক্লাসের বাইরে সূর্যের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার শাস্তি দেন এক শিক্ষক। প্রচণ্ড রোদের তাপ সহ্য করতে না পেরে এক ছাত্রী একটি গাছের ছায়ায় দাঁড়ায়। কিন্তু সেখান থেকে তাকে আবার রোদে এনে দাঁড় করানো হয়। একপর্যায়ে মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এর পর থেকে সে অস্বাভাবিক আচরণ করছে। বারবার মূর্ছা যাচ্ছে। জ্ঞান ফিরলে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর আবার চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
মেয়েটির নাম হুমাইয়ারা খাতুন। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মেয়েটি মানসিক ‘ভারসাম্যহীন’ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার।সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার রাশিদ আলী মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুলে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার দুপুরে ওই ছাত্রীর বাবা আইয়ুব আলী বিদ্যালয়টির গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক বিমল চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ইউএনও বিষয়টির তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক বিমল চন্দ্র সরকার বলেন, ক্লাসে ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাত্রী ছিল। এর মধ্যে মাত্র পাঁচ থেকে সাতজন অঙ্ক পেরেছে। তাই তিনি অন্যদের ক্লাসের বাইরে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াতে বলেছিলেন। বারান্দা ছোট হওয়ায় হয়তো দু-একজন মাঠে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
প্রধান শিক্ষক কাঞ্চন মিয়া বলেন, আসলে প্রচণ্ড গরমে এমনটা হয়েছে। মেয়েটি অসুস্থ হওয়ার পরই আমরা তার অভিভাবককে খবর দিয়েছি এবং বিষয়টি জানিয়েছি। তারপরও ওই শিক্ষকের কোনো ত্রুটি থাকলে আমরা সেটা দেখব।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেহের উল্লাহ বলেছেন, স্কুলটি বেসরকারি। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে বলেছি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। না হলে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।




